Templates by BIGtheme NET
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ৩১ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৫ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী

সুপ্রিমকোর্টে নজির স্থাপন; সাড়ে ৪ মাসে ৪৩ হাজার মামলা নিষ্পত্তি

প্রকাশের সময়: মে ২৮, ২০১৯, ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ

সুপ্রিমকোর্টের মামলার জট খুলতে কার্যকরী উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। বছরের পর বছর ধরে চলা মামলার নিষ্পত্তি করতে তিনি এ উদ্যোগ নেন। ‘ফৌজদারি বিবিধ বা ক্রিমিনাল মিস কেস মামলা’ নিষ্পত্তিতে হাইকোর্টের ১৬টি বেঞ্চকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর ১৬ মে পর্যন্ত সাড়ে চার মাসে হাইকোর্টের এসব বেঞ্চ ৯০ হাজার ৩৮৯টি মামলার মধ্যে ৪৩ হাজার ৯৩টি মামলা নিষ্পত্তি করেন।

আদালতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেখানে দিনে দিনে উচ্চ আদালতে মামলার জট বাড়ছে, সেখানে সাড়ে চার মাসে এত বিপুলসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে উচ্চ আদালত অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।  সুপ্রিমকোর্টের মামলা জট নিরসনের জন্য প্রধান বিচারপতির গতিশীল সিদ্ধান্ত কাযকরি ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রায় ৯০ হাজার পুরনো মামলা নিষ্পত্তির কাজ চলছে। খুব পুরনো ফৌজদারি মামলাগুলোর শুনানির জন্য হাইকোর্টের বেঞ্চগুলো নির্ধারণ করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। তার সিদ্ধান্ত অনুসারে সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার পুরনো মামলাগুলো বেঞ্চগুলোর কার্যতালিকা বা কজলিস্টে শুনানির জন্য রাখা হয়। এ উদ্যোগে সফলতা পাওয়া যাচ্ছে। ১৬ মে পর্যন্ত ৪৩ হাজার ৯৩টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।

জানা যায়, চলতি বছরের শুরুতে বিচারাধীন মামলার নিষ্পত্তির ওপর জোর দেন প্রধান বিচারপতি। তথ্য অনুযায়ী ২০১৮ সালের ৫ ডিসেম্বর ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ৪৯৮ ধারার অধীনে থাকা ৯০ হাজার ৩৮৯টি পুরনো ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হয়। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ওইসব মামলার নিষ্পত্তি শুরু হয়।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৩৫ লাখ সাত হাজার ৮৯৮টি। ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৫ লাখ ৬৯ হাজার ৭৫০টি। এর মধ্যে নিু আদালতে ৩০ লাখ ৩২ হাজার ৬৫৬টি, সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে পাঁচ লাখ ১৬ হাজার ৬৫২টি এবং আপিল বিভাগে ২০ হাজার ৪৪২টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই তিন মাসে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) সব আদালতে বিচারাধীন মামলা বেড়েছে ৬১ হাজার ৮৫২টি। আর দায়ের হয়েছে চার লাখ ৪৭ হাজার ৮৫৪টি এবং নিষ্পত্তি হয়েছে দুই লাখ ৮৭ হাজার ১৩১টি মামলা।

মামলা জট নিষ্পত্তিতে সুপ্রিমকোর্টের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সিনিয়র আইনমন্ত্রীরা বলছেন, নিঃসন্দেহে এটি একটি ভালো উদ্যোগ। জট কমাতে হলে মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে মহাপরিকল্পনা। বিচারক ও তাদের সহায়ক লোকবল বাড়ানোর আগে ব্যবস্থাপনায় একটা বড় ধরনের পরিবর্তন আনা দরকার। সাড়ে চার মাসে ৪৩ হাজার ৯৩টি মামলা নিষ্পত্তি করা একটা বিরাট সাফল্য। এ সাফল্য উচ্চ আদালতে বিরাজমান মামলার জট নিরসনে বিরাট ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

18 + 16 =