Templates by BIGtheme NET
১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ৩০ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৫ সফর, ১৪৪১ হিজরী

জিততে হবে মুজিব কন্যাকে, খালেদের মুখে জানতে হবে অপরাধজগৎ

প্রকাশের সময়: সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯, ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ

পীর হাবিবুর রহমান: অবৈধভাবে পরিচালিত ক্যাসিনো বা ক্লাবসহ নানা জায়গায় জুয়ার রমরমা বাণিজ্য উদঘাটন করেছে র‌্যাব। এর সঙ্গে জড়িত যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গুলশানের বাসভবন থেকে অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করেছে। দুর্নীতি ও অপরাধের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্স নীতি থেকে গৃহীত এই শক্তিশালী পদক্ষেপ সব মহলে প্রশংসিত হয়েছে। এতে দলের আরও কেউ গ্রেফতার হলেও এ নিয়ে রাজনীতি করার কিছু নেই। রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে মুজিবকন্যা শেখ হাসিনা জনগণের কল্যাণে সংবিধান ও আইনের আলোকে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। আগেও বলেছি, এই যুদ্ধ কঠিন যুদ্ধ। মুজিবকন্যা শেখ হাসিনাকে এই যুদ্ধে জিততে হবে। জিততে হলে দেশের জনগণকে অপরাধের বিরুদ্ধে আজ তার পাশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমর্থন দিয়ে ঐক্যের মোহনায় মিলিত হতে হবে। বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ দুর্নীতি ও অপরাধের যে কালো দৈত্য গোটা সমাজ জীবনকে রাহুর মতো গ্রাস করেছে, সেখানে এই কালো পাহাড়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ষড়যন্ত্র অনেক জায়গায় হবে। অপরাধীদের নেটওয়ার্কও অনেক শক্তিশালী।

যদিও রাষ্ট্রের শক্তির কাছে বা সরকার ও তার প্রশাসনযন্ত্রের কাছে তা ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া সম্ভব। গ্রেফতার খালেদ মাহমুদকে আমরা কোনো বন্দুকযুদ্ধে নিহত হতে দেখতে চাই না। আমরা চাই, দিনের পর দিন, বছরের পর বছর কীভাবে ৬০টি ক্যাসিনো বিনা অনুমতিতে এভাবে বাণিজ্য করে গেছে তার চিত্র উদঘাটন।

একবার লিখেছিলাম, পর্যটকদের জন্য আমাদের পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে হলেও ক্যাসিনো ও নাইট ক্লাবের এবং পাবের অনুমতি দেওয়া হোক। দেশের অর্থনীতি যেমন দেশ বড় কর আদায়ে লাভবান হবে, বিদেশি মুদ্রা আসবে তেমনি কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। এমনকি ইয়াবা-ফেনসিডিল থেকে প্রাপ্তবয়স্ক যুবকদের বাঁচাতে বিয়ার বিক্রির অবাধ অনুমতি দেওয়া হোক। এর জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাদের কাছে ঘুষ-চাঁদাবাজি হালাল বাকি সব হারাম তাদের নগ্ন আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে। মুসলমানের দেশ মালয়েশিয়ায় পর্যন্ত পাব ও ক্যাসিনো রয়েছে। নেপালসহ অনেক দেশ পর্যটকদের টাকায় দাঁড়িয়ে আছে। দুবাই এখন দুনিয়া বিখ্যাত বিনোদন নগরী। সৌদিতেও হালাল লাইট ক্লাব চালু হয়েছে। পশ্চিমাদের কথা বাদই দিলাম। যাক সেসব কথা।

ঢাকা নগরীতে বছরের পর বছর ফুটবল ক্লাবগুলোসহ বিভিন্ন ক্লাবে যেভাবে ক্যাসিনো ব্যবসা বিনা অনুমতিতে পরিচালিত হয়েছে, রমরমা বাণিজ্য করেছে, সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোথায় ছিল? নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়ে ছিল? নাকি ভাগ-বাটোয়ারার অংশ নিয়মিত পেয়েছে? রাশেদ খান মেননের মতো প্রবীণ বামপন্থি রাজনীতিবিদ একটি ক্লাবের চেয়ারম্যান হিসেবে খালেদকে নিয়ে ফিতা কাটলেও অন্দর মহলে কী হচ্ছে সে খবর যেখানে রাখেন না সেখানে জনগণের প্রতিনিধি তার নির্বাচনী এলাকার কি খবর রাখেন? অভিশপ্ত মতিঝিলপাড়ায় ব্যাংক লুট হয়, শেয়ারবাজার লুট হয় এমনকি ৬০টি ক্যাসিনো যে রমরমা বাণিজ্য বসিয়েছে দিনরাত সেখানে বিদেশি ক্যাসিনোর মদের বারও বহাল ছিল। বিদেশিরা কর্মরতও ছিল। এরা কীভাবে দেশে এসে কাজ করেছে? তাদের ওয়ার্ক পারমিট ছিল? একেকটি ক্যাসিনোতে অনেকগুলো রুলেট বা জুয়া খেলার মেশিন অথবা শ্লট বা টেবিল দিনরাত জুয়াড়িদের নিয়ে যে সরগরম থেকেছে সেগুলো এ দেশে তৈরি হয় না। বিদেশ থেকে এসব আমদানি করা হয়েছে।

কারা আমদানির অনুমতি দিয়েছে? আমদানির অনুমতি না থাকলে কাস্টমসের গোয়েন্দা বিভাগ কোথায় ছিল? তাদের নাকের ডগার সামনে দিয়ে সেলামি না দিয়ে কি এসব আনা হয়েছে? খালেদ মাহমুদের মাধ্যমে এই অবৈধ ক্যাসিনো বাণিজ্যের মুনাফার অর্থ নিয়মিত কারা কারা পেতেন তাদের নাম উদঘাটন করে তদন্তসাপেক্ষে আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত বিচার ও শাস্তির মাধ্যমে অপরাধজগৎকে গুঁড়িয়ে দিতে হবে। র‌্যাবকে বের করতে হবে ঢাকায় আর কত ক্যাসিনো আছে? ঢাকার বাইরে কী অবস্থা?

মুজিবকন্যা শেখ হাসিনার এই যুদ্ধ কেবল ক্যাসিনো ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নয়, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও মাদক ব্যবসায়ীদের মতো দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠিন যুদ্ধ। এই যুদ্ধে অপরাধী, দলের নেতা-মন্ত্রী-এমপি হলে যেমন আইনের আওতায় আসবেন তেমনি প্রশাসনের যে কোনো স্তরের কর্মচারী-কর্মকর্তা হলেও প্রাপ্য শাস্তি ভোগ করবেন। সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় মুজিবকন্যা শেখ হাসিনা ঘুষখোর, চোরাকারবারি, দুর্নীতিবাজ, মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও কমিশন বাণিজ্যে যেসব বাজিকর অবৈধভাবে অঢেল অর্থবিত্ত বৈভব গড়েছেন, ব্যাংক লুট করেছেন, জুয়াড়িদের মতো শেয়ারবাজার লুটে নিয়ে গেছেন এমনকি বিদেশে অবৈধ অর্থ পাচার করেছেন ও সম্পদ গড়েছেন তাদের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ শুরু করেছেন। এই যুদ্ধে দয়া-মায়াহীনভাবে তাকে জয়ী হতেই হবে। লুটেরা অবৈধ অর্থ সম্পদের মালিকদের আইনের আওতায় এনে বিচার করে রাষ্ট্রের সম্পদ উদ্ধারের মাধ্যমে নজির স্থাপন করলে দুর্নীতির বেপরোয়া উত্থান আর কখনো ঘটবে না। দুর্নীতির পাগলাঘোড়াকে থামিয়ে দিতে পারলে মুজিবকন্যা শেখ হাসিনা রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে ইতিহাসে অমরত্ব পাবেন। দেশের জনগণের মাথার তাজ হয়ে থাকবেন। জনগণ, প্রশাসন, গণমাধ্যম ও সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এই যুদ্ধে তার পাশে থাকতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এক ঢাকা নগরীতে অবৈধ ক্যাসিনো বাণিজ্যে থাবা বসাতে অতীতে যেমন ব্যর্থ হয়েছে তেমনি এর ভয়াবহতা প্রকাশ করার ক্ষেত্রে আমরা গণমাধ্যমও চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছি। সমাজের সব অপরাধ ও অপরাধীদের মুখ অন্ধগলি থেকে মুজিবকন্যার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এভাবেই একে একে টেনে বের করতে হবে। তাদের বিচারের মাধ্যমে প্রাপ্য শাস্তি দিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

one + ten =