Templates by BIGtheme NET
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ৩১ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৫ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী

৭০ বছরে ভারতের অর্থনীতি সবচেয়ে সংকটে

প্রকাশের সময়: আগস্ট ২৩, ২০১৯, ৩:১৪ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক: ৭০ বছরের মধ্যে ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থা সবচেয়ে সংকটে রয়েছে। দেশটির অন্যতম থিঙ্ক ট্যাংক ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশন ফর ট্রান্সফর্মিং ইন্ডিয়ার (এনআইটিআই) উপপ্রধান রাজিভ কুমার বলছেন, ভারতের বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দা নজিরবিহীন।

বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজিভ কুমার বলেন, গত ৭০ বছরে আর্থিক খাতের তারল্য সংকট এমন অবস্থায় যায়নি। পুরো আর্থিক খাতেই একটা ঝাঁকুনি লেগেছে।

রাজিভ কুমার মনে করেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায়, বেসরকারি খাতের আশঙ্কা দূর করতে সরকারকে যা করার তা এখনই করতে হবে। সমস্যা যে আর্থিক খাতে, সরকার তা ঠিকভাবে ধরতে পেরেছে। তারল্যের ক্ষেত্রে দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে। সরকারের এখনই তা বন্ধ করতে পদক্ষেপ নিতে হবে।

তারল্য পরিস্থিতি নিয়ে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘কেউ অন্য কাউকে বিশ্বাস করতে পারছে না। এটা কেবল সরকার ও বেসরকারি খাতের ক্ষেত্রে নয়। বেসরকারি খাতের মধ্যেও কেউ অন্য কাউকে অর্থ ধার দিতে চায় না। এখানে দুটো বিষয় রয়েছে, প্রথমত আপনাকে অবশ্যই এখনই এমন একটা পদক্ষেপ নিতে হবে, যা অসাধারণ হবে। দ্বিতীয়ত, আমি মনে করি, বেসরকারি খাতের জন্য কিছু আশঙ্কা দূরে রাখতে সরকারকে যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে।’

শীর্ষ এই অর্থনীতিবিদের মন্তব্য এমন সময় এল, যখন ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অবস্থা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে মন্থর অবস্থায় আছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। অথচ গত অর্থবছরে, (যা এই মার্চের ৩১ তারিখ শেষ হয়েছে) প্রবৃদ্ধি হয় ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। নতুন অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (এপ্রিল-জুন) জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ।

ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, কলকাতায় লাইন-ম্যান হিসেবে কাজ করে এমন ৪ হাজার ৮০০ কর্মচারী গত জানুয়ারি মাসের পর কোনো বেতন বা টাকা পায়নি। ভারতের বড় বড় শহরগুলোতে অনেক ফ্ল্যাট অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে। দেশটির ৩০টি বড় শহরে ১২ লাখ ৮০ হাজার তৈরি ফ্ল্যাট পড়ে আছে। শুধু কলকাতায় ২০ হাজারের বেশি ফ্ল্যাট অবিক্রিত।

কাপড় কলের মালিকরা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে জানিয়েছেন, বস্ত্র শিল্পের অবস্থা খুব খারাপ। কাপড় কলের মধ্যে তিনভাগের একভাগ এই বছরই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। লোকসান করায় মিল মালিকরা ব্যাংকের টাকা শোধ করতে পারছে না।

ভারতে গাড়ি বিক্রিও কমেছে। নয়ডার মারুতি গাড়ির কারখানা থেকে শুরু করে জামসেদপুরের টাটা মোটরের উৎপাদন কদিনের জন্য বন্ধ রাখতে হচ্ছে। একই অবস্থা বাজাজ এবং হিরো কোম্পানির। কয়েকশো গাড়ির শোরুম ঝাঁপ ফেলে ব্যাংকে জানিয়ে দিয়েছে, তারা আর টাকা শোধ করতে পারবে না।

বেশ কিছু সিমেন্ট কারখানা বন্ধ। ঝাড়খণ্ডের জয় বালাজি স্টিল কোম্পানি দুইদিন হলো উৎপাদন বন্ধ করেছে। কারণ ইস্পাত এর বাজার নেই। জাপানের আর্থিক সেবা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান নমুরার এক প্রতিবেদনে অর্থনীতির এই মন্দাবস্থার মূল কারণ হিসেবে ভোগব্যয় কমে যাওয়া, দুর্বল বিনিয়োগ পরিস্থিতি ও সেবা খাতকে দায়ী করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

two × 4 =