Templates by BIGtheme NET
১৩ আগস্ট, ২০২০ ইং, ২৯ শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২২ জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী

বাড়তে পারে ডেঙ্গুর প্রকোপ: সতর্ক হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

প্রকাশের সময়: জুলাই ২৩, ২০২০, ৯:১২ অপরাহ্ণ

গেল বছর ডেঙ্গু বাংলাদেশকে অনেক ভুগিয়েছে। এই রোগে শুধু ঢাকাতেই আক্রান্ত হয়েছিলেন লক্ষাধিক মানুষ। ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারায় বিতর্কিত হয়েছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির সাবেক মেয়র। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বছরও কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে করোনার মতো প্রাণঘাতি হয়ে উঠেতে পারে ডেঙ্গু। এ অবস্থায় বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

জানা যায়, গেল বছর ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের পর এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে নানা প্রকল্প, উদ্যোগ ও পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বছর পেরিয়ে গেলেও তার সিংহভাগই বাস্তবায়ন হয়নি। তবে এ বছর দুই সিটি করপোরেশন মশক নিধন কাজে কিছুটা গুরুত্ব দিয়েছে। বাড়িয়েছে এ খাতের বরাদ্দও।

দক্ষিণ সিটির মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, আগে সকাল এক ঘণ্টা লার্ভিসাইডিং ও বিকেলে এক ঘণ্টা অ্যাডাল্টিসাইডিং করা হতো। আমরা এখন থেকে সেটাকে ৪ ঘণ্টা করেছি। ওষুধের গুণগত মান নিশ্চিত করে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। ফলে আগের চেয়ে এখন মশার উপদ্রব অনেক কমেছে। আমরা আশা করছি এ বছর ঢাকাবাসীকে ডেঙ্গু থেকে মুক্ত রাখতে পারবো।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম দিন থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত রাজধানীতে ৩৩৮ জন আক্রান্ত হয়েছে। আর ঢাকার ৪১টি হাসপাতালে বর্তমানে ৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ১৯৯ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪৫ জন, মার্চে ২৭ জন, এপ্রিলে ২৫ জন, মে মাসে ১০ জন এবং জুনে ২০ জন এবং জুলাইয়ে গত ২১ জুলাই পর্যন্ত ১২ জন আক্রান্ত হয়েছে। এদিকে ৫টি মাতৃসদন ও ৩৫টি হাসপাতালে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। তাতে ২১৬ জন পরীক্ষা করা হয়েছে। এরমধ্যে ৯ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক বিশিষ্ট কীটতত্ত্ববিদ ও গবেষক ড. কবিরুল বাশার বলেন, ডেঙ্গুর পিক টাইম হচ্ছে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর। এবছরের প্রথম তিন মাসে গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত হয়েছে। কিন্তু এপ্রিল, মে, জুন ও জুলাই মাসে এসে এর সংখ্যা একেবারেই কমে গেছে। আসলে এটাতে সন্তুষ্ট থাকার কোনও কারণ নেই। মূলত, করোনার কারণেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বুঝা যাচ্ছে না। এর অন্যতম কারণ হয়তো ডেঙ্গু ও করোনা অন্যতম লক্ষণ জ্বর। আর মানুষ এখন ভয়ে হাসপাতালে যেতে চায় না, হাসপাতালগুলোও তেমন একটা জ্বরের রোগী নেয়নি। যার কারণে বুঝা যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

10 − 2 =