Templates by BIGtheme NET
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং, ১৬ ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ৩ রজব, ১৪৪১ হিজরী

৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০
যৌনকর্মীদের এক মোড় ঘোরানো অধ্যায়

প্রকাশের সময়: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশে যৌনকর্মীদের জন্য গত ৬ই ফেব্রুয়ারির দিন ছিল এক মোড় ঘোরানো অধ্যায়। অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়েছিল সেদিন।

রাজবাড়ির দৌলতদিয়ায় বহু পুরনো যৌন-পল্লীতে প্রথমবারের মত একজন যৌনকর্মীর পুরোপুরি ইসলামি প্রথা মেনে জানাজা পড়িয়ে দাফন হয়েছে। পরে আয়োজন করা হয়েছে চেহলামেরও।

বিভিন্ন অঞ্চলের প্রথা অনুযায়ী যৌনকর্মীদের মৃত্যু হলে তাদের জানাজা পড়াতে মৌলভীরা রাজী হন না।

সাধারণত মৃত যৌনকর্মীদের গোপনে কবর দেয়া হয়, অথবা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

তবে ওই দিন দৌলতদিয়া ঘাটে প্রয়াত যৌনকর্মী হামিদা বেগমের ক্ষেত্রে যা ঘটেছে, তা সত্যিকার অর্থেই ব্যতিক্রম।

জানা গেছে, হামিদা বেগমের জানাজায় হাজির ছিলেন প্রায় দুশ মানুষ। আর চেহলামের দাওয়াতে সাড়া দিয়েছিলেন চারশোরও বেশি লোক।

জানাজায় অংশ নিতে মানুষ অনেক রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলেন। তখন যৌনকর্মীদের চোখে পানি টলটল করছিল।

প্রয়াত হামিদা বেগম ছিলেন স্থানীয় যৌনপল্লীর নেত্রী। তাই নেত্রীর জানাজা পড়ানোর দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন বহু যৌনকর্মী।

মৃত্যুর পর যৌনকর্মীদের করুণ পরিণতি সম্পর্কে এক যৌনকর্মী বলেন, ‘আমরা যদি কাউকে দাফন করতে যেতাম, গ্রামবাসীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের তাড়া করতো।’

প্রয়াত হামিদা বেগমের মেয়ে লক্ষ্মী, যিনি নিজেও একজন যৌনকর্মী, তাকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ‘আমি স্বপ্নেও ভাবিনি যে এত সম্মানের সাথে আমার মায়ের শেষ বিদায় হবে। আমার মাকে মানুষ হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে।’

হামিদা বেগমের জানাজা পড়াতে ইমামকে রাজী করাতে ভূমিকা রেখেছিলেন স্থানীয় পুলিশ প্রধান আশিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘ইসলামে কি কোথাও নির্দেশ আছে যে যৌনকর্মীর জানাজা পড়ানো নিষেধ? আমার এই প্রশ্নের কোনো উত্তর ইমাম সাহেবের ছিল না। পরে ঐ ইমাম জানাজা পড়াতে রাজী হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ten − six =