Templates by BIGtheme NET
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ৩১ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৫ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী

৮৬ পরবর্তীতে যেভাবে ঢাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলো ফ্রীডম পার্টি

প্রকাশের সময়: আগস্ট ২৩, ২০১৯, ৯:৫৬ অপরাহ্ণ

১৯৮৬ সাল থেকে পরবর্তী চার বছর পর্যন্ত ঢাকায় সংঘটিত প্রায় প্রতিটি সহিংস ঘটনায় ফ্রীডম পার্টির সন্ত্রাসীরা জড়িত ছিলো বলে জানা গেছে। ছোট বড় অস্ত্র চালানো ও বোমা চার্জ করার বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়েই চলাফেরা করতেন ফারুক, রশীদ আর বজলুল হুদা। ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনে গ্রেনেড হামলার ঘটনা থেকে শুরু করে জাতীয় প্রেসক্লাব বা ময়মনসিংহসহ ফ্রীডম পার্টির সবকটি হামলাতেই এদের সংশ্লিষ্টতা ছিল।

জানা যায়, ফারুক-রশীদ তাদের ফ্রীডম পার্টির কার্যক্রম শুরু করে দেশের শীর্ষ স্থানীয় সন্ত্রাসী আর সর্বহারাদের নিয়ে। দলে যোগ দিলেই নতুন অস্ত্র আর অর্থ পাওয়া যাবে এমন কথা ছড়িয়ে দেওয়া হয় যুবকদের মাঝে। পাড়ায় মহল্লায় ফ্রীডম পার্টির বড় ভাইদের কাছে নিত্যনতুন অস্ত্র আর জিপ গাড়ি দেখে অনেকেই লোভে পড়ে। দলে দলে ফ্রীডম পার্টিতে যোগ দেয় শত শত যুবক। যাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। যদিও পরবর্তীতে প্রতিপক্ষ ও পুলিশের গুলিতে অনেকই নিহত হয়। এছাড়া অনেকেই এখনও জেলে অবস্থান করছেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ফ্রীডম পার্টির সন্ত্রাসীদের মধ্য থেকে কয়েকশ যুবককে আলাদা করে পাঠানো হয় লিবিয়ায়। এসব যুবককে লিবিয়ায় গাদ্দাফির সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ত্রিপলিতে ঘুরিয়ে দেখানোর কথা বলে নেওয়া হয়েছে। সেখানে নিয়ে তাদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ফারুক আর রশীদ নিজেই তাদের প্রশিক্ষণ দিতেন। আর অস্ত্র অর্থ লিবিয়ার স্বৈরশাসক গাদ্দাফি সরবরাহ করতেন বলে জানা গেছে।

সূত্রে জানা যায়, ফারুক ও রশিদ তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত অন্তত তিনশ যুবককে ঢাকায় ফেরত এনে রাজনৈতিক সহিংসতার জন্যে প্রস্তুত রাখে। তবে এদের মধ্যে ৫০ জন ছিলো দুর্ধর্ষ অপরাধী। যারা ফারুক, রশীদ আর বজলুল হুদার নিরাপত্তা নিশ্চিত করত। শীর্ষ এই ৫০ সন্ত্রাসীই ঢাকার বিভিন্ন এলাকা নিয়ন্ত্রন করতো।

জানা যায়, রাজধানীর এই সন্ত্রাসীরা ছিল ঢাকা জেলার স্টাফ কো-অর্ডিনেটর ফারুক রেজার নিয়ন্ত্রণে। ফ্রীডম পার্টির অস্ত্র গোলাবারুদ শাখার প্রধান ছিলো এই রেজা। লিবিয়ায় প্রশিক্ষিণ প্রাপ্ত এই সন্ত্রাসী পরবর্তীতে নিজ দলের আরেক ক্যাডারের গুলিতে নিহত হয়। ফার্মগেট এলাকার দুর্ধর্ষ অস্ত্রধারী গাবু তাকে গুলি করে হত্যা করেছে বলে জানা গেছে। ফারুকের সঙ্গে রশীদের দ্বন্দ্ব শুরু হলে ফারুক রেজা খুন হয় প্রতিপক্ষের হাতে। তেজগাঁও এলাকার আরেক দুর্ধর্ষ অপরাধী আলাউদ্দিন ছিল ফ্রীডম পার্টির আরেক কো-অর্ডিনেটর। ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর একজন আলাউদ্দিন তেজগাঁও বেগুনবাড়ী এলাকায় গণপিটুনিতে নিহত হয়। পুলিশসহ দুজনকে হত্যার পর পালিয়ে যেতে থাকলে লোকজন ধাওয়া করে আলাউদ্দিন ও তার ছোট ভাইকে পাকড়াও করে গণপিটুনি দেয়। এতে দুজনই নিহত হয়।

তেজগাঁও এলাকার আরেক ফ্রীডম পার্টির অস্ত্রবাজ খালেক ওরফে পিচ্চি খালেক নিহত হয় পুলিশের পিটুনিতে। সেই সন্ত্রাসীদের মধ্যে ঢাকা মহানগর কমিটির কো-অর্ডিনেটর যারা ছিলো তাদের মধ্যে খন্দকার কাজল, ইকবাল আহমদ, হুমায়ন কবির এবং তেজগাঁও থানার মোস্তাক আহম্মদ (কালু) উল্লেখ যোগ্য।
এছাড়া মতিঝিল থানার হাদী নেওয়াজ খান বাহার, সবুজবাগ থানায় ভূঞা বাবুল, ডেমরা থানায় ইকবাল আহমদ, সূত্রাপুর থানায় মঞ্জরুল হক কচি, নারায়ণগঞ্জে কামাল আহমেদ, ঢাকার সেন্ট্রাল এড়িয়ার স্টাফ কো-অর্ডিনেটর বাবলু রিবোরোসহ ছিলো আরো অনেকেই। যারা ঢাকার সন্ত্রাসীদের নেতৃত্ব দিতো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

1 × 4 =