Templates by BIGtheme NET
২৮ মে, ২০২০ ইং, ১৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৪ শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী

করোনা মোকাবেলায় নীরবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশের সময়: মে ৭, ২০২০, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ

দেশে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনাভাইরাসের আক্রমণ। করোনা মোকাবেলায় এগিয়ে এসেছে অনেকেই। বিভিন্নভাবে এগিয়ে এসেছে বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়। পিছিয়ে নেই ময়মনসিংহে অবস্থিত কৃষি শিক্ষার আতুঁড়ঘর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ও (বাকৃবি)। ঢাক ঢোল না পিটিয়ে এরকম নীরবেই কাজ করে যাচ্ছে কৃষি শিক্ষার এই স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানটি।

দেশে যখন করোনাভাইরাস পরীক্ষার সহজ ও স্বল্পমূল্যের পদ্ধতি উদ্ভাবিত হলো তার নের্তেৃত্বে ছিলেন ড. বীজন কুমার শীল, তিনিও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। বিশ্বব্যাপী যখন করোনাভাইরাস মোকাবিলায় রোগ শনাক্তে কিট সংকটে ভুগছে তখন বাংলাদেশি এই বিজ্ঞানী মানুষের পাশে দাঁড়ালেন। তিনি ঘোষণা দিলেন, তার উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে মাত্র ৫ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে শনাক্ত করা যাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ হয়েছে কি না? কেবল ড. বীজনই নয়, বাকৃবির আরো বেশ কিছু গবেষক করোনা মোকাবেলায় এমন গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন।

এ ছাড়াও ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই করোনাভাইরাস পরীক্ষা করতে কাজ করছেন বাকৃবির একদল প্রশিক্ষিত শিক্ষক ও গবেষকরা। এ ছাড়াও ময়মনসিংহ অঞ্চলে যেন আরো বেশি সংখ্যক করোনা টেস্ট করা যায় সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অত্যাধুনিক পিসিআর মেশিনটিও ব্যবহার করার জন্য দিয়েছে বাকৃবি। জামালপুরে স্থাপিত করোনাভাইরাস টেস্ট সেন্টারেও কাজ করছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাবল্যাবে তৈরি ফেসশীল ময়মনসিংহ অঞ্চলের চিকিৎসক, পুলিশ কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের মাঝে বিতরণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

এ ছাড়াও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) পক্ষ থেকে পিপিই বিতরণ, মৎস্য-গবাদিপশুর চিকিৎসা তথা কৃষি সেক্টরের জন্য টেলিমেডিশন সেবা চালু, হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরী সেবাদাতাদের মধ্যে বিতরণ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অর্থ প্রদান, শিক্ষক সমিতির মাধ্যমে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থী, হলের কর্মচারী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ্ববর্তী এলাকাবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এ ধরণের কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারাও ব্যক্তিগতভাবেও অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এগিয়ে এসেছেন বাকৃবি ছাত্রলীগসহ ক্যাম্পাসের অনান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনও। আবার চলমান শ্রমিক সংকটের সময় বোরো ধান কেটে দিয়ে কৃষকের পাশে দাড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তারা ও কর্মচারীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, করোনা মোকাবেলার এ চ্যালেঞ্জটি আমাদের সবার। সাবধানতা বজায় রেখে সর্বোচ্চটুকু দিয়ে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করে যাচ্ছে। কৃষিই দেশের মূল চালিকা শক্তি, করোনার এই সময়ে ও পরবর্তীতে কৃষি নিয়ে যেন আমরা সমস্যায় না পড়ি সেজন্য গবেষণা কার্যক্রম অব্যহত রেখেছি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

6 + seven =