Templates by BIGtheme NET
৩১ মে, ২০২০ ইং, ১৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৭ শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী

করোনা মোকাবিলা
গৃহীত পদক্ষেপ কতটুকু কার্যকর?

প্রকাশের সময়: মে ২৪, ২০২০, ১:০১ পূর্বাহ্ণ

করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকার সাধারণ ছুটি, সন্দেহভাজনদের কোয়ারেন্টিনে রাখা,গণপরিবহন বন্ধ,বিশেষায়িত হাসপাতাল বরাদ্দ,প্রণোদনা প্রদান ও আর্থিক সহায়তা প্যাকেজসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার মাধ্যমে দেশে করোনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়া রোধ এবং এখন অবধি সামাজিক ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞগণ।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হওয়ার পর সামাজিক সচেতনতার জন্য সবক’টি টেলিভিশন ও পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু হয়।

এরপর আশকোন ও উত্তরার দিয়াবাড়িতে সরকারি কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা হয়। যেখানে বিদেশ ফেরৎ রাখা হয়।

করোনা মোকাবেলায় রাজধানীর কয়েকটি বিশেষায়িত হাসপাতালকে বরাদ্ধ দেওয়া হয়। এতে প্রাথমিক দিকে চিকিৎসা সমস্যা সমাধান হয়।

এরপর ১৮ মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ২১ মার্চ থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল ও ২৪ মার্চ থেকে সারাদেশে গণপরিবহণ বন্ধ করা হয়। আর ২৬ মার্চ থেকে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানকে সাধারণ ছুটির আওতায় আনা হয়।
এসব পদক্ষেপের কারণে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে করোনা ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েনি।

কিট সংকটের কারণে প্রথমদিকে নমুনা পরীক্ষার ধীরগতি থাকলেও সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এর সমাধান হয়েছে। যার ফলে এখন প্রতিদিন ১০ হাজারেরও বেশি পরীক্ষা হচ্ছে। এতে যেমন নতুন সংক্রমণে ঝুঁকি কমেছে তেমনি অন্যান্য দেশের চেয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও বাংলাদেশে কম।

এছাড়া বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করার মাধ্যমে দেশের একটি বড় অংশ মানুষকে সহায়তার আওতায় এনেছে সরকার।

গত ৫ এপ্রিল সর্বপ্রথম ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা ঋণ প্যাকেজ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার আওতায় আনা হয় বিপুল পরিমাণ মানুষকে।

এরপরই ১৯ মার্চ আরও ২০০ কোটি টাকা বরাদ্ধ করে অর্থ বিভাগ।

সব মিলিয়ে ১ লাখ ১ হাজার ১৭ কোটি টাকার ১৮টি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। যার ফলে দেশের অর্থনৈতিক সংকট সমাধান হয়।

৭ এপ্রিল করোনায় মোকাবেলায় দায়িত্ব পালনের সময় কোন চিকিৎসক আক্রান্ত হলে তাদের জন্য পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকার স্বাস্থ্য বিমা ঘোষণা করেন। কেউ মারা গেলে স্বাস্থ্য বিমার পরিমাণ পাঁচগুণ বেশি হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

গত ১২ এপ্রিল করোনা মোকাবিলায় প্রান্তিক পযার্য়ের ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে যাদের নামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কোনো কার্ড নেই এমন দরিদ্র ও নিম্ন বিত্তদের অন্তর্ভুক্ত করে তালিকা তৈরি করে কার্ডের মাধ্যমে ওএমএসের ১০ টাকা কেজি চাল দেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়।

সাধারণ ছুটির সময়ে যে ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কমপক্ষে দশ কার্যদিবস স্বশরীরে ব্যাংকে কর্মরত থাকলে তা পূর্ণমাস হিসেবে গণ্য হবে।

ব্যাংকের স্থায়ী পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী তাদের স্ব স্ব মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ মাসিক বিশেষ প্রণোদনা ভাতা হিসেবে পাবেন। যারা অস্থায়ী বা চুক্তি ভিত্তিক ও যাদের মূল বেতন আলাদাভাবে নির্ধারিত নেই তারা মাসিক মোট বেতন-ভাতার ৬৫ শতাংশ মাসিক বিশেষ প্রণোদনা ভাতা হিসেবে পাবেন।

এছাড়া সারাদেশের দরিদ্র মানুষদের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করা, সকল মসজিদে এককালীন ৫ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেওয়া ও ৫০ লাখ দরিদ্র মানুষকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ২৫০০ টাকা করে ঈদ উপহারের ব্যবস্থা করেছে সরকার।

বিশ্লেষকগণ মনে করছেন
সরকারে এসব পদক্ষেপের কারণে একদিকে করোনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার গতি যেমন মন্থর হয়েছে তেমনি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় নিন্মবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের মধ্যে স্বস্থি ফিরেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

six + six =