Templates by BIGtheme NET
৩১ মে, ২০২০ ইং, ১৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৭ শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী

গোটা বিশ্ব করোনায় লণ্ডভণ্ড, ফাঁকা শহরাঞ্চল

প্রকাশের সময়: এপ্রিল ২, ২০২০, ৪:২২ অপরাহ্ণ

করোনাভাইরাসের প্রাদূর্ভাব নিয়ে কোথাও কোনো সুখবর নেই। গোটা বিশ্ব এক প্রকার লণ্ডভণ্ড অবস্থা। দিনে দিনে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি অভিবাসী সূত্রে জানা যায়-

ইতালির পরেই স্পেনে করোনার প্রাদূর্ভাব সব থেকে বেশি। স্থানীয় মিডিয়ার জরিপে উঠে এসেছে এখন স্পেনের প্রায় ৯৭ শতাংশ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে আছে। বিশেষ দরকার ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। শহরাঞ্চল একদম ফাঁকা, সুনশান।

স্পেনের হাসপাতালগুলোর দুরাবস্থা তুলে ধরতে গিয়ে একজন চিকিৎসক বলেছেন, হাসপাতালে মারা যাওয়ার চেয়ে বাসায় মৃত্যুকে বরণ করে নেওয়া ভালো। চিকিৎসকের এই কথা থেকে বোঝা যায় স্পেনের হাসপাতালগুলো এখন কী করুণ পরিস্থিতির মধ্যে আছে।’

স্পেনে প্রায় ৪০ হাজার বাংলাদেশি অভিবাসী বসবাস করেন। এর মধ্যে একজনের মৃত্যুসহ প্রায় অর্ধশতাধিক বাংলাদেশি আক্রান্ত হওয়ার সংবাদ নিশ্চিত হওয়া গেছে।’

ইতালির হটস্পট মিলানে এখন আর করোনাক্রান্তের সংবাদ দেখতে বা বলতে ভালো লাগে না। সবাই আতঙ্কের মধ্যে আছে। আজ সংক্রমণের মাত্রা কিছু কমে তো কাল আবার বেড়ে যায়। কোথাও কোনো সুখবর নেই।’

প্রতিদিনই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ছে। সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে মানুষের পাশে থাকতে। কিন্তু, সংক্রমণের মাত্রা যদি কমিয়ে আনা না যায় তবে কতক্ষণ টিকে থাকা যাবে সেটাই এখন বড় দাগের প্রশ্ন হয়ে উঠে এসেছে।

অষ্ট্রেলিয়ার অবস্থা এখনো ভয়াবহ আকার ধারণ না করলেও প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। মানুষের মধ্যে ভয়, আতঙ্ক বাড়ছে। সরকার থেকে মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হলেও মানুষের আতঙ্ক কমছে না।

মেলবোর্ন অষ্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় আক্রান্ত অঞ্চল। এখানকার অন্য সব বাসিন্দাদের মতো বাংলাদেশি অভিবাসীরাও চরম দুঃসময় পার করছেন।’

আমেরিকার কিছু অঞ্চলে লকডাউন করা হয়েছে। তবে অনেকেই এখনো করোনা সংক্রমণকে গুরুত্বে নিতে চাইছে না। তারা আগের মতোই প্রটেকশন ছাড়া ঘোরাফেরা করছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সবাইকে সতর্ক করে বলেছেন, আগামী দুই সপ্তাহে আমাদের জন্য আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।’

লন্ডনে প্রতিদিনই পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। এখনি যদি শতভাগ লকডাউন করা না হয় তবে আরও খারাপ পরিস্থিতিকে আহবান করা হবে।’

যৌথ পরিবারগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কোনোভাবে একজন আক্রান্ত হলে অন্যদের মধ্যেও তা ছড়াচ্ছে। এছাড়া সাহায্যকর্মী ও করোনা টেস্টের কিটের অভাব দেখা যাচ্ছে।সরকার থেকে আড়াই লাখ স্বেচ্ছাসেবক আহবান করা হয়েছে। জনগণের মধ্য থেকে এই আহবানে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে।

ডেনমার্কে আগে থেকেই লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। যে কারণে সংক্রমণের মাত্রা এখনো মহামারি আকার ধরণ করেনি। তবে প্রতিদিনই জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে। মানুষজন খাবারসহ নিত্য দরকারি জিনিস কিনে মজুত করছেন। ডেনমার্কে প্রায় আড়াই হাজার বাংলাদেশি অভিবাসী বসবাস করেন। তাদের কেউ এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়নি।

পর্তুগালে প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি অভিবাসী বসবাস করেন। তাদের সবাই এখন পর্যন্ত ভালো আছেন। দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। খাবারের দোকান ও ওষুধের দোকান ছাড়া সব বন্ধ।

ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো পর্তুগালে সরকার থেকে এখন পর্যন্ত জনগণের জন্য বিশেষ কোনো অর্থিক সহযোগিতার ঘোষণা দিতে শোনা যায়নি।

পোল্যান্ডে সরাসরি লকডাউন করা না হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পার্ক, সিনেমা হলসহ জনসমাগম হয় এমন সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে ঘোরাঘুরির উপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিনিয়ত মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। বিশেষ করে হাসপাতালগুলো থেকে সাধারণ রোগীরা ভয়ে বাসায় চলে যাচ্ছেন।’

পোল্যান্ডে প্রায় ৪০ হাজার বাংলাদেশি অভিবাসী রয়েছেন। এর বড় অংশ রেস্টুরেন্টে কাজ করেন। কিন্তু, রেস্টুরেন্টগুলোয় বসে খাওয়া বন্ধ করা হলেও টেকঅ্যাওয়ের ব্যবস্থা চালু আছে বিধায় কেউ এখনো চাকরিহারা হননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

2 × four =