Templates by BIGtheme NET
৩ জুলাই, ২০১৯ ইং, ১৯ আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২৯ শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

যে কবরস্থানে দাফন হয় সব ধর্মের মানুষের !

প্রকাশের সময়: জুলাই ৩, ২০১৯, ৪:২৬ অপরাহ্ণ

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে একই সমাজে নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষ বসবাস করে। তবে সাধারণত মৃত্যুর পর তাদের জন্য থাকে আলাদা আলাদা সমাধির ব্যবস্থা। কিন্তু যদি শোনেন মৃত্যু পর সব ধর্মের মানুষকে একই স্থানে কবর দেয়া হয় তাহলে নিশ্চই অবাক হবেন। শুধু অবাক নয় এটি নিয়ে রীতিমতো যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে।

অবাক হলেও সত্যি, বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের মৌলভীবাজারে রয়েছে এমনই একটি কবরস্থান যেখানে ধর্ম-নির্বিশেষে মুসলমান, হিন্দু এবং খ্র্রিষ্টানদের মরদেহ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ীই দাফন কিংবা সৎকার করা হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, সব ধর্মের মানুষের মাঝে সৌহার্দের দৃষ্টান্ত হিসেবেই এই সমাধিস্থলটি গড়ে উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মৌলভীবাজারের সেই স্থানটি ‘পাত্রখোলা চা বাগান’ নামে পরিচিত। প্রায় ৮.৯৪ একর জমির উপর এই কার্যক্রমটি চলছে। যা শুরু হয়েছে ১৯৭৫ সাল থেকে। তৎকালীন সময়ে যখন প্রথম চা বাগান প্রতিষ্ঠা করা হয় তখন সেখানকার বয়োজেষ্ঠ্য বৃদ্ধরা ভেবেছিলেন তারা এমন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে যা পরবর্তী প্রজন্মের অগ্রযাত্রায় সুফল বয়ে আনবে। আর তখন থেকেই সবাই এক হয়ে এই মহান কাজের উদ্যোগ নেয়।

পাত্রখোলা চা বাগান মসজিদের ইমাম আব্দুল আজিজ বলেন, মৌলভীবাজারের এই অঞ্চলটিতে মুসলমানদের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার হাজার। হিন্দুদের সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার। এবং খ্রিষ্টানদের সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। আমাদের মধ্যে কোনো ঝগড়া-বিবাদ, হিংসা-বিদ্বেষ নেই। আমরা খুব সুন্দর ভাবেই এখানে বসবাস করে আসছি।

পাত্রখোলা চা বাগান সার্বজনীন মন্দিরের প্ররোহিত রাজেশ প্রসাদ শর্মা বলেন, শাস্ত্রসম্মত বিধান মতে যখন কোনো হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ মারা যায় তখন অনেককে মাটি দেয়া হয় আবার অনেককে পুড়িয়েও দেয়া হয়। তবে পোড়ানোর প্রচলনটাই বেশি হচ্ছে আমাদের সমাজে।

পাত্রখোলা চা বাগান গির্জার পরিচালক যোসেফ বিশ্বাস বলেন, এখানে পাশাপাশি একসাথে তিন ধর্মের কবর আছে। আমরা একসাথে যাতে সবকিছু করতে পারি বা একসাথে আমাদের বাকি জীবনটা কাটাতে পারি সেটিই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য। আমরা বিশ্বাস করি মরার পরে আমরা সবাই এক সাথেই থাকবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

11 + seventeen =