Templates by BIGtheme NET
১২ জুন, ২০১৯ ইং, ২৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ৮ শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

জোট ভাঙনের নাটের গুরু কর্ণেল অলি!

প্রকাশের সময়: মে ১০, ২০১৯, ৪:৩০ অপরাহ্ণ

জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি এই মূহুর্তে দুইটি রাজনৈতিক জোটের প্রধান শরিক। সম্প্রতি দুই জোটেই ভাঙন ধরেছে। যা নিয়ে বিপদে রয়েছে দলটি। তবে জোট ভাঙনের পিছনে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক এলডিপির চেয়ারম্যান কর্ণেল অলি আহমেদ জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র বলছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি ২০ দলীয় জোটকে পাশ কাটিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যুক্ত হয়। এতে ক্ষুব্ধ হন জোটের শরিক দলগুলো। এ কারণে নির্বাচনের আগেই নতুন জোট গঠন করে বিএনপি ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন কর্ণেল অলি আহমেদ। এরই ধারবাহিকতায় ন্যাপ ও এনডিপিকে জোট ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। যদিও বিএনপির সাথে থাকা অন্যদলগুলোর সাথে সমন্বয় করতে না পারায় নতুন জোট ঘটন করা সম্ভব হয়নি।

জানা যায়, নির্বাচনের পর বিএনপিকে ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার জন্য প্রথমেই চাপ প্রয়োগ করেন কর্ণেল অলি আহমেদ। কিন্তু এতে দলটি কর্ণপাত করেননি। যার কারণে নতুন জোট গঠন করার প্রক্রিয়ায় আবারও নতুন করে শুরু করেন কর্ণেল অলি আহমেদ। যারই ধারবাহিকতায় নতুন করে বিশ দলীয় জোটে ভাঙন শুরু হলো।

সূত্র জানায়, কর্ণেল অলি আহমেদ নতুন জোট গঠন করার বিষয়ে ২০ দলীয় জোটে থাকা কয়েকটি দলের সাথে আলোচনা করেছেন। এ নিয়ে নির্বাচনের পর বিভিন্ন সময় ৭ টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে বিএনপির সাথে থাকা কয়েকটি দল জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেন।

সূত্র বলছে, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে দলগুলো বিএনপির জোট থেকে বেরিয়ে আসবে। এরপর নিজেদের দল ঘুচিয়ে ২০১৯ সালের শেষ দিকে নতুন জোটের গঠনের মাধ্যমে নতুন শক্তি হিসেবে নিজেরা আত্মপ্রকাশ করবে।

বৈঠকে উপস্থিত থাকা একজন সমন্বয়ক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজপথে বিএনপির কোন আন্দোলন গড়ে তুলতে পারবে না। আর বিএনপির সাথে এমন অবস্থায় জোটে থেকে নিজেদের ক্ষতি করার কোন কারণ নেই। আর দেশের তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার এই সুযোগ কোন দল ছাড়তে চাইছে না বলেও মন্তব্য করেন এই নেতা।

জানা যায়, কর্ণেল অলির নেতৃত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দলিব রহমান পার্থ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনডিপি চেয়ারম্যান গোলাম মোর্ত্তজা, ন্যাপ মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল ইবরাহিম ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী। এছাড়া জামায়াতের একজন প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলো বলে জানা গেছে।

জানা যায়, বৈঠকে উপস্থিত নেতারা জামায়াত ইসলামীকে নতুন নাম দিয়ে নতুন জোটের সাথে যুক্ত হওয়ার আহবান জানান। তবে জামায়াতের প্রতিনিধি এবিষয়ে দলের নীতিনির্ধারনী ফোরামে আলোচনা করে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন। সূত্র বলছে, জামায়াত এই বিষয়ে কর্ণেল অলির সাথে একমত হলেই নতুন জোটের প্রক্রিয়াটি গণমাধ্যমে ঘোষণার মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

3 × four =