Templates by BIGtheme NET
১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ৩০ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৫ সফর, ১৪৪১ হিজরী

হাওয়া ভবনেই ছিলো ক্যাসিনো

প্রকাশের সময়: সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯, ৯:২৪ অপরাহ্ণ

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি নিয়ে হৈচৈ চলছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে ক্যাসিনোর উৎপত্তি আর বিকাশ নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০০১ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে, তখনই দেশে শুরু হয়েছিল ক্যাসিনো বাণিজ্যের প্রাতিষ্ঠানিকরণ। ওয়ান ইলেভেন সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন হাওয়া ভবনে অপারেশন পরিচালনা করা হয়। সেই হাওয়া ভবনে তখন অন্তত ৫টি ক্যাসিনো উপকরণ পাওয়া গিয়েছিল।

এ সংক্রান্ত গোয়েন্দা প্রতিবেদনেজানা গেছে যে, হাওয়া ভবনের দোতলায় তারেক রহমানের চেম্বারের পাশেই ছিল ক্যাসিনো। সেখানে রাউন্ড বোর্ডসহ একাধিক ক্যাসিনো সামগ্রী ছিল। ওয়ান ইলেভেনে যৌথ বাহিনীর অভিযানে এসব ক্যাসিনো বা জুয়ার সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছিল। সেসময় গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, হাওয়া ভবনের এই ক্যাসিনোটি পরিচালনা করতেন তারেক জিয়ার বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুন। মন্ত্রী, আমলা এবং ব্যবসায়ীদের বাধ্যতামূলকভাবে সেখানে যেতে হতো। তবে এখন মতিঝিল বা বনানীর ক্যাসিনোগুলোতে জেতা এবং হারা দুটোই হয়। কিন্তু এই হাওয়া ভবনের ক্যাসিনোগুলোতে জয়ের কোনো সম্ভাবনা ছিল না। বরং ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, আমলা, মন্ত্রীরা সেখানে যেতেন হারার জন্য। কোটি কোটি টাকা হেরে তারা নিজেদেরকে ধন্য করতেন। ওয়ান ইলেভেনের সময়ে হাওয়া ভবনের অভিযানের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, এক মন্ত্রী সেই ক্যাসিনোতে ১০ কোটি টাকা হেরে এসেছিলেন।

একজন শিল্পপতি যিনি এখন আওয়ামী ঘনিষ্ঠ শিল্পপতি হয়েছেন- তিনি হাওয়া ভবনের ক্যাসিনোতে ৫০ কোটি টাকা হেরেছেন এমন তথ্যও গোয়েন্দারা দিয়েছিলেন। একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ক্যাসিনোতে যেতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে তাকে মন্ত্রীত্ব পর্যন্ত খোয়াতে হয়েছিল। আমলাদের ক্যাসিনোতে যাওয়া ছিল বাধ্যতামূলক। ঐ গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও দেখা যায় যে, একেকদিন একেক মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হতো ক্যাসিনোতে অংশগ্রহণ করার জন্য। সাধারণত কোনো বড় টেন্ডারের আগে সেই টেন্ডারের সংশ্লিষ্টদেরকে ক্যাসিনোতে আমন্ত্রণ জানাতেন গিয়াসউদ্দিন আল মামুন। সেই জুয়াতে যিনি সবচেয়ে বেশি টাকা হারতেন, তাকেই সেই কাজটা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হতো।

উল্লেখ্য যে, শুধু ক্যাসিনোই নয়, হাওয়া ভবনে ক্যাসিনোর সঙ্গে ছিল সর্বাধুনিক বার, জিম এবং বিনোদনের সামগ্রীও। শুধু হাওয়া ভবন নয়, ক্যাসিনোর সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের বাগানবাড়ি খোয়াবভবনেও। অনেক সময় ছুটির দিনে খোয়াবভবনেও ক্যাসিনো চলতো। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়, রাষ্ট্রীয় মদদে এরকম ক্যাসিনো থাকার ঘটনায় তৎকালীন ওয়ান ইলেভেন সরকার বিস্ময় প্রকাশ করেছিলো।

অবশ্য তারকে রহমানের ক্যাসিনোর অভ্যাস অনেক পুরনো। ১৯৯৬ সালে বিএনপি যখন বিরোধীদলে ছিল তখনো তারেক জিয়া সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক এবং নেপালে ক্যাসিনোর জন্য যেতেন। নেপালে একবার ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে তারেক রহমান সেখানে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। পরে বিভিন্ন হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করাও হয়েছিল।

জানা যায়, তারেক জিয়া এখনো ক্যাসিনো খেলেই সময় পার করেন। লন্ডনে যখন জ্ঞাত আয়বহির্ভূত জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, তখন লিখিত জবানবন্দিতে তারেক রহমান বলেছিলেন যে, তার আয়ের প্রধান উৎস হলো ক্যাসিনো। উল্লেখ্য যে, লন্ডনের সবচেয়ে বড় ক্যাসিনো ওয়েস্টফিল্ড ক্যাসিনোতে তারেক রহমান হলো নিয়মিত গ্রাহক। বাংলাদেশে যেমন দুর্নীতির বরপুত্র বলা হয় তারেক রহমানকে, তেমনি ক্যাসিনো সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতাও তারেক রহমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

4 + 18 =