Templates by BIGtheme NET
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ৩১ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৫ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী

যে স্কুলের শিক্ষার্থীরা বেতন দেয় প্লাস্টিকের বর্জ্য দিয়ে !

প্রকাশের সময়: জুন ১, ২০১৯, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ

দূষণ আর বর্জ্য দূর করতে আমরা কত কিছুই না করে যাচ্ছি। গবেষণায় উঠে এসেছে, পরিবেশ দূষণের পেছনে যে বর্জ্যটি সবচেয়ে বেশি অন্তরায় তা হচ্ছে প্লাস্টিক পণ্য। আর এই প্লাস্টিক বস্তুর ক্ষতিকর দিক নিয়ে পত্রপত্রিকায়ও অনেক লেখালেখি হয়েছে। বিভিন্ন ভাবে সচেতনতার পাশাপাশি অনেক সতর্কও করা হচ্ছে। কিন্তু তারপরেও আমরা রেহাই পাচ্ছি না এসব দূষণের হাত থেকে।

তবে ভারতের আসামের প্রত্যন্ত এলাকার একটি স্কুল দূষণ আর বর্জ্য দূর করতে নিয়েছে এক অভূতপূর্ব পদ্ধতি। এ স্কুলটির সব কিছুই অন্যরকম। ব্যাগের বোঝা নেই, সিলেবাস শেষ করার তাড়া নেই, শিক্ষক-শিক্ষিকার চোখ রাঙানি নেই। পড়াশোনার ধরন একেবারেই আধুনিক।

সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে চালু হয়েছে এই স্কুলটি। সেখানে বেতন হিসেবে টাকার বদলে দিতে হয় প্লাস্টিক বর্জ্য। পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা থেকে এই কর্মসূচী চালু করেছে স্কুলটি। প্রচলিত শিক্ষা আর কারিগরি প্রশিক্ষণকে একসঙ্গে মিলিয়ে তৈরি হয়েছে পাঠ্যক্রম। ব্যতিক্রমী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি চালু করেছে এক তরূণ দম্পতি।

২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে আকশার ফোরাম স্কুলের কার্যক্রম শুরু হয়। স্কুলে প্রতি সপ্তাহে শিক্ষার্থীকে ২৫ টুকরো প্লাস্টিক জমা দিতে হয়।

ফোরামের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জানান, আমরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্লাস্টিক সংগ্রহ করা শুরু করি। কারণ, এটা একটা সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছিল। আমরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানতে পারি যে, শীতের মাসগুলোতে প্রায় প্রতিদিনই তারা প্লাস্টিক পোড়ায়। এটা পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তাই এটি বন্ধ করতে আমরা প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করি।

তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীরা এখন জানে যে প্লাস্টিক পোড়ানো ক্ষতিকর। তারা বাড়িতে বাবা-মায়েদেরও এ বিষয়ে সচেতন করে। এখন শিক্ষার্থীরা প্লাস্টিকের বোতলে প্যাকেটগুলো ঠেসে ভরে ‘ইকো-ব্রিকস’ তৈরি করে। সেই ইকো-ব্রিকস দিয়ে গাছের বেড়াসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে শিক্ষার্থীরা। এটি দিয়ে পায়ে হাঁটা পথ তৈরি করেছে শিক্ষার্থীরা।

মাত্র ২০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে এই স্কুল শুরু হয়েছিল। বর্তমানে বাঁশের ঘরের স্কুলটিতে শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছে। এই মডেলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভারতজুড়ে ছড়িয়ে দিতে চান এই দম্পতি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

2 × five =