Templates by BIGtheme NET
১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ৩০ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৫ সফর, ১৪৪১ হিজরী

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর চোখে মানব দেহে রেনিটিডিনের ভূমিকা

প্রকাশের সময়: অক্টোবর ৪, ২০১৯, ৩:১৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদ: বাংলাদেশের বাজারে গ্যাস্ট্রিকের জন্য বহুল প্রচলিত রেনিটিডিন ওষুধের কাঁচামাল আমদানি, ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর।বাংলাদেশে গ্যাস্ট্রিকের খুব জনপ্রিয় কিছু ঔষধের ব্র্যান্ড রয়েছে যেগুলোর মূল উপাদান বা জেনেরিক নাম হলো রেনিটিডিন। এই রেনিটিডিনে ক্যান্সার হতে পারে এমন কিছু উপাদান পাওয়া যাওয়ায় বিশ্বের অনেক দেশ ঔষধটি বাজার থেকে তুলে নিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফডিএ এবং ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সি এই ঔষধের ব্যবহার সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে এটি নিয়ে অধিকতর গবেষণা করছে। তবে বাংলাদেশও ইতোমধ্যে রেনিটিডিন আমদানি, উৎপাদন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে।

ঢাকার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাষ্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলছেন, রেনিটিডিন ঔষধটা নিজে ক্যান্সার তৈরি করে না। খাওয়ার সাথে সাথেই কিছু ঘটবে না। এর নিজের ক্যান্সার জাতীয় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। রেনিটিডিনের কাঁচামাল উৎপাদনের সময়, কিছু কাঁচামালের একটি মিশ্রণে ক্যান্সারের ঝুঁকিযুক্ত কোন উপাদান তৈরি হয়েছে। বিশ্বে বহু ল্যাবে এর কাঁচামাল তৈরি হয়। এটি সব কাঁচামাল উৎপাদকের ক্ষেত্রে ঘটেনি।

তিনি বলছেন, ধরুন রান্নায় যদি লবণ বেশি হয়ে যায় বা একটা ভুল মশলা দিয়েছেন তখন সেটি আপনি খেতে পারবেন না। বিষয়টা সেরকম।
তিনি বলছেন, এখন যেটি করা হচ্ছে সেটি সতর্কতা। একসময় পেপটিক আলসার হলে অস্ত্রোপচার করতে হতো। রেনিটিডিন বাজারে আসার পর সেটির দরকার অনেক কমে গিয়েছিলো।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলছেন, সরকারের উচিত আরও পরিষ্কার করে বিষয়টি মানুষজনকে জানানো।যে কোম্পানির কাঁচামালের সাথে এর সম্পর্ক এবং দেশের যে কোম্পানি তাদের কাছ থেকে কাঁচামাল এনে রেনিটিডিন জাতিয় ঔষধ বানায় সেটি সরকারের সরাসরি ঘোষণা দেয়া দরকার বলে তিনি মনে করছেন।

রেনিটিডিনে যা পাওয়া গেছে
ক্যান্সার হতে পারে এমন কিছু উপাদান বলতে ঠিক কী বলা হচ্ছে সেটি ব্যাখ্যা করে ঔষধ প্রযুক্তির শিক্ষক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলছেন, রেনিটিডিন জাতীয় সবগুলো ট্যাবলেটে ক্যান্সার তৈরি করতে পারে এমন উপাদান পাওয়া গেছে বিষয়টি তেমন নয়।কিছু ট্যাবলেটে পাওয়া গেছে। এফডিএ এটি নিয়ে এখনো গবেষণা করছে। সাবধানতা হিসেবে ঔষধটি অনেক দেশে বিক্রি করা হচ্ছে না।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলছেন, বাংলাদেশে মানুষজন অনেকসময় চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে ইচ্ছেমত ঔষধ খেয়ে থাকেন। এখন সবচেয়ে বড় কাজ হবে দরকার না হলে ঔষধ খাবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রেনিটিডিনের বিকল্প ঔষধ ব্যাবহার করুন। বাজারে এখন অনেক ধরনের ঔষধ আছে। আর রোগের আগে থেকে প্রতিকারের ব্যবস্থা নিন। ভয় পাবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

16 + 17 =