Templates by BIGtheme NET
৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ২৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ৯ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

জাহালমের জেল খাটার পেছনে কারা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

প্রকাশের সময়: এপ্রিল ১৭, ২০১৯, ৩:১৪ অপরাহ্ণ

ভুল আসামি’ হয়ে বিনা দোষে তিনবছর জেল খেটেছেন টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুরের জাহালম। এর পেছনে কারা দায়ী বা কাদের অবহেলা রয়েছে, তা দেখা হবে বলে জানিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে জাহালমের জেল খাটার পেছনে জড়িতদের খুঁজে বের করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের করা তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব মন্তব্য করেন। পাশাপাশি এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২ মে দিন ধার্য করা হয়েছে।

আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। অন্যদিকে জাহালমের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অমিত দাস গুপ্ত। এছাড়া, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুল আলম। এ সময় জাহালমও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বিনা দোষে জেল খাটায় জাহালমকে জামিন দেওয়ার পর তার বর্তমান অবস্থা ও জাহালমের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা সব মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এফআইআর), অভিযোগপত্র (সিএস)সহ যাবতীয় নথির বিষয়ে বুধবার (১৭ এপ্রিল) শুনানির দিন নির্ধারণ রেখেছিলেন হাইকোর্ট। এদিন সকালে আদালতে হাজির হন জাহালম। এরপর এ মামলায় দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান শুনানিতে সময় চেয়ে আবেদন করেন। এ সময় আদালত দেখতে পান যে,মামলার নথি হাইকোর্টে আসেনি। তখন আদালত বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা ছিল— আজকে নথি আসবে এবং আমরা শুনানি করতে পারবো। কিন্তু ফাইলতো আসেনি।’

এরপর আদালত দুদকের আইনজীবীকে জাহালমের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার সব নথি দাখিল করতে এবং জাহালমের জেল খাটার পেছনে কারা জড়িত সে বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি জানাতে নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত, ২৬ মামলায় ‘ভুল’ আসামি হয়ে জেল খাটার অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি ও মামলার বাদীসহ চারজনকে গত ২৮ জানুয়ারি তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। দুদক চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি, মামলার বাদী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবের একজন প্রতিনিধি ও আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবের একজন প্রতিনিধিকে উপস্থিত থেকে এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।

একটি জাতীয় দৈনিকে ‘৩৩ মামলায় ভুল আসামি জেলে’ ও ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না…’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত।

ওই প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপনের পর স্বপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ আদেশে দেন হাইকোর্ট।

দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আবু সালেক নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির দায়ে ৩৩টি মামলা হয়েছে। কিন্তু আবু সালেকের বদলে জেল খাটছেন ও আদালতে হাজিরা দিয়ে চলেছেন জাহালম। তিনি পেশায় একজন পাটকল শ্রমিক।

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের আরও বলা হয়— ‘জাহালমের কারাবাসের তিন বছর পূর্ণ হবে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি। দুদক বলছে, জাহালম নিরপরাধ প্রমাণিত হয়েছেন। তদন্ত করে একই মত দিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও। ফলে একটি মামলায় তার জামিন হয়েছে। আরও ৩২টি মামলায় জামিন পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন তিনি।’

তবে এরই মধ্যে জাহালমকে ২৬ মামলায় জামিন দেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি গত ৬ মার্চ জাহালমের বিরুদ্ধে দুদকের হওয়া সব মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এফআইআর), অভিযোগপত্র (সিএস)সহ যাবতীয় নথি দাখিল করতে আদেশ দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (১৭ এপ্রিল) মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

20 − 14 =