Templates by BIGtheme NET
১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ২৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১১ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী
SONY DSC

যেই শহরে টাকা দিয়ে কিছু কেনা যায় না, শ্রম দিয়ে কিনতে হয়

প্রকাশের সময়: জুলাই ১০, ২০১৯, ১:১০ অপরাহ্ণ

আজকাল ঘর থেকে বেরুলেই লাগে পকেট খরচ। আর নিজ শহর থেকে বাইরে অথবা অন্য দেশ ভ্রমণে লাগে কাড়ি কাড়ি টাকা। সেই ভ্রমণ করতে করতে যদি এমন একটি শহরে এসে পৌঁছান, যেখানে আপনার প্রয়োজনীয় খাবার, থাকার জায়গা, চিকিৎসা থেকে শুরু করে সব কিছুই আছে, কিন্তু নেই টাকার ব্যবহার। তাহলে কেমন হবে?

যেই ভারতবর্ষে সম্রাট শের শাহ সূরী টাকার প্রচলন করেছিলেন সেই ভারতবর্ষেরই রয়েছে এমন একটি শহর। যেখানে নেই কোন টাকার প্রচলন। সেখানে আপনাকে সবকিছু পেতে হবে শ্রম বা সেবার বিনিময়ে।

শহরটির নাম অরোভিল। চেন্নাই থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ১৯৬৮ সালে ইউনেস্কোর সহযোগিতায় শ্রী অরবিন্দ সোসাইটির ‘মা’ মীরা আলফানসা এই শহর প্রতিষ্ঠা করেন। রজার অ্যাঙ্গার নামের এক ব্রিটিশ আর্কিটেক্ট এই শহরের পরিকল্পনা করেছিলেন। ব্রহ্মাণ্ডের গঠনকে মাথায় রেখে সেই ধাঁচে এই শহরকে গড়ে তোলেন অ্যাঙ্গার, এবং শহরের মাঝখানে স্থাপন করেন একটি মাতৃমন্দির। বর্তমানে এই মাতৃমন্দিরে শহরের মানুষজন সমবেত হন ধ্যান করার জন্য। ১৯৬৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি অরোভিলের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে ১২৪টি দেশের প্রতিনিধি যোগ দিয়েছিলেন।

বর্তমানে এই শহরের জনসংখ্যা আড়াই হাজারের কাছাকাছি। ৪২টি দেশের বাসিন্দারা এখানে মিলেমিশে বসবাস করেন। এদের মধ্যে ৩০ শতাংশ ভারতীয়। সুযোগ-সুবিধার কমতি নেই এখানে। স্কুল, হাসপাতাল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আধুনিক জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় পরিষেবা মজুত রয়েছে। কিন্তু নেই টাকা পয়সার প্রচলন।

কিন্তু তাহলে কীভাবে চলে অরোভিলের বাসিন্দাদের জীবন? আসলে তারা ‘সেবার বদলে সেবা’ নীতি অনুসরণ করে চলে। যা অনেকটা প্রাচীন বিনিময় প্রথার আধুনিক সংস্করণ। এখানে থাকা, খাওয়ার জন্য কোনও পয়সাই লাগে না। কিন্তু এর কিছু একটা পেতে হলে অন্য একটা কাজ করে দিতে হয়।

তবে মূলত তেল, সাবান, ধূপকাঠি তৈরি-সহ অন্যান্য কুটির শিল্পে হাত লাগানোর কাজটিই এখানে প্রধান। কারণ এগুলো বিক্রি করে অন্য শহর থেকে প্রয়োজনীয় উপদান বা নিত্য পণ্যগুলো কিনে আনতে হয়। কিন্তু সেই উপার্জিত অর্থ অরোভিলের চৌহদ্দির মধ্যে খরচ করার প্রয়োজন পড়ে না। ভারত সরকারও এই শহরকে এবং এর অভিনব অর্থব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

fourteen + 8 =