Templates by BIGtheme NET
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ৩১ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৫ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী

আদালতে কারাগার স্থাপন সাংবিধানিক নয় প্রশাসনিক বিষয়!

প্রকাশের সময়: মে ২৩, ২০১৯, ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ

গত ১৩ মে আইন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয় কারাবান্দি বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির সব মামলার বিচার কাজ কেরাণীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে চলবে। কেরানীগঞ্জের কারাগারে আদালত স্থাপন বেগম জিয়ার কষ্ট লাঘব ও তার জন্য সুবিধা হবে বলে মনে করেন দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এ সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক কুদরত মালিথা বলেন, কেরানীগঞ্জে আদালত স্থাপনের সিদ্ধান্ত খালেদা জিয়ার জন্য মঙ্গলজনক হবে। কেন না বেগম জিয়াকে বারবার কারাগার থেকে আদালতে আসতে হবে না। তাঁর শারীরিক কষ্ট হবে না। যা বিএপি নেতাদের দীর্ঘদিনের দাবি। এ ছাড়া নিরাপত্তারও কোনো ঘাটতি থাকবে না।

২১ মে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, কেরানীগঞ্জে আদালত স্থাপন সম্পূর্ণ সংবিধানপরিপন্থী। একজন নাগরিককে সংবিধানে যে মৌলিক অধিকার দেয়া হয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে সেই অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। এজন্য খুব শিগগিরই উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হবে। কারণ অন্য কোনো উপায় নেই বলে জানান তিনি।

বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদের বক্তব্যের সমালোচনা করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অধ্যাপক সাবেদীন ফারহান বলেন, কেরাণীগঞ্জে আদালত স্থাপনের সঙ্গে সাংবিধানিক কোনো প্রসঙ্গ নেই। এটা সাংবিধানিক কোনো বিষয়ও নয়। এটি প্রশাসনিক বিষয়। সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে আইন-আদালতকে সহযোগিতা করা। আইন ও বিধান অনুযায়ী কেরাণীগঞ্জে আদালত স্থাপন করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আদালত স্থাপন করা এক কথা, আরেকটি হচ্ছে বিচার কার্যক্রম। বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারান্তে কি করবেন, সেটি বিচারকের বিষয়। তবে সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে বিচার কার্যক্রমকে সহায়তা করা। সেখানে আসামিদের সুবিধার্থে, বেগম জিয়ার সুবিধার্থে ও নিরাপত্তা বিবেচনায় কেরানীগঞ্জে আলাদত স্থাপন করা হয়েছে। এটা নিয়ে রাজনীতি করার কিছু নেই। এতে খালেদা জিয়ার ভালো হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

12 − 2 =