Templates by BIGtheme NET
১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ২৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১২ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

ধর্ষক হুজুরদের নিয়ে কি বলছেন আলেম ওলামারা?

প্রকাশের সময়: জুলাই ৭, ২০১৯, ১:০৬ অপরাহ্ণ

সম্প্রতি নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় ছাত্রীকে ধর্ষণ করায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে গণপিটুনি দিয়েছে এলাকাবাসী। জানা গেছে এ পর্যন্ত ছয়জন কিশোরী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন যাদের সবার বয়স ৬ থেকে ১২ এর মধ্যে। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর কথা হলো এই ধর্ষক, প্রতিবার ধর্ষনের পর ভিকটিমের মুখ বন্ধ রাখাতে কোরআন শরীফ ছুঁইয়ে প্রতিজ্ঞা করাতেন।

এর আগে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতকে গায়ে আগুন দিয়ে হত্যায় জড়িত ছিলেন মাদ্রাসা শিক্ষক। যেটি দেশব্যাপি আলোচিত হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি বেশ কয়েকজন আলেম নামধারী হুজুর ধর্ষনের মতো জঘন্য কাণ্ডটি করেছেন।

এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের খ্যাতনামা আলেম ওলামারা। ঢাকার ফোরকানিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মুফতি বেলাল উদ্দিন বলেন, আমাদের সমাজে আলেম ওলামাদের বাড়তি শ্রদ্ধার চোখে দেখা হয়। বিপদে আপদে অথবা বিভিন্ন ধর্মীয় পরামর্শ নিতে মানুষ তাদের কাছে যায়। তারা সমাজে ভরসার একটি জায়গা। কিন্তু ধর্ষনের মতো ঘটনায় তাদের ইমেজ ভয়ঙ্কর সংকটে পড়েছে।

মাওলানা আজিজুল ইসলাম বলেন, ধর্মীয় লেবাসধারী কেউ যখন ধর্ষনের মতো অপরাধ করে তখন তাদের ধর্মীয় শিক্ষাটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এ ঘটনার পর মানুষে মনে মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তিনি আরো বলেন, মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেও মানুষ কেন ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে না সেটা নিয়েও নতুন করে ভাবতে হবে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্ষণের জন্য অনেকেই নারীর পোষাককে দায়ী করেছেন। এছাড়া পর্ণগ্রাফ, ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ধর্ষক হয়ে ওঠার বিভিন্ন উপকরণ আছে বলে মত দিয়েছেন । তবে পাল্টা প্রশ্ন উঠেছে, ধর্ষণের জন্য একটি শিশু কতটা দায়ী।

ইসলামের তাত্বিক নেতারা বলছেন, ইসলামের বিধান অনুযায়ী একজন মানুষ যদি তার যৌন জীবন অতিবাহিত করেন তাহলে কখনোই ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটবে না। একজন মানুষের ধর্ষক হয়ে ওঠার প্রথম শর্ত হলো ইসলামী অনুশাসন পরিত্যাগ। যদি কেউ পর্নগ্রাফীকে দায়ী করেন তাহলে তিনি দায়মুক্ত হতে পারেন না। কারণ, ইসলামে পর্ণ বা অশ্লিলতার ধারে কাছে যাওয়াও নিষেধ। অথবা কেউ যদি নারীর পোষাককে দায়ী করেন তাহলেও তিনি দায়মুক্ত হন না। কারণ নিজের দৃষ্টি ও নফসকে সংযত রাখাও ইসলামের শিক্ষা।
অতএব ধর্ষণের জন্য বিভিন্ন কারণকে দায়ী করা হলেও শরীয়া মোতাবেক একজন ধর্ষক কিছুতেই নিজেকে দায়মুক্ত করতে পারেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

twelve + sixteen =