Templates by BIGtheme NET
৪ ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৮ রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

শেখ হাসিনা- সংকটের দক্ষ নাবিক

প্রকাশের সময়: জুলাই ৪, ২০২০, ৫:৩২ অপরাহ্ণ

বহুমাত্রিক সমস্যার সমাধানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিটি সমস্যার মূল চিহ্নিত করাসহ দ্রুত সিদ্ধান্ত দিতে পারঙ্গম তিনি।

৩ জুলাই ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি সান ‘‘ হাসিনা- দ্য বেস্ট ক্রাইসিস ম্যানেজার ’ শিরোনামে তেমন কিছু উদাহরণ তুলে ধরেছেন লেখক শওকত আলী খান। পাঠকদের জন্য তা উপস্থাপন করা হলো-

বাংলাদেশের বিভিন্ন সংকট নিরসনে অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিজের বিচক্ষণতা দিয়ে মূল সমস্যা চিহ্নিত করে অবিলম্বে সমাধানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন তিনি। বিশ্বব্যাপি করোনা মহামারির মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জনগণকে নিরাপদে রাখার পাশাপাশি অর্থনীতিকে সচল রাখার ব্যবস্থা করেছেন।

এ ছাড়াও উপকূলীয় অঞ্চলে মরার ওপর খাড়ার গা হয়ে আঘাত হানা সুপার সাইক্লোন আম্ফানে জনজীবন, সম্পদ ও ফসল ব্যাপক বিধ্বস্ত হওয়ার পরে শেখ হাসিনা আম্ফান পরবর্তী পরিস্থিতি দক্ষতার সাথে সামাল দিয়েছেন। তার নির্দেশনায় উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি ফসলেরও ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ সকল বাধা মোকাবেলা করে এগিয়ে চলেছে। সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রতিটি সঙ্কটের মোকাবেলা করেছেন সফলতার সাথে। শুধু প্রাকৃতিক দুযোগই নয়। রাজনৈতিক সংকটও সমানভাবে মোকাবেলা করে সফল হয়েছেন। ১/১১ হলো যার মধ্যে অন্যতম । ১/১১-এর পরিবর্তনের পরে সৃষ্ট রাজনৈতিক সঙ্কট তিনি সফলভাবে মোকাবেলা করেছেন। এরপর বিএনপি-জামায়াতের দুষ্ট রাজনীতিও তিনি সফলভাবে মোকাবেলা করেছেন। এ দেশের মানুষ শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রাখে এবং এটিই তার শক্তি। মানুষের আস্থার প্রতিদান দিতে তিনি চব্বিশ ঘন্টা কাজ করে যাচ্ছেন।

ঢাবির সাবেক এ ভিসি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে নোবেল জয়ী রসায়নবিদ প্রফেসর ইউয়ান টি লিও’র একটি মন্তব্য তুলে ধরেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা-টি লিও এর সাক্ষাৎ হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে টি লিও বলেন, “ অনেক দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমার দেখা হয়েছে। অনেক রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের কাছে তাদের নিজ দেশ সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। তবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সবার চেয়ে আলাদা। তিনি দেশের সব ধরণের তথ্য রাখেন। যদি তিনি যোগ্য সঙ্গী পান তবে তিনি দেশে জন্র উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবেন।’’ লিওর উদ্ধৃতি দিয়ে জানান আরেফিন সিদ্দিক।

গত মার্চের শুরুতে করোনা রোগী সংক্রমণ চিহ্নিত হওয়ার পর থেকেই দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া ও বেশিরভাগ অফিসিয়াল কাজ অনলাইনে সম্পাদনের ব্যবস্থা গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ ম্যাগাজিন ফোর্বস।

ফোর্বসের ওই নিবন্ধে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্ক্রিনিং ডিভাইস স্থাপন করে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে স্ক্রিনিং করে। এর মধ্যে ৩৭ হাজার মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা সম্ভব হয় যা ব্রিটেন সরকার এখনও করতে পারেনি।

বিশ্বব্যাপী সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতাদের যে পরামর্শ দিয়েছেন তারও প্রশংসাও করেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) ।

আরেফিন সিদ্দিকের সাথে সুর মিলিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুনতাসির মামুন বলেন, বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাসের রোগী চিহ্নিত হওয়ার পরে মানুষকে সচেতন হতে উৎসাহিত করেন। যেখানে যা দরকার তা সরবরাহে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। করোনা সংকট মোকাবিলায় তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তার কোনো বিকল্প নেই।

করোনা চিহ্নিত হওয়ার পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার জন্য পাঁচটি প্রকল্পের আওতায় ৭২৭.৫০ বিলিয়ন টাকার একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন যা মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ২.৫২ শতাংশ,

অর্থনীতির নেতিবাচক প্রভাবগুলি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জনসাধারণের ব্যয় বৃদ্ধি, প্রনোদণা প্যাকেজ, সামাজিক সুরক্ষা বৃদ্ধি ও আর্থিক সরবরাহ বৃদ্ধি এই চারটি স্কিম ঘোষণা করেছেন। পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে- তাত্ক্ষণিক, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী এ স্ক্রিমগুলো ভাগ করা হয়েছে।

প্যাকেজ ঘোষণাকালে তিনি বলেছিলেন, আমি আশা করি আমাদের অর্থনীতি প্রত্যাবর্তিত হবে এবং প্যাকেজগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত করতে পারলে আমরা কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কাছাকাছি যেতে পারবো।

চারটি নতুন প্যাকেজের মূল দিক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চারটি প্যাকেজের মধ্যে প্রথমটি ৩০০ বিলিয়ন টাকার যা স্বল্প ঋণ হিসাবে ব্যাংকের মাধ্যমে কার্যকর মূলধন হিসাবে ক্ষতিগ্রস্থ শিল্প ও সেবা খাত সংস্থাগুলিকে সরবরাহ করা হবে।

তিনি বলেন, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ব্যাংক-ক্লায়েন্ট সম্পর্কের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট শিল্প ও উদ্যোক্তাদের তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে ঋণ হিসাবে এই প্রদান করবে। যে ঋণগুলো দেওয়া হবে তার জন্য সুদ দিতে হবে ৯ শতাংশ তবে শিল্প ও ব্যবসায়ীরা ৪.৫০ শতাংশ সুদ দেবেন আর বাকি অর্ধেক ব্যাংকগুলিকে সরকার ভর্তুকি হিসাবে প্রদান করবে।

দ্বিতীয় প্যাকেজের আওতায় কুটির শিল্পসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) সংশ্লিষ্টরা ২০০ বিলিয়ন টাকা পেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকগুলির মাধ্যমে ব্যাংক-ক্লায়েন্ট সম্পর্কের ভিত্তিতে এসএমইগুলিকে এমন পরিমাণে ঋণ দেওয়ার একটি ব্যবস্থা তৈরি করা হবে এবং সুদের পরিমাণের ক্ষেত্রে সরকার বৃহত্তর অংশীদারিত্ব বহন করবে।

তিনি বলেন, “এই ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশ হবে এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলি ঋণের সুদের চার শতাংশ দেবে এবং বাকি ৫ শতাংশ সরকার ভর্তুকি হিসাবে প্রদান করবে।

তৃতীয় প্যাকেজটি বাংলাদেশ ব্যাংকের রফতানি উন্নয়ন তহবিল বা ইডিএফ এর ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হয়। যার উদ্দেশ্য ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির অধীনে কাঁচামাল আমদানির সুবিধা দেওয়া।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্যাকেজের ফলে ইডিএফ-তে অতিরিক্ত ১২৭.৫০ বিলিয়ন টাকা (১.৫ মিলিয়ন ডলার) যুক্ত হবে এবং এর সুদের হার একই সাথে ২ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। বিদ্যমান ইডিএফের সুদের হার বর্তমান লন্ডন ইন্টারব্যাঙ্ক অফারড রেট-লাইবার + ১.৫ শতাংশের সাথে সামঞ্জস্য করে ২.৭৩ শতাংশ।

সর্বশেষ প্যাকেজের আওতায় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছিলেন যে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফিনান্স স্কিম’ শীর্ষক একটি নতুন ঋণ সুবিধা ব্যবস্থা চালু করবে। এই ঋণ সুবিধার পরিমাণ হবে মোট ৫০ বিলিয়ন টাকা যেখানে সুদের হার হবে ৭ শতাংশ

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। এই প্রবণতা অনুসরণ করে আমরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এই দুর্যোগ মোকাবেলা করতে সক্ষম হবো – ইনশাআল্লাহ।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, ‘‘ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে যে কোনও জাতীয় সঙ্কটের মুখোমুখি হয়েছেন। বিশ্বব্যাপি চলা মরণব্যাধি করোনা মহামারি মোকাবেলায় চব্বিশ ঘন্টা কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে যে কোনও বিপর্যয়ের মুখোমুখি হন এবং সমস্ত বাধা অতিক্রম করে দেশকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যান। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি একজন দক্ষ নাবিক। তার সততা, দূরদর্শিতা এবং গতিশীলতা তাকে একটি সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসাবে গড়ে তুলেছে। ’’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

5 × three =