Templates by BIGtheme NET
১২ জুন, ২০১৯ ইং, ২৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ৮ শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

সংসদ অবৈধ কিন্তু তাদের সদস্যরা বৈধ!

প্রকাশের সময়: জুন ১২, ২০১৯, ২:১৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদ:  ৯ জুন (রবিবার) শপথ গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ‘এই সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। গঠিত হওয়ার পর আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এই সংসদকে অবৈধ বলেছি। আমি এখনও তা বলছি’।

‘অবৈধ’ সংসদে তিনি কেন সদস্য হলেন বা শপথ নিলেন – এই প্রশ্নের জবাবে রুমিন বলেছেন, ‘বিষয়টি খুব পরিষ্কার। এটা হচ্ছে আমাদের গণতান্ত্রিক স্পেস। আমাদের কথা বলার জায়গাগুলো ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। সেই অর্থে দেখতে পাচ্ছি সংসদ একটি ভালো অ্যাভিনিউ, যেটা আমরা ব্যবহার করতে পারি – আমাদের দলের কথা, দেশের কথা ও মানুষের কথা বলার জন্য। আর সেই স্পেসটা ব্যবহার করার জন্য আমাদের এই সংসদে আসা’।

বিএনপির এই নতুন আইনপ্রণেতা আরো বলেছেন, ‘খুব খুশি হবো আমার সংসদ সদস্য হওয়ার মেয়াদ যদি একদিনের বেশি না হয়। আমি চাই যেন অতি দ্রুত একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠিত হোক’।

রুমিনের বক্তব্য সম্পর্কে দশম জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বর্তমান সাংসদ আ স ম ফিরোজ বলেন, ব্যারিস্টার রুমিনের বক্তব্যে অনেক স্ববিরোধিতা আছে। সংসদ যদি সত্যি অবৈধ হয়ে থাকে, এই সংসদ যদি জনগণের ভোটে গঠিত না হয়ে থাকে তাহলে বিএনপির উচিত হয়নি এই সংসদে যোগ দেয়া। একদিকে সংসদকে অবৈধ বলবেন, অন্যদিকে এই সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন – এই দ্বিমুখী নীতি কোনো যুক্তিতেই সমর্থন করা যায় না। ‘অবৈধ’ সংসদ কীভাবে গণতান্ত্রিক স্পেস হতে পারে? ‘অবৈধ’ সংসদ কীভাবে দলের কথা, দেশের কথা ও মানুষের কথা বলার উপযুক্ত স্থান হতে পারে? কথা বলার জায়গা যদি সংকুচিত হয়ে থাকে তাহলে ব্যারিস্টার রুমিনের বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার হলো কীভাবে? আসলে এখন বিএনপি এক কঠিন বাস্তবতার মধ্যে আছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি নদীতে বা পুকুরে নেমে গোসল করবে কিন্তু চুল ভেজাবে না। সংসদ অবৈধ কিন্তু তাদের সদস্যরা বৈধ! এটা হয় কখনো? তারা একদিকে দ্রুত অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দাবি করছে, আবার অন্যদিকে সংসদে যোগ দিয়ে ন্যায্য কথা বলার জন্য যথেষ্ট সময় ও সুযোগ দাবি করছে। বিএনপি এখন তাদের অবস্থানকে যথার্থ প্রমাণ করার জন্য হরেক রকম কথা বলবে। কিন্তু তাতে মানুষের কাছে বিএনপির অসঙ্গতিগুলো দূর হবে না। মানুষ ঠিকই বুঝতে পারছে যে, সংসদে যোগ দেয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপি কার্যত সংসদকে বৈধতা দান করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এখন বিএনপি সংসদকে যতো অবৈধ বলবে ততোই তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা কমবে। সরকার তাদের সংসদে নিতে চেয়েছে, তারা কিছু গাইগুঁই করে শেষ পর্যন্ত সংসদে গিয়েছে। সরকারের সঙ্গে বুদ্ধির খেলায় পরাজিত বিএনপি এখন নানা রকম কথা বলে জিততে চাইছে। কিন্তু কথায় কি আর চিড়া ভেজে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

sixteen + one =