Templates by BIGtheme NET
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং, ১৬ ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ৩ রজব, ১৪৪১ হিজরী

যে কারণে বাদুর বারবার মহামারীর খলনায়ক

প্রকাশের সময়: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২০, ২:৫৪ অপরাহ্ণ

অধিকাংশ মারাত্মক ভাইরাসের বাহক হিসেবে বারবার বাঁদুরের নাম উঠে এসেছে। চীনে করোনাভাইরাসের বাহক হিসেবেও শুরুতেই বাঁদুরের নাম উঠে আসে। এরপর দ্বিতীয় বাহক হিসেবে সাপের কথা বলা হলেও অধিকাংশ বিজ্ঞানী তা নাকচ করে দেন।

বিজ্ঞান সাময়িকী ল্যানসেটে ২৯ জানুয়ারি প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে চীনের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের অধ্যাপক গিঝেন উ বলেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, প্রাথমিক পোষক হিসেবে বাঁদুর যেসব ভাইরাস বহন করে সেগুলোর সঙ্গে নতুন করোনাভাইরাসের বৈশিষ্ট্য সঙ্গতিপূর্ণ।

প্রতিবেদনে বাঁদুরকে বলা হয়, ‘ভয়ঙ্কর জৈব খলনায়ক’। পাখাবিশিষ্ট এ স্তন্যপায়ী মারবার্গ, নিপাহ ও হেন্ড্রার মতো প্রাণঘাতি ভাইরাসের বাহক। এ প্রাণী থেকে মানুষে রোগ সংক্রমণের ঘটনা বেশি। এক দশকের মধ্যে উগান্ডা, মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ায় এসব রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

এছাড়া ইবোলা, র্যাবিস, সার্স এবং মার্স ভাইরাসের প্রাকৃতিক পোষকও বাঁদুর। এসব ভাইরাস ছড়ানোর ক্ষেত্রে কখনো কখনো মধ্যবর্তী বাহকও থাকে। ২০০৩ সালে সার্স ভাইরাস বাঁদুর থেকে সিভেট ক্যাট (খাটাশ) থেকে মানুষে ছড়িয়েছিল। এছাড়া ২০০০ সালের দিকে মার্স ভাইরাস ছড়িয়ে ছিল উটের মাধ্যমে।

মারাত্মক ভাইরাসের বাহক বাঁদুরই কেন? এর ব্যাখ্যায় বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাঁদুরের ১ হাজার ৩০০টিরও বেশি প্রজাতি রয়েছে। তীক্ষ্ণদন্ত স্তন্যপায়ীর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রজাতি বাঁদুর। এন্টার্কটিকা ছাড়া সব মহাদেশেই ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির বাঁদুর রয়েছে।

স্থলচর প্রাণীর মধ্যে বাঁদুরের জীবনকাল তুলনামূলক বেশি। একসঙ্গে অনেক এমনকি লাখ লাখ বাঁদুরও কোনো গুহায় ঘনিষ্ঠভাবে বসবাস করতে পারে। এ কারণেই এদের ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি এবং দ্রুতই পুরো দলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

একমাত্র র্যাবিস ছাড়া এসব ভাইরাস বাঁদুরের কোনো ক্ষতি করতে পারে না। স্তন্যপায়ী হলেও উড়তে পারা বাঁদুরের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য যা তাকে অনেক রোগ থেকেই রক্ষা করে। উড়ার সময় বাঁদুরের বিপাক ক্রিয়া ও শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। এটি মানুষ ও অন্যান্য স্তন্যপায়ীর জ্বর হলে যেমন হয় তেমনই হয়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এ বৈশিষ্ট্য বাঁদুরের শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দিয়েছে, ফলে ভাইরাসের প্রতি তাদের শরীর বেশ সহনশীল।

২০১৭ সালের এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দাবি করেন, অন্য যেকোনো প্রাণী প্রজাতির চেয়ে বাঁদুর বেশি বিপজ্জনক ভাইরাস বহন করে। ১৮৮টি জ্ঞাত জুনোটিক ভাইরাসের আচরণ নিয়ে করা ওই গবেষণায় দেখা গেছে, অন্য স্তন্যপায়ী প্রাণীদের চেয়ে বাঁদুরই এসব ভাইরাস প্রজাতির মধ্যে বেশি সংখ্যকের বাহক বা পোষক।

দ্রুত নির্বিচারে বন নিধন ও নগরায়নের ফলে বাঁদুরের আবাস নষ্ট হচ্ছে। তারা চীন, বাংলাদেশ, ভারতের মতো জনবসতি দেশের মানুষের কাছাকাছি বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে করোনা ভাইরাসের মতো মারাত্মক জীবাণুতে আক্রান্ত হওয়া ও মহামারীর আশঙ্কা বাড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

6 − six =