Templates by BIGtheme NET
১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ৩০ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৫ সফর, ১৪৪১ হিজরী

শুরুতে ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হতো কোকাকোলা!

প্রকাশের সময়: অক্টোবর ৬, ২০১৯, ৮:৫৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদ: আমরা সকলেই কোকাকোলা নামটির সাথে কমবেশি পরিচিত। টিভি বিজ্ঞাপন কিংবা রাস্তার আশপাশে বিশাল বিলবোর্ড, দেয়ালে অঙ্কিত বিজ্ঞাপনের সুবাদেই কোকাকোলার সাথে সকলে পরিচিত হয়েছি। গরমকালে আমাদের দেশসহ সারা বিশ্বের মানুষের চাহিদায় থাকে কোমল পানীয়। আবার শুধু গরমকালে নয়, অন্যান্য ঋতুতেও নানা রকম পার্টি উপলক্ষে, জন্মদিনের উৎসবে এই পানীয়ের স্থান রয়েছে। কিন্তু আপনি কি জানেন, শুরুতে কোকাকোলা ওষুধ হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল?

১৮৮৬ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া প্রদেশের রাজধানী আটলান্টারের ফার্মাসিস্ট ডাক্তার জন পেম্বারটন প্রথম কোকাকোলা উদ্ভাবন করেন। উদ্ভাবনের পর পেম্বারটন কল্পনাও করেননি কোকাকোলা ব্র্যান্ড হিসেবে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে। কোকাকোলা শুরুতে ওষুধ হিসেবে বিক্রি হতো। তৎকালে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৯ গ্লাস বিক্রি হয়েছিল। কোকাকোলা কোম্পানির তথ্য থেকে জানা যায়, পেম্বারটন এই পানীয়টিকে সিরাপ তথা ওষুধ হিসেবে তৈরি করে নিকটস্থ ফার্মেসিতে বিক্রির জন্য দিয়েছিলেন।

মূলত শরীর সতেজকারক-সুস্বাদু ওষুধ হিসেবে কোকাকোলা তৈরি করেছিলেন। তৈরি করার পর পেম্বারটন নিজেই পিতলের কেটলিতে ভরিয়ে এই ওষুধ নিকটেই জ্যাকব ফার্মেসিতে বিক্রি করতেন। কোকাকোলা পেম্বারটন কর্তৃক আবিষ্কৃত হলেও নামটি কিন্তু পেম্বারটনের দেওয়া নয়। কোকাকোলা নামকরণ করেন পেম্বারটনের হিসাবরক্ষক ফ্রাঙ্ক রবিনসন। কোকাকোলার প্রস্তুতপ্রণালী থেকে জানা যায়, এতে কোকা পাতার (Coca leaf) নির্যাস এবং কোলা বাদাম (Kola nut) থেকে ক্যাফেইন সংগ্রহ করে তৈরি করা হয়।

রবিনসন লিখনশৈলীতে খুবই পারদর্শী ছিলেন। তিনি Coca ও Kola কে মিলিয়ে Coca-cola নামটি লিখে ফেলেন। লক্ষনীয় যে, তিনি নামের দ্বিতীয় অংশে K এর স্থলে C অক্ষর ব্যবহার করেন। ১৮৮৬ সালের ৮ মে সোডাজল হিসেবে প্রথম বিক্রি করা হয়েছিল কোকাকোলা। প্রতিদিন মাত্র ৯ গ্লাস পানিও বিক্রি করে প্রথম বছর পেম্বারটন মাত্র ৫০ ডলার অর্থ উপার্জন করেছিলেন। এতে প্রথম বছর তার ব্যবসা সফল হয়নি। কারণ উৎপাদনের জন্য পেম্বারটনের প্রথম বছর খরচ হয়েছিল ৭০ ডলার।

১৮৮৭ সালে আশা ক্যান্ডলার নামক একজন ফার্মাসিস্ট ও ব্যবসায়ী ২৩০০ ডলারে কোকাকোলার প্রস্তুত প্রণালী ক্রয় করেছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত এর কয়েক বছর পরেই পেম্বারটন মারা যান। ১৮৯০ সালে কোকাকোলা যুক্তরাষ্ট্রে খুবই পছন্দনীয় পানীয়তে পরিণত হয়। বাজার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ক্যান্ডলারের ভালো ধারণা থাকায় ১৮৯০-১৯০০ সালে কোকাকোলার বিক্রি চার হাজার শতাংশে উন্নীত হয়েছিল।

১৯৬০ সালের দিকে কোকাকোলা বোতলজাত করা হয়। বোতলজাত করার পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বিশ্বের প্রায় সবদেশেই কোকাকোলা ছড়িয়ে পড়ে। তবে কিউবা, উত্তর কোরিয়া, ভ্যাটিক্যান সিটি, সোমালিয়া, সুদান, স্যান ম্যারিনো, পূর্বতিমুরসহ বেশকিছু দেশে এখনও কোকাকোলা পৌঁছায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

10 + nineteen =