Templates by BIGtheme NET
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং, ১৬ ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২ রজব, ১৪৪১ হিজরী

মহা বিপর্যয়ের শঙ্কা: দাবানল-ভাইরাস-পঙ্গপাল এরপর কী?

প্রকাশের সময়: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২০, ৫:৫০ অপরাহ্ণ

গেল বছর থেকে বিশ্বে একের পর এক বিপর্যয় লেগেই আছে। দাবানলের মাধ্যমে শুরু হওয়া বিপর্যয় বিভিন্ন ভাইরাস ঘুরে সর্বশেষ পঙ্গপালে এসে থেমেছে। বিশ্বজুড়ে একের পর এক বিপর্যয় অব্যহত থাকায় এখন প্রশ্ন উঠেছে, দাবানল-ভাইরাস-পঙ্গপাল এরপর আসছে কী?

গেল বছরের মে মাসে ইহুদীবাদি দেশ ইসরাইলে প্রথম শুরু হয় দাবানল। এরপর একে একে ব্রাজিলের মহাবন আমাজন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া, স্পেনের কাতালোনিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার কয়েকটি জায়গায় দাবালনে পুড়েছে হাজার হাজার ঘর-বাড়ি, বনাঞ্চল এবং লাখ লাখ পশুপাখি। এতে দেশগুলোর শুধু একাই ক্ষতি হয়নি, হয়েছে সারাবিশ্বের। বিপন্ন হয়েছে অনেক প্রজাতির প্রাণী এবং প্রভাব ফেলেছে জলবায়ুতেও।

দাবালন থাকাকালেই গেল বছরের মধ্যভাগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শুরু হয় ডেঙ্গুর প্রকোপ। এতে অন্যান্য দেশের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে বাংলাদেশেও। সরকারি হিসেবে এতে অন্তত ১৪৮ জন মানুষ মারা গেছেন আর আক্রান্ত হয়েছে লক্ষাধিক মানুষ। এছাড়া গেল বছরের মধ্যভাগে আরেক ভাইরাসেরও দেখা মিলেছে। আফ্রিকার কয়েকটি দেশে ভাইরাসটি মহামারি আকার ধারণ না করলেও নিপাতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বেশ কিছু মানুষ।

সর্বশেষ বিশ্বজুড়ে যেই ভাইরাস আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে তার নাম করোনা। গেল ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া করোনা ভাইরাসে ইতোমধ্যে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ১৬ জন মানুষ। বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী এই ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ২৫টি দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। যদিও অনেকেই ধারণা করছেন এর সংখ্যা ৫ লক্ষ ছাড়িয়েছে।

শুধু ভাইরাস আর দাবানলেই শেষ নয়, বিশ্বজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে পঙ্গপাল। গেল কয়েকদিনে বিশ্বের অন্তত ৪৬টি দেশের কয়েক কোটি হেক্টর জমির ফসল নষ্ট করেছে তারা। এতে দেশগুলোতে খাদ্য সংকটে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। আর বিপর্যয় মোকাবিলায় ৭ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের তহবিল গঠনের আহ্বান জানিয়েছে এফএও।

এই বিপর্যগুলো মধ্যেই বছরের শুরুতে ইরানের প্রভাবশালী জেনারেল কাশেম সোলেইমানির হত্যাকে কেন্দ্র করে মধ্য প্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই যুদ্ধ লেগে গেলে তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধের আশঙ্কা করেছিলেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। যদিও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।

দাবানল, ভাইরাস, পঙ্গপালে বিশ্বজুড়ে ধারাবাহিকভাবে যে বিপর্যয় শুরু হয়েছে এখন প্রশ্ন উঠেছে এরপর কী?

গত কয়েক শতক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিশ্বজুড়ে প্রতি এক’শ বছরে নাকি এমনভাবে ধেয়ে আসে একটি মহামারি। যাতে প্রাণ হারায় কয়েক লাখ মানুষ। সে হিসেবে ১৭২০ সালে প্লেগে বিশ্বজুড়ে মারা গেছে অন্তত ২০ কোটি মানুষ। ১৮২০ সালে ভারত ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় কলেরার বলি হন কয়েক লক্ষ মানুষ। আর সর্বশেষ ১৯২০ সালে স্প্যানিশ ফ্লুতে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়। এখন প্রশ্ন, ২০২০ সালে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াবে কতো?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

two × 3 =