Templates by BIGtheme NET
১৩ আগস্ট, ২০২০ ইং, ২৯ শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২২ জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী

ভারতীয় তরুণী ধর্মান্তরিত হয়ে যেভাবে জেএমবিতে

প্রকাশের সময়: জুলাই ২৫, ২০২০, ১২:২৪ অপরাহ্ণ

জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক প্রজ্ঞা দেবনাথ ধর্ম পরিবর্তন করে হয়েছেন আয়েশা জান্নাত মোহনা। অনলাইনে জঙ্গি কার্যক্রম চালানোর অভিযোগে অতি সম্প্রতি তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। তাঁকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে জেএমবিতে যোগদান, ধর্মান্তরিত হওয়া ও বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সিটিটিসির উপকমিশনার সাইফুল ইসলাম।

গতকাল শুক্রবার তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, অনলাইনের মাধ্যমে জেএমবি সদস্যদের সঙ্গে প্রজ্ঞার পরিচয় হয় বলে আয়েশা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। তিনি কিভাবে জেএমবিতে জড়িয়ে পড়েন এবং ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছেন, তার বিস্তারিত জানিয়েছেন। এখন তাঁর স্বামীসহ জেএমবির অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আয়েশাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক তদন্তে সিটিটিসি জানতে পেরেছে, জেএমবিতে জড়ানোর আগে তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ধনিয়াখালী কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তাঁর বয়স তখন ২৫। অনলাইনে ভারতের একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর কথা হতে থাকে। এরপর ধমান্তরিত হয়ে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ২০১৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হন। মাকে বলেছিলেন, কাজের উদ্দেশ্যে বাইরে যাচ্ছেন। ফিরতে দেরি হবে। এরপর বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা, রাত। মেয়ের বাড়ি ফিরতে দেরি দেখে দুশ্চিন্তায় পড়ে পরিবার। এর দুই দিন পর মাকে ফোন করে তিনি জানান, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তিনি বাংলাদেশে চলে এসেছেন। আর কখনো দেখা হবে না বলে তিনি মায়ের আশীর্বাদ চেয়ে ফোন কেটে দেন। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পায়নি পরিবারের লোকজন। পরে ভারতীয় পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। তবে এর মধ্যেই তিনি ভারতে গিয়ে সহযোগীদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে সিটিটিসিকে জানিয়েছেন আয়েশা।

তাঁর মা গীতা দেবনাথ গোয়েন্দাদের জানান, প্রজ্ঞা অনেকটা লাজুক প্রকৃতির ছিলেন। আয়েশা বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরের কলেজে যেতেন সাইকেল চালিয়ে। তাঁর আচরণে কখনো অস্বাভাবিক কিছু দেখেননি তাঁরা। কলেজে প্রজ্ঞার তেমন বন্ধুও ছিল না। সেই মেয়েটি কিভাবে জঙ্গিবাদে জড়ালেন, এটা পরিবারসহ তাঁর প্রতিবেশীরা কল্পনাও করতে পারছে না।

প্রজ্ঞাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিটিটিসি জানতে পেরেছে, তিনি কেরানীগঞ্জে একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন। তিনি শিক্ষকতার আড়ালে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারীদের অনলাইনে জঙ্গি কার্যক্রমে দাওয়াত দিতেন। চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি মতিঝিল এলাকা থেকে জেএমবির নারী শাখার প্রধান আসমাকে গ্রেপ্তার করে সিটিটিসি। আসমার সঙ্গে আয়েশার প্রথম পরিচয় হয়। আসমা গ্রেপ্তার হলে নব্য জেএমবির নারী শাখার দায়িত্ব নেন আয়েশা। তাঁর কাছে দেশ-বিদেশ থেকে নব্য জেএমবির ফান্ডে টাকা আসত। সেই টাকা তিনি নারী সদস্যদের মোটিভেশন এবং রিক্রুটমেন্টে ব্যয় করতেন।

সিটিটিসির উপকমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, আয়েশা ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশে যাতায়াত করতেন ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি কেরানীগঞ্জ থেকে একটি জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করেন। ওই জন্ম নিবন্ধন সনদ দিয়ে তিনি একটি ভুয়া এনআইডি কার্ড তৈরি করেন। প্রবাসী এক বাংলাদেশি নাগরিককে অনলাইনে বিয়ে করে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নেওয়ার জন্য ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করেন। তিনি এটি দিয়ে নাগরিকত্ব নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছিলেন। তাঁর সঙ্গে অনলাইনে আরো অনেক নারীর যোগাযোগ রয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর প্রজ্ঞাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যে জেএমবির নারী শাখার অন্যদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সিটিটিসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

8 + eight =