Templates by BIGtheme NET
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ৩১ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৫ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী

বঙ্গবন্ধু হত্যা, পর্ব-২২
খালেদ মোশাররফের পাল্টা ক্যু, বন্দী জিয়া

প্রকাশের সময়: আগস্ট ২৩, ২০১৯, ১২:১২ অপরাহ্ণ

২ নভেম্বর রাতে ক্যান্টনমেন্টে হঠাৎ শুরু হলো গোলাগুলি। লেঃ কর্নেল এম এ হামিদের ব্যাটম্যান সবুজ আলী খবর দিলেন ‘বেঙ্গল রেজিমেন্ট ক্যু করেছে। কর্নেল হামিদ সমুজ আলীকে তৎক্ষনাৎ জিয়ার কাছে পাঠালেন খবর দিতে।

সেই রাতেই বঙ্গভবনে গভীর রাত পর্যন্ত আলাপরত ছিলেন খন্দকার মোশতাক, জেনারেল ওসমানী, জেনারেল খলিল, মেজর রশিদ ও ফারুক। তারা আলাপ করছিলেন জিয়া ও খালেদ মোশাররফের রেষারেষি নিয়ে। মেজর রশিদ ছাড়া সবাই চাচ্ছিলেন উচ্চাকাঙ্খী জিয়াকে সরিয়ে খালেদ মোশাররফকে আর্মি চীফ বানাতে।

শেষ পর্যন্ত তারা সিদ্ধান্ত নিলো যে জিয়া-খালেদ উভয়কেই সরিয়ে দেয়া উচিত। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত আর বাস্তবায়ন করা যায়নি। কারন একটু পরেই পুলিশ এসে খবর দিলো বঙ্গভবন থেকে আর্মির সব লোকজন পালিয়ে গেছে।

বঙ্গভবন অরক্ষিত! মিটিং ভেঙ্গে গেল। তারা বুঝতে পারলেন যা আশঙ্কা করেছিলেন তাই হতে যাচ্ছে।

ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট। রাত সাড়ে বারোটা। ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশররফ ৪র্থ বেঙ্গল রেজিমন্টে এসে সার্বিক পরিচালনার ভার গ্রহণ করলেন। তার সাথে ৪৬ ব্রিগেড কমান্ডার শাফায়াত জামিল। সঙ্গে ছিলেন কর্নেল মালেক ব্রিগেডিয়ার রউফ, ব্রিগেডিয়ার নুরুজ্জামান, কর্নেল মইনুল হোসেন, মেজর হাফিজউদ্দিন, মেজর ইকবাল, মেজর নাসের, মেজর আমিন, স্কোয়াড্রন লীডার লিয়াকত প্রমুখরা।
ইউনিটের কমান্ডিং অফিসার আমিনুল হক আর এ্যডজেটেন্ট ক্যাপ্টেনকে ক্ষমতাহীন করে বসিয়ে রাখা হলো।

প্রথমে ক্যাপ্টেন হাফিজুল্লাহর নেতৃত্বে ফাষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের এক প্লাটুন সৈন্যকে ঝটিকার বেগে জিয়ার বাসায় পাঠিয়ে তাকে গৃহবন্দী করা হয়। রাত তখন ১টা। একইসঙ্গে জিয়ার বাসার টেলিফোন লাইন কেটে দেয়া হলো। যদিও বেডরুমের টেলিফোনটি ভুলক্রমে থেকে যায়।

ক্যাপ্টেন হাফিজুল্লাহ জিয়াকে বৈঠকখানায় এনে বললো, স্যার আপনি বন্দী।

বিনা বাধায় অপারেশনের প্রথম পর্ব সমাপ্ত হলো। মধ্যরাতে কোথাও টু শব্দটি পর্যন্ত হলো না। নিয়তির পরিহাস! যে ফাষ্ট বেঙ্গলকে জিয়া মুক্তিযুদ্ধে কমাণ্ড করেছেন তারাই আজ তাকে গৃহবন্দী করে বাসায় আটকে রাখলো।

এরপর শুরু হলো অভূত্থানের দ্বিতীয় পর্ব।

ব্রিগেডিয়ার খালেদের নির্দেশে ৪র্থ বেঙ্গলের দু’টি কোম্পানী এরিয়াতে অবস্থান নিয়ে বঙ্গভবন থেকে আসার রাস্তা বন্ধ করে দেন। ৪র্থ বেঙ্গলের আরো কিছু সৈন্য এন্টি-ট্যাংক রকেট নিয়ে আশেপাশে অবস্থান নেয়। ২য় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট রেডিও স্টেশন দখল করে।

১ম বেঙ্গলের দু’টি কোম্পানী সৈন্য বঙ্গভবনের আশেপাশে ঘেরাও করে অবস্থান গ্রহণ করে। মেজর ইকবালের দুটি কোম্পানী এতদিন বঙ্গভবন প্রহরা দিচ্ছিল। এখন তারাই বন্দুক ঘুরিয়ে বাইরে থেকে বঙ্গভবন ঘেরাও করলো। রেডিও ট্রান্সমিশন বন্ধ করে দেয়া হলো। রাতের অন্ধকারে যথাসম্ভব দ্রুততার সাথে ৪৬ ব্রিগেডের ইউনিটগুলো ক্যান্টনমেন্ট ও শহরের বিভিন্ন স্থানে কৌশলগত অবস্থান নেয়, কিন্তু কোথাও হামলা হয়নি।

এভাবেই শুরু হয়ে গেল ৩রা নভেম্বরের রক্তপাতহীন নিরব অভ্যূত্থান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

20 − thirteen =