Templates by BIGtheme NET
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং, ১৬ ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ৩ রজব, ১৪৪১ হিজরী

শীতল হয়ে পড়ছে মানুষ, ৯৮.৬ ডিগ্রি তাপমাত্রাআর স্বাভাবিক নয়!

প্রকাশের সময়: জানুয়ারি ২৭, ২০২০, ৪:০৯ অপরাহ্ণ

মানুষের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ধরা হয় ৯৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর দুই এক ডিগ্রি বেশি হলে জ্বর হয়েছে বলে ধরা হয়। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, এ মানদণ্ড সেকেল হয়ে গেছে। মানুষ ক্রমেই শীতল হয়ে পড়ছে!

এক শতাব্দীর ব্যবধানে মানুষের শরীরের গড় স্বাভাবিক তাপমাত্রা এক ডিগ্রি কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্কুল অব মেডিসিন’ নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়, ১৬০ বছর বা তার কিছু বেশি সময় আগে মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা যা ছিল তা আর বহাল নেই। দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি ফারেনহাইট কমে গেছে।

জ্বর মাপার সময় থার্মোমিটারে ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রাকে স্বাভাবিক ধরা হয়, তা আর স্বাভাবিক নয়। এটি এখন ৯৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট। তবে নারীদের দেহের তাপমাত্রা পুরুষের তুলনায় কম কমেছে। নারীদের শরীরের গড় স্বাভাবিক তাপমাত্রা এখন ৯৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট।

বিজ্ঞান সাময়িকী ‘ইলাইফ’এ প্রকাশিত গবেষণাপত্রটিতে বলা হয়, জার্মান চিকিৎসক কার্ল রেইনহোল্ড অগাস্ট ভান্ডারলিক ১৮৫১ সালে ২৫ হাজার রোগীর বগলের তাপমাত্রা ৯৮.৬ ডিগ্রি নিরূপণ করেছিলেন। সময় বদলেছে, আমেরিকানদের দেহের গড় তাপমাত্রা অন্তত ১ ডিগ্রি ফারেনহাইট কমেছে

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্কুল অব মেডিসিন’ এর অধ্যাপক জুলি পারসোনেট জানান, তার টিম তিনটি বিশাল ডাটাবেজ থেকে তথ্য নিয়েছে

গবেষকরা দেখেছেন, সময়ের সঙ্গে গড় স্বাভাবিক তাপমাত্রা কমেছে। তাদের উপাত্ত বলছে, বর্তমানে মানুষের গড় স্বাভাবিক তাপমাত্রা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ৯৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট

১৫০ বছরের মধ্যে প্রতি দশকে মানুষের দেহের গড় স্বাভাবিক তাপমাত্রা কমেছে। পুরুষের কমেছে দশমিক ০৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও নারীর দশমিক ০২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এক দিকে গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাবে পরিবেশের তাপমাত্রা বাড়ছে, অন্যদিকে মানুষের শরীরের তাপমাত্রা কমছে।

গবেষকরা বলছেন, জার্মান চিকিৎসক ভান্ডারলিক যখন স্বাভাবিক তামপাত্রার হিসাবটা করেছিলেন তখন মানুষের গড় আয়ু ছিল মাত্র ৩৮ বছর। নানা রোগ, সংক্রমণ ও প্রদাহে মানুষের অকাল মৃত্যু হতো।

শরীরকে যখন নানা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয় তখন তাপমাত্রা বাড়ে। এ কারণেই বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেহের গড় স্বাভাবিক তাপমাত্রা কমে,

আর তরুণদের গা প্রবীণদের তুলনায় বেশি গরম থাকে। এরকম হয় কারণ, তরুণরা বিভিন্ন রকমের প্রদাহে আক্রান্ত হয় বেশি

তবে আধুনিককালে প্রদাহের নানা ধরনের ওষুধ আবিষ্কার হয়েছে। ওষুধ সেবনের মাধ্যমে প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ করা হয় ফলে তরুণদের শরীরের গড় তাপমাত্রাও আর সেভাবে বাড়ছে না।

মানুষের শারীরবৃত্তীয় ও বিপাক ক্রিয়া আগের চেয়ে বেশ কমেছে। এসব প্রক্রিয়ায় শরীরের তাপমাত্রা বাড়ে। আগে মানুষ প্রচুর শারীরিক পরিশ্রম করতো। এ কারণে তাদের বিপাক ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়ার হারও ছিল বেশি। ফলে শরীরের স্বাভাবিক গড় তাপমাত্রাও বেশি থাকতো।

আধুনিককালে মানুষের কায়িকশ্রম অনেক কমে গেছে। আয়েশি জীবনযাপনের কারণে বিপাকক্রিয়াও কমে গেছে। ফলে মানুষ শীতল হয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

twenty − five =