Templates by BIGtheme NET
১৩ জুলাই, ২০২০ ইং, ২৯ আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২১ জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী

লকডাউনে প্রতিদিন ৩৩০০ কোটি টাকা লোকসান!

প্রকাশের সময়: মে ৩০, ২০২০, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ

চলমান লকডাউনে কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে তার কোনো সরকারি হিসাব এখনও আসেনি। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক সমীক্ষা করে বলছেন, দেশে লকডাউনে প্রতিদিনের অর্থনৈতিক ক্ষতি প্রায় ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বেশি।
গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সবাইকে ঘরে থাকার পরামর্শ দেয় সরকার।

লকডাউনের একমাস পর বাংলাদেশ কী পরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে প্রাথমিকভাবে তার একটি ধারণা দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের গবেষক দল।

এপ্রিলের পর মে মাসেও এই ছুটি চলমান রয়েছে। অর্থাৎ এই সমীক্ষা অনুযায়ী অর্থনৈতিক ক্ষতি এখনও হচ্ছে।

সমীক্ষায় বলা হয়েছে, প্রথম মাসের অর্থনৈতিক ক্ষতি ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি। যা জাতীয় বাৎসরিক বাজেটের প্রায় এক তৃতীয়াংশ। মে মাসে এই ক্ষতি দ্বিগুণ হয়ে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। যা জাতীয় বাজেটের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ এবং জিডিপির প্রায় ৯ শতাংশ।

জুন মাসেও যদি এই ছুটি অব্যাহত রাখা হয় তাহলে এর ক্ষতি মোট বাজেটকে ছাড়িয়ে যাবে।

গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, প্রতিদিনের এই চলতি ক্ষতির পরিমাণ লকডাউন অবস্থার মেয়াদ বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়তে থাকবে। তাই ক্ষতি প্রশমনে বাংলাদেশকে এই মুহূর্তে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবতে হবে।”
এ ক্ষেত্রে অর্থনীতির তিনটি বড় খাত- কৃষি, শিল্প ও সেবা খাত ধরে ক্ষতির হিসেব সমীক্ষা প্রতিবেদনে দেয়া হয়েছে।

কৃষি খাতে ক্ষতি ২০০ কোটি টাকা :

কৃষির মধ্যে রয়েছে শস্য উৎপাদন, প্রাণি সম্পদ ও মৎস্য সম্পদ। লকডাউনে কৃষির উৎপাদন না কমলেও বাজার অর্থনীতির প্রভাবে কৃষিপণ্যের বিক্রি ও দাম কমেছে। ফলে কৃষি অর্থনীতিতে প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।

শিল্প খাতে ক্ষতি ১১৩১ কোটি টাকা :

বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহৎ শিল্প গার্মেন্টসসহ ছোট বড় সব ধরনের কারখানা এই শিল্পের অন্তর্ভূক্ত। দৈনিক উৎপাদন, পণ্যের বিক্রি বা বৈদেশিক মুদ্রার আয়, শ্রমিকদের আর্থিক সঞ্চালন নিম্নমুখি হওয়ায় এর ক্ষতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ হিসাবে শিল্প খাতে দিনে ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ১৩১ কোটি টাকা।

সেবা খাতের ক্ষতি ২ হাজার কোটি টাকা :

অর্থনৈতিক ক্ষতি সবচেয়ে প্রকট আকার ধারণ করেছে সেবা খাতে। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী বেচা-কেনা (দোকান বা ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান) এবং জরুরি সেবা, সব ধরনের যোগাযোগ (সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশ পথ), পর্যটন, হোটেল ও রেস্টুরেন্ট, রিয়েল এস্টেটসহ সব ধরনের সেবা একেবারেই বন্ধ।

সব মিলিয়ে সেবা খাতে প্রতি দিনের অনুমিত চলতি ক্ষতির পরিমাণ কমপক্ষে ২ হাজার কোটি টাকা ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

four × four =