Templates by BIGtheme NET
২৯ মার্চ, ২০২০ ইং, ১৫ চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ৪ শাবান, ১৪৪১ হিজরী

করোনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ
শুধু হ্যান্ড স্যানিটাইজারই নয়, কার্যকর সাবানও !

প্রকাশের সময়: মার্চ ২২, ২০২০, ২:২৭ অপরাহ্ণ

এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের ভ্যাক্সিন আবিষ্কার না হওয়ায় সচেতনতাই এ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়। এরই অংশ হিসেবে সচেতনতার প্রধান ধাপ বলা হয়ে থাকে বারবার হাত ধোঁয়ার বিষয়টিকে। এ ক্ষেত্রে অনেকেই ঝুঁকছেন হ্যান্ড স্যানিটাইজারের দিকে। অনেকে আবার সংক্রমণ ঠেকাতে বেছে নিচ্ছেন সাবানকেও।

তবে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের মতো সাবানও করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকর বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। তারা বলেন, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করে। সাবানও ভাইরাসটিকে হাত থেকে পানির সাহায্যে নিষ্ক্রিয়ের মাধ্যমে দূরীভূত করে।

জানা গেছে, করোনাভাইরাসের অভ্যন্তরে নিউক্লিক এসিড হিসেবে থাকে RNA, যেটিকে চতুর্দিক হতে ঘিরে রাখে একটি প্রোটিন আবরণ। সম্পূর্ণ প্রোটিন আবরণ আবার লিপোপ্রোটিন নির্মিত আরেকটি আবরণে আবৃত থাকে যাকে বলে এনভেলাপ। এখানে যে কোনো হ্যান্ড স্যানিটাইজার অথবা সাবান ভাইরাসের এই এনভেলাপ এবং প্রোটিনকে ভেঙে দেয়। ফলে ভাইরাস মারা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস আমহার্স্টের একজন গবেষক বলেন, হ্যান্ড স্যানিটাইজার হচ্ছে জীবাণুনাশক এমন একটি মিশ্রণ যার মূল উপাদান হচ্ছে অ্যালকোহল। স্যানিটাইজার তরল, অর্ধ তরল জেলসহ বিভিন্ন রূপে তৈরি করা গেলেও জেল রূপেই বেশি দেখা যায়। এতে গ্লিসারিন, সুগন্ধি প্রভৃতি যোগ করে ব্যবহার উপযোগী করা হয়ে থাকে। তবে মনে রাখতে হবে, যেকোনো হ্যান্ড স্যানিটাইজারকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে ভালো কাজ করতে হলে অবশ্যই এতে ৬০% এর বেশি পরিমাণ অ্যালকোহল থাকতে হবে।

এদিকে, সাবানের মূল উপাদান হচ্ছে সোডিয়াম স্টিয়ারেট বা পটাশিয়াম স্টিয়ারেট যেটি ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম অথবা পটাশিয়াম লবণ। এই সোডিয়াম বা পটাশিয়াম স্টিয়ারেটের অণুতে দুটি প্রান্ত রয়েছে- হাইড্রোফিলিক প্রান্ত এবং লিপোফিলিক প্রান্ত। হাইড্রোফিলিক প্রান্ত পানির প্রতি এবং লিপোফিলিক প্রান্ত লিপিডের প্রতি আকৃষ্ট হয়। আমাদের ত্বকে এবং হাতে তৈলাক্ত পদার্থের আবরণ থাকে। যখন আমরা সাবান দিয়ে হাত ধুই, তখন সাবানের অসংখ্য অণু তার লিপোফিলিক প্রান্ত দিয়ে ভাইরাসের লিপিড নির্মিত এনভেলাপকে চারদিক হতে ঘিরে ফেলে। এরপর যখন আমরা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলি তখন হাইড্রোফিলিক প্রান্ত পানিতে দ্রবীভূত হয়ে সম্পূর্ণ ভাইরাস কণাটিকে পানিতে দ্রবীভূত করে।

পরবর্তীতে নিষ্ক্রিয় ভাইরাস কণাটি পানির সাথে চলে গিয়ে হাত ভাইরাস মুক্ত হয়। এছাড়া সাবান হাতের তৈলাক্ত আবরণকে দূরীভূত করে হাতে ভাইরাস আশ্রয়ের সম্ভাবনাও কমিয়ে দেয়। যার ফলে সাবানকেই এগিয়ে রাখছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

seven + 7 =