Templates by BIGtheme NET
৩১ মে, ২০২০ ইং, ১৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৭ শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী

কোভিড ১৯ এর ভিন্ন আচরণ
বাংলাদেশে করোনার প্রকোপ কম কেন?  

প্রকাশের সময়: এপ্রিল ২, ২০২০, ৪:০২ অপরাহ্ণ

বিশ্বব্যাপী যে দেশগুলোতে ব্যাপকভাবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে সেখানে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি। অথচ ব্যপক মৃত্যুহারে জর্জরিত দেশগুলো বাংলাদেশ বা ভারতের চেয়ে কম ঘনবসতিপূর্ণ  ও চিকিৎসা ব্যবস্থায় সমৃদ্ধ।

করোনা সংক্রমনের ৫৯ দিনে ইতালীতে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এ সংখ্যা আরো বেশি। অথচ এর অর্ধেক সময়ে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমনের মাত্রা অনেক কম।

 

বাংলাদেশে করোনার প্রাদুর্ভাব কম কেন?

বাংলাদেশ বা ভারতে জনানুপাতিক হারে করোনা সংক্রমনের হার কেন কম তা নিয়ে ইতিমধ্যে নানান মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে যে কোন সময়ই সংক্রমনের হার বাড়তে পারে বলে মনে করেন তারা।

ভাইরোলজিষ্টের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে ভাইরাসটি এসেছে ইতালি থেকে। সেদেশে করোনা মহামারি আকার নিলেও বাংলাদেশে তা পরিলক্ষিত হয়নি। এক্ষেত্রে যিনি ভাইরাসটি বহণ করে এনেছেন তার ভূমিকাটি গুরুত্বপূর্ণ। একটা দেশের মানুষজনের জীনগত বৈশিষ্ট্যের উপরেও অনেক সময় রোগের প্রাদুর্ভাবের সম্পর্ক থাকে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, “একটা ভাইরাস আছে যেটা আফ্রিকানদের যখন আক্রান্ত করে তখন তাদের  ক্যান্সার হয়। আর সেটা যখন চীনাদের আক্রান্ত করে তখন তাদের নেজো-ফেরেঞ্জিয়াল কার্সিনোমা হয়। অর্থাৎ একই ভাইরাস সবসময় একই ধরনের রোগ সৃষ্টি করে না। মানুষ বা জাতি ভেদে রোগের প্যাটার্নও পরিবর্তন হয়।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ হেলথ সায়েন্সেস-এর এপিডোমোলজি বিভাগের প্রধান ড. প্রদীপ কুমার সেনগুপ্ত বলছেন, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা একটা ফ্যাক্টর হতে পারে। তবে এটি একটি হাইপোথিসিস, গবেষণা না করে এটি গ্রহণ বা নাকচ কোনটিই করা সম্ভব নয়।

তবে আরেকটি মজার তথ্য হচ্ছে,  আশির দশক থেকে বাংলাদেশের সব শিশুকে জন্মের পর ছয়টি টিকা দেয়ার কর্মসূচি সরকারীভাবে চালু আছে। এই ছয়টির একটি টিকার নাম বিসিজি, যা যক্ষা রোধে দেয়া হতো। বিজ্ঞানীরা বলছেন এই বিসিজি ভ্যাকসিনটি করোনার প্রাদুর্ভাব কমিয়ে ফেলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির কলেজ অব অস্টিওপ্যাথিক মেডিসিনের এক গবেষণায় জানানো হয়েছে।  করোনা আক্রান্ত রোগীদের প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, জীবনে যারা  একবার বিসিজি টিকা নিয়েছেন তারা এই রোগটি প্রতিরোধ করতে পারেন।

নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির কলেজ অব অস্টিওপ্যাথিক মেডিসিন বলছে, যেসব দেশে বিসিজি টিকাদান কর্মসূচি নেই- যেমন ইতালি, নেদারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র; এসব দেশে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি। তবে টিকাদান কর্মসূচি যেখানে আছে; সেখানে করোনায় আক্রান্তের প্রবণতা কম।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারতে এই টিকাদান কর্মসূচি বহু বছর ধরে চালু আছে।

এই হাইপোথিসিসটি বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।  ১৯২০ সালে আবিস্কৃত এই ভ্যাকসিনটি এখন অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপের কিছু দেশ পরীক্ষা করে দেখতে চাচ্ছে যে, কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে এটি কাজ করে কিনা।

এদিকে নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির কলেজ অব অস্টিওপ্যাথিক মেডিসিনের অধ্যাপক ডা. গঞ্জালো ওটাজু বলেন, যক্ষা ও শ্বাসকষ্টের সংক্রমণ রোধে  ‘বিসিজি নামের এই ভ্যাকসিন যে উপকারী তার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।’

আফ্রিকার গিনি-বিসাউতে বিসিজির মাধ্যমে টিকা দেয়া শিশুদের সামগ্রিক মৃত্যুহার ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

twenty − seven =