Templates by BIGtheme NET
২১ আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৬ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৯ জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

পরিবেশের ক্ষতি যুদ্ধাপরাধের শামিল: দাবি ২৪ বিজ্ঞানীর

প্রকাশের সময়: জুলাই ২৫, ২০১৯, ৮:১৭ অপরাহ্ণ

পরিবেশের ক্ষতিকে যুদ্ধাপরাধের সাথে শামিল করার দাবি জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বিশ্বের নামকরা ২৪ জন বিজ্ঞানী একটি খোলা চিঠিতে এ দাবি জানিয়েছেন। বিজ্ঞান ও গবেষণা বিষয়ক সাময়িকী নেচার জার্নাল ২৪ বিজ্ঞানীর স্বাক্ষরিত একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছে।

বিজ্ঞানীরা দাবি করেন, আন্তর্জাতিক আইন প্রণেতাদের উচিৎপঞ্চম জেনেভা কনভেনশন সুরক্ষার দিকে নজর দেওয়া। যেখানে বলা হয়েছে প্রকৃতিকে নষ্ট করা আরো একটি যুদ্ধাপরাধ। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আইন কমিশন এই নিয়ে একটি বৈঠক করার প্রয়োজন। যুদ্ধ এলাকার পরিবেশ রক্ষায় ২৪ টি নিয়ম রয়েছে। এই নিয়মগুলো না মানলে পরিবেশের উপর বিরুপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা।

খোলা চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে একজন লন্ডনের জ্যুলজিক্যাল সোসাইটির বিজ্ঞানী প্রফেসর সারাহ ডুরেন্ট। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপি জীব বৈচিত্রের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য জেনেভা কনভেনশনে ২৪ টি নিয়ম গ্রহীত করেন বিশ্ব নেতারা। যুদ্ধের নিষ্ঠুরতার কারণে বিশ্বের প্রাকৃতিক বহু প্রজাতি তীব্র চাপে প্রায় বিলুপ্তির দিকে।  এ বিষয়ে বিশ্ব নেতারা প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রজাতিগুলোকে  ‍সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক আইন মানার তাগিদ দেন তিনি।

এটি শুধু প্রাকৃতিক প্রজাতির নিরাপত্তা বলয় তৈরি করবে না গ্রামীণ মানুষকে জীবিকা নির্বাহে সহায়তা করবে। কারণ গ্রামীণ জনেগোষ্ঠীর বিরাট একটি অংশ প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে থাকে বলে জানান তিনি।

দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংসের যাত্রা আবার শুরু হয় ৯০ এর দশকে। ইরাকি সেনা বাহিনী কুয়েতের প্রায় ৬০০ তেল কূপের উপর আক্রমণ চালায়। কুয়েতের তেল কূপ ধ্বংসের কারণে ১৯৯১ সালে কুয়েত থেকে দূষণ ছড়াতে থাকে।

এর আগে মার্কিন সেনা বাহিনী ভিয়েতনামে বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে দেশটির বিভিন্ন শহর, ক্ষেত-খামার, মানুষ এবং বন-জঙ্গলের ওপর বর্ষণ করেছে, যা পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় এবং ভিয়েতনামের লাখ লাখ মানুষকে আক্রান্ত করেছে। বোমাবর্ষণ ও রাসায়নিক-জৈবিক অস্ত্র প্রয়োগের কারণে ভিয়েতনামের ৪৫ শতাংশ জমি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল।

অতি সম্প্রতি সাহারা- সাহেল অঞ্চলে প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংসের চিত্র দেখা গেছে। লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের কারণে চিতাবাঘ, কৃষ্ণসার ও অন্যান্য প্রজাতির প্রাণী মারা যাচ্ছে। এছাড়া মালি ও সুদানে যুদ্ধের কারণেও প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। মালি ও সুদানে গৃহযুদ্ধের কারণে বিপুল সংখ্যক হাতি হত্যার শিকার হচ্ছে। যা পরিবেশের জন্য বড় ধরনের হুমকি।

খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করা পর্তুগালের পোর্তো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী হোসে ব্রিটো বলেন, অস্ত্রের কারণে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার জীববৈচিত্র অতিরিক্ত চাপের মুখে রয়েছে। আগামী দশকের মধ্যে এই বিষয়ে বৈর্শ্বিক প্রতিশ্রুতির প্রয়োজন না হলে বিশ্ববাসী ভয়াবহ রুপ দেখবে বলে সাবধান করেন এ বিজ্ঞানী।

দ্য গার্ডিয়ান থেকে অনূদিত

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

nine − three =