Templates by BIGtheme NET
১০ জুলাই, ২০১৯ ইং, ২৬ আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ৬ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

পশ্চিমবঙ্গে কি শুরু হচ্ছে আরেকটি ভাষা আন্দোলন?

প্রকাশের সময়: জুলাই ১০, ২০১৯, ১২:১৪ অপরাহ্ণ

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে ‘বাংলাপক্ষ’ নামের একটি আন্দোলন শুরু হয়েছে। এর সংগঠকরা ইতিমধ্যে ফেসবুকে ‘বাংলাপক্ষ’ নামের একটি পেজ খুলেছেন, যার ফলোয়ারের সংখ্যা বাড়ছে হুহু করে।

বাংলাপক্ষের সংগঠকরা এই আন্দোলনের মুখবন্ধে বলছেন, তাতের আন্দোলনটি অরাজনৈতিক, কারন ভাষার সঙ্গে, কাজের সঙ্গে নিত্যদিনের ভাত-রুটির সম্পর্ক। আর পাশ্চিমবঙ্গে বাংলা ভাষাটির পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। তারা দাবী করছেন পশ্চিমবঙ্গে সব পরিসেবা এখন বাংলায় করতে হবে।

এদিকে ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে শুরু হয়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে শেষ হওয়া বাংলাদেশের অভিজ্ঞ রাজনীতিকরা বলছেন, এটি মূলত হিন্দি আধিপত্য ঠেকানোর আন্দোলন। ভারত এতদিনেও জাতিগত সমস্যার সমাধান করতে না পারার কারণে এখন এই আন্দোলন করতে হচ্ছে।

সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের দেয়া ‘জয়বাংলা’ স্লোগান নিয়ে তীব্র আপত্তি করেন ভারতের বিজেপির নেতারা। তাদের দাবী, এটা বাংলাদেশের স্লোগান। ভারতের কেউ এই স্লোগান ব্যবহার করতে পারবে না।  এছাড়া  পশ্চিম বাংলাকে ‘বাংলা’ নামকরণে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ইচ্ছারও তীব্র আপত্তি জানায় বিজেপি। তারা বলেন, পশ্চিম বাংলাকে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করার ইচ্ছা থেকেই তারা এমন নামকরণ করতে চাইছেন। এই দুটি ঘটনাই ক্ষুব্ধ করে পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষীদের।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ না চাইলেও উপরের দুটি ঘটনার সঙ্গেই বাংলাদেশের কিছুটা সম্পর্ক আছে। ‘বাংলাপক্ষ’ আন্দোলনের সঙ্গেও বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের সাদৃশ্য রয়েছে। উপরন্তু প্রথম দুটি কোন আন্দোলন ছিলো না। কিন্তু ‘বাংলাপক্ষ’ আন্দোলনটি শুরু হয়েছে ভাষার জন্যই। সুতরাং এটাকে পশ্চিমবঙ্গের ভাষা আন্দোলনের সুচনাও বা যেতে পারে।

এদিকে এমিরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে হিন্দির আধিপত্য যেভাবে বাড়ছে এবং বিজেপি যেভাবে প্রবেশ করেছে — এ দুই আগ্রাসনে পশ্চিমবঙ্গ বিপন্ন বোধ করছে। আবার আসাম থেকেও তারা বিতাড়িত হচ্ছে। কাজেই জাতীয়তাবাদী চেতনা গড়ে উঠছে বলেই আমাদের মনে হবে।

তিনি আরো বলেন, জাতি সমস্যার সমাধান ভারতে তখন হয়নি। আমরা ’৭১ সালে এর সমাধান করেছি, বাঙালি জাতীয়তাবাদের ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র গঠন করেছি। পশ্চিমবঙ্গের লোকরা এখন বুঝতে পারছে। তবে এটা মোকাবিলা সহজ হবে না ‘কেননা, আগ্রাসন চলবে। এটাকে নিয়ে যেতে হবে পুঁজিবাদবিরোধী আন্দোলনে। সেইখানে নিয়ে না গেলে এর ভবিষ্যত নেই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

two + three =