Templates by BIGtheme NET
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ৩১ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৫ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী

অপারেশন প্রেসক্লাব, কি ঘটেছিলো সেদিন?

প্রকাশের সময়: আগস্ট ২৩, ২০১৯, ৯:৫৪ অপরাহ্ণ

১৯৮৭ সালের নভেম্বরের শুরু থেকেই সরকারবিরোধী আন্দোলনে দেশ উত্তাল হয়ে উঠেছিলো। আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলো তখন অলআউট আন্দোলনে। এ সময় আন্দোলনের নামে বঙ্গবন্ধুর খুনি ফারুক-রশীদের ফ্রীডম পার্টি সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে রাজনৈতিক মহলে অভিযোগ উঠে। যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হয়ে রয়েছে অপারেশন প্রেসক্লাব।

জানা যায়, সেই সময়ে দেশের পেশাদার খুনি, সন্ত্রাসী ও সর্বহারাদের নিয়ে একটি বাহিনী গঠন করেছিলো ফ্রীডম পার্টি। তারা নেতা-কর্মীদের অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ করাতেন। তবে ফ্রীডম পার্টির মূল টার্গেট ছিল আওয়ামী লীগ। সরকারবিরোধী আন্দোলনের নামে ফ্রীডম পার্টি রাস্তায় সভা-সমাবেশ করলেও আওয়ামী লীগের মিছিল দেখলেই তারা সশস্ত্র হামলা চালাত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনেই চলত এমন হামলা।

ফ্রীডম পার্টি গঠনের পর প্রথম বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে ১৯৮৭ সালের ৭ নভেম্বর। বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার রশীদ-হুদার নেতৃত্বে হয় ‘অপারেশন প্রেসক্লাব’। সেদিন খন্দকার রশীদ আর বজলুল হুদারা এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে। ফিল্মিস্টাইলে রশীদের চলন্ত পাজেরো জিপ থেকে রাইফেল দ্বারা গুলি করা হয়। অসংখ্য মানুষ সেদিন গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েছিল। নিহত হয়েছিলেন একজন যুবলীগ কর্মী।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ৭ নভেম্বর সকাল থেকেই রাজধানীর সড়কগুলো দখলে নেয় সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। বিভিন্ন স্থানে মিছিল-মিটিং চলছিলো। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনেও সভা হওয়ার কথা আওয়ামী লীগের। ফ্রীডম পার্টিও প্রেসক্লাবের সামনে সভার আয়োজন করে। একটি মঞ্চও তৈরি করে তারা। বেলা ১১টা থেকেই বঙ্গবন্ধুর খুনি রশীদ, বজলুল হুদাসহ নেতারা অবস্থান নেন। সেখানে আসে ২০-২২ বছরের অন্তত ৩০০ যুবক। যাদের অধিকাংশ দেশের চিহ্নিত সন্ত্রাসী। এদের নেতৃত্বে ছিলেন রাজধানীর প্রতিটি থানার ফ্রীডম পার্টির কো-অর্ডিনেটররা।

জানা যায়, বেলা ১২টার দিকে রশীদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন। অন্যদিকে সিরডাপ মিলনায়তনের সামনে দিয়ে আওয়ামী লীগের মিছিল আসছিল। এসময় ফ্রীডম পার্টির জনসভা থেকেই হামলার নির্দেশনা দেওয়া হয়। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীরা অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করতে থাকে আওয়ামী লীগের মিছিল লক্ষ্য করে। মুহুর্মুহু বোমা ও গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

একপর্যায়ে দেহরক্ষী বেষ্টিত রশীদ নিজের জিপ গাড়িতে উঠে বসেন। সেই জিপ থেকে প্রেসক্লাবের ভিতরে গুলি চালানো হয়। প্রেসক্লাবের দরজা-জানালা তখন ঝাঁজরা হয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন মিছিলকারীরা। এর একজন আ হ ম নাদের আলী ঘটনাস্থলেই মারা যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

10 + fifteen =