Templates by BIGtheme NET
২৪ আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৯ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২২ জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

শিশুদের মসজিদে নেয়া প্রসঙ্গে আলেমদের মতবিরোধ

প্রকাশের সময়: মে ৯, ২০১৯, ৬:১৬ অপরাহ্ণ

আমরা অনেকেই শিশুদের মসজিদে নিয়ে যাই। বিশেষ করে জুমার দিনে বাবা, দাদা-নানা ও ভাইয়ের সঙ্গে মসজিদে যেতে শিশুরাও আনন্দ ও আগ্রহ বোধ করে। তাই পাঞ্জাবি-টুপি পরে তারাও বড়দের হাত ধরে নামাজের জন্য মসজিদে চলে আসে।

কিন্তু সমাজের অধিকাংশ বয়োবৃদ্ধ মুসল্লিদের মাঝে প্রচলিত একটি ভুল ধারণা হলো, ছোট ছোট শিশুকে মসজিদে নেয়া যাবে না। তার একটি উদাহরণ হচ্ছে উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টর জামে মসজিদ। শিশু বা বাচ্চাদের নিয়ে মসজিদে প্রবেশ নিষেধ এমন একটি ব্যানার মসজিদের প্রবেশ মুখে টানিয়েছে। কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে।

এদিকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে মসজিদে শিশুদের প্রবেশ নিয়ে আমাদের দেশের আলেমদের মধ্যে নানা মতবিরোধ লক্ষ্য করা যায়। এ ব্যাপারে কথা হয় মোহাম্মদপুর জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার মুফতি আমিন ইকবালের সাথে। তিনি বলেন, মসজিদে শিশুরা যেতে পারবে না এরকম কোনো নিষেধাজ্ঞা কোরআন ও হাসিসে উল্লেখ নেই। তবে শিশু একেবারে অবুঝ হলে মসজিদে আনা নিষেধ।

তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিশুরা না বুঝে মসজিদের আদববহির্ভূত কিছু কাজ করে ফেলে। উচ্চৈঃস্বরে কথাবার্তা ও হৈ-হুল্লোড় করে থাকে, যা মসজিদের আদবপরিপন্থী কাজ। একটি হাদিসে মসজিদে উচ্চ আওয়াজ ও চেঁচামেচিকে কিয়ামতের নিদর্শন হিসেবে উল্লিখিত হয়েছে। এমনকি কিছু বাচ্চা মসজিদে এসে প্রস্রাব-পায়খানাও করে দিতে দেখা যায়। এতে শিশুদের গুনাহ না হলেও বড়রা শিশুদের এ সুযোগ করে দেওয়ায় তাদের গুনাহ হবে।

জানতে চাইলে কুমিল্লার লাকসাম থেকে মুহাদ্দিস রফিকউল্লাহ আফসারী বলেন, হাদিসে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন মসজিদে নববিতে সালাত আদায় করতেন, তখন তার নাতিদ্বয় হাসান ও হুসাইন (রা.) তার ঘাড়ে চড়ে বসতেন। এমনকি তাদের এ খেলায় যেন ব্যাঘাত না ঘটে, সে কারণে রাসুলুল্লাহ (সা.) সিজদায় বিশেষ সময় ক্ষেপণ করতেন।

তিনি বলেন, ছোট বেলা থেকেই শিশুদের মসজিদে নেয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। যদি সে অবুঝ হয় তাহলে তার পিতা কিংবা দাদাকে সতর্ক থাকতে হবে। যাতে ঐ শিশু মসজিদের ভিতর প্রস্রাব-পায়খানা ও হৈ-হুল্লোড় করা থেকে বিরত থাকে। কারণ এই সামান্য কারণে যদি শিশুদের মনোবল ভেঙে যায় তাহলে আস্তে আস্তে তারা মসজিদ বিমুখ হয়ে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, আমরা জানি রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদে নামাজ পড়ার সময় এক ইহুদি এসে মসজিদে প্রস্রাব করে দেয়। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.) ঐ ইহুদিকে কিছু না বলার জন্য সবাইকে নির্দেশ দেয়। আর এর থেকে বোঝা যায় শিশুদের ছোটবেলা থেকে মসজিদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করাতে হবে। কারণ আমরা সবাই নবীজির উম্মত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

9 + four =