Templates by BIGtheme NET
১৩ জুলাই, ২০২০ ইং, ২৯ আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২১ জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী

‘প্লাজমা’ দান করা জায়েজ নাকি না-জায়েজ?

প্রকাশের সময়: মে ৩০, ২০২০, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ

 

বিশ্বজুড়ে চলছে মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাব। গত ৬ মাসে এ রোগে প্রাণ হারিয়েছে সাড়ে তিন লাখেরও বেশি। তবে এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের প্লাজমা থেরাপি দিলে তারাও সুস্থ হয়ে উঠছেন দ্রুত। কিন্তু এ প্লাজমা থেরাপির ধরণ ভিন্ন।তাই এ নিয়ে কিছু সংশয় রয়েছে অনেকের মনে।

কোনো ব্যক্তি ভাইরাসজনিত রোগ থেকে যখন সুস্থ হয়ে ওঠে, তখন সেই ব্যক্তির দেহে ওই রোগের একটা প্রতিরোধ শক্তি তৈরি হয়। চিকিৎসকরা এই প্রতিরোধ শক্তিকেই বলেন ‘অ্যান্টিবডি’। সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তির শরীর থেকে রক্তের বিশেষ পদার্থ বা অংশ ‘প্লাজমা’ ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত অন্য ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করালে অন্য রোগীও সুস্থ হয়ে যায়।

সুস্থ হওয়া ব্যক্তির শরীরের ‘অ্যান্টিবডি’ রোগাক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ভাইরাস প্রতিরোধ শক্তি তৈরি করে। এটাকে চিকিৎসকরা প্লাজমা থেরাপি বলে থাকেন। কিছু শর্ত সাপেক্ষে এই প্লাজমা থেরাপি শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ।

ইসলামিক স্কলারদের মতে, প্লাজমা দেয়া বৈধ। প্লাজমা দান ও গ্রহণ করা রক্ত দেয়া-নেয়ার মতোই একটি বিষয়। ফোকাহায়ে কেরাম রক্তদান করা এবং গ্রহণ করাকে অনেক আগেই বৈধতার পক্ষে মতামত দিয়েছেন। কিন্তু সাধারণত রক্ত যেমন বেচা-কেনা করা অবৈধ, তেমনি প্লাজমাও বেচা-কেনা করাও অবৈধ।

তবে প্লাজমা দাতার পক্ষ থেকে যদি কোন শর্ত বা প্রত্যাশা না থাকে তারপরও করোনা আক্রান্ত কোনো ধনাঢ্য বা সাধারণ সচ্ছল ব্যক্তি যদি প্লাজমা দাতাকে কোন কিছু দেন তবে তা উপঢৌকন বা হাদিয়া উপহারের মতো গণ্য হবে। এটা জায়েজ। এ জাতীয় উপহার বিনিময়ের আওতায় পড়বে না, বরং সৌজন্যমূলক উপহার বা উপঢৌকনের আওতায় পড়বে।

অসুস্থ কোনো ব্যক্তি যদি রক্ত বা প্লাজমা এমনিতে না পায় বা তা সংগ্রহে অপারগ হয়, তবে ওই ব্যক্তি নিরূপায় হয়ে রক্ত বা প্লাজমা কেনা বৈধ হতে পারে কিন্তু তা কোনোভাবেই বিক্রয় করার সুযোগ নেই। তাই সাধারণভাবে প্লাজমা দান করা যাবে আর স্বেচ্ছায় দেয়া প্লাজমা গ্রহণও করা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

4 − 1 =