Templates by BIGtheme NET
১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ৩০ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৫ সফর, ১৪৪১ হিজরী

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম এর প্রতিবেদন
দক্ষিণ এশিয়ায় ব্যবসার জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি পানি সংকট

প্রকাশের সময়: অক্টোবর ৮, ২০১৯, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ জনসংখ্যা বসবাস করে দক্ষিণ এশিয়ায়। তবে বিশ্বের নবায়নযোগ্য পানির উৎসের ৫ শতাংশেরও কম রয়েছে এ অঞ্চলটিতে। মাথাপিছু পানির কম সহজলভ্যতা ও পানির অপেক্ষাকৃত উচ্চ ব্যবহার এ মুহূর্তে দক্ষিণ এশিয়ায় ব্যবসা করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি পানি সংকট। এক বছর আগেও পানি সংকট দক্ষিণ এশিয়ার পঞ্চম শীর্ষ ঝুঁকি ছিল।

সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম- ডব্লিউইএফ। রিজিওনাল রিস্কস ফর ডুয়িং বিজনেস, ২০১৯’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক ফোরামটি দক্ষিণ এশিয়ার পানি সংকটের কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈশ্বিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে দক্ষিণ এশিয়ায় পানির মজুতও অনেক নিচের দিকে রয়েছে, যার ফলে অঞ্চলটির জন্য বন্যা ও খরা পরিস্থিতি মোকাবেলা করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। ভারতের শীর্ষতম ঝুঁকি পানি সংকট, পাকিস্তান দ্বিতীয় ও শ্রীলংকা চতুর্থ। দক্ষিণ এশিয়ায় ‘প্রাচুর্য সত্ত্বেও ঘাটতির সমস্যা’ রয়েছে। অঞ্চলটিতে বড় বড় আন্তঃসীমান্ত নদী থাকা সত্ত্বেও বহু স্থানেই সুপেয় পানির সীমিত সরবরাহের কারণে লোকজনকে লাইন ধরে দাঁড়াতে হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিন্ধু বা গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে ভারত-পাকিস্তান ও ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি থাকলেও সীমান্ত বিরোধের সময় অন্যতম কার্যকর হাতিয়ার হয়ে ওঠে পানি। বিতর্কিত অঞ্চলগুলোয় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার কারণে দেশগুলোকে মাঝে মাঝেই পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিতে দেখা যায়। এদিকে বেশ কয়েকটি বড় নদীর উৎস চীন জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে। যে কারণেও দেশটির সঙ্গে বিশেষ করে ভারতের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্বের যে ১৭টি দেশে তীব্র পানি সংকট রয়েছে তার মধ্যে ভারত একটি। দেশটির উত্তরাঞ্চল তীব্র আকারে ভূগর্ভস্থ পানিশূন্যতার শিকার। চলতি বছর ভারতের ষষ্ঠ বৃহৎ শহর চেন্নাইয়ে তীব্র খরা দেখা দেয়। ২০২০ সাল নাগাদ দিল্লিসহ দেশটির ২০টির বেশি শহর ভূগর্ভস্থ পানি শেষ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিশ্বে সর্বোচ্চ পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে চতুর্থ স্থানে রয়েছে পাকিস্তান, আবার একই সময় দেশটি ‘পানির অভাবে’ থাকা দেশগুলোর শ্রেণীতে পড়ার কাছাকাছিও রয়েছে। পাকিস্তানের অন্তর্নিহিত চ্যালেঞ্জের একটা হলো দেশটিতে জনগণের কাছে পরিষ্কার পানীয় জল সরবরাহের জন্য যথাযথ অবকাঠামোর ঘাটতি। তার ওপর দেশটির সিংহভাগ পানির উৎসও একটি—সিন্ধু, যা চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার কারণে বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে রয়েছে ।

পানি ছাড়াও আরো ৯টি ঝুঁকি হলো সন্ত্রাসবাদী হামলা, মানবসৃষ্ট পরিবেশ বিপর্যয়, নগর পরিকল্পনার ব্যর্থতা, অস্থিতিশীল জ্বালানি মূল্য, মূল্যসংকোচন, বেকারত্ব বা স্বল্প কর্মসংস্থান, রাষ্ট্রের পতন বা সংকট, আর্থিক সংকট ও সম্পদ বুদবুদ (অ্যাসেট বাবল)। দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় শীর্ষ ঝুঁকি হিসেবে রয়েছে সন্ত্রাসবাদী হামলা, যা আন্তঃআঞ্চলিক টানাপড়েনের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

17 − 2 =