Templates by BIGtheme NET
১৩ আগস্ট, ২০২০ ইং, ২৯ শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২২ জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী

হাটে গরু আছে, ক্রেতা নেই

প্রকাশের সময়: জুলাই ২৮, ২০২০, ৩:৫৯ অপরাহ্ণ

বিভিন্ন ধরনের কোরবানির পশু নিয়ে রাজধানীর অস্থায়ী হাটগুলোতে অপেক্ষা করছেন বিক্রেতারা। তবে ক্রেতার দেখা মিলছে খুব কম। মাঝেমধ্যে দু-একজন আসছেন, দরদাম করে তারাও চলে যাচ্ছেন। স্বল্প পরিসরে কিছু পশু বিক্রিও হচ্ছে। তবে এতে খুশি নন বিক্রেতা ও ইজারাদাররা। করোনা পরিস্থিতির কারণে বিক্রির হার যদি না বাড়ে তাহলে মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী গতকাল থেকে কোরবানির পশুর অস্থায়ী হাটগুলো শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আরও সপ্তাহখানেক আগে থেকেই হাটে গরু আসতে শুরু করে। দুই-তিন দিন ধরে কিছু কিছু পশু বিক্রিও হচ্ছে। তবে বিপুলসংখ্যক পশুর তুলনায় বিক্রির পরিমাণ খুবই কম। ঈদ সন্নিকটে থাকার পরও বিক্রি না বাড়ায় চিন্তিত হয়ে পড়েছেন বিক্রেতা ও ইজারাদাররা।

তবে ভিন্ন কথাও বলছেন পেশাদার ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ। তাদের মতে, অন্যান্য বছরের তুলনায় রাজধানীর হাটগুলোতে এবার অর্ধেক গরু উঠবে। আর ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ঈদের আগ মুহূর্তে করোনাভীতি জয় করে কোরবানি দেবেন। এ কারণে বৃহস্পতি বা শুক্রবারের হাটে পশুর দাম কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে। এ সময় পশু সংকটেরও আশঙ্কা রয়েছে বলে ধারণা তাদের।

সোমবার মেরাদিয়া বাজার সংলগ্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, বাজার সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গায় এবং অলিগলি গরু-ছাগলে ভরে উঠেছে। এ হাটের বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বল্প পরিসরে বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে অন্যান্য বছর এমন সময় যে হারে বিক্রি হতো, এবার সেভাবে বিক্রি হচ্ছে না। মুন্সিগঞ্জের মীরকাদিম থেকে এ হাটে পাঁচটি গুরু এনেছেন মো. রাসেল মিয়া। তিনি বলেন, ক্রেতার সংখ্যা কম। দুদিন ধরে হাটে গরু উঠালেও আগ্রহী ক্রেতা পাননি। সামনে কী অবস্থা হয়, সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করছেন এ ক্রেতা।

একই চিত্র দেখা গেছে দনিয়া পশুর হাটেও। বিশাল এলাকাজুড়ে এ হাটে অন্তত ১০ হাজার গরু উঠেছে। আনুষ্ঠানিক হাট বসার আগেই জমে উঠেছে এ হাট। গত তিন দিন ধরে দৈনিক অন্তত ২০০ থেকে ৩০০টি গরু বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন দামের গরু রয়েছে এ হাটে। ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে বেশি গরু পাওয়া যাচ্ছে। এ হাটের ইজারাদার মো. কামরুজ্জামান বলেন, অন্যবারের তুলনায় এবার বিক্রির সংখ্যা তুলনামূলক কম। এজন্য খুবই দুশ্চিন্তা হচ্ছে। লাভ তো দূরের কথা খরচ উঠাতে পারব কি না এ নিয়ে সন্দেই হচ্ছে। এ হাটের ইজারামূল্য ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং পরিচালনা খরচও অনেক। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে।

জানা গেছে, বাড্ডার আফতাব নগর হাটে প্রায় ৬ হাজার গরু উঠেছে। ইতোমধ্যে বিক্রিও শুরু হয়েছে। গাবতলী হাটে সব মিলিয়ে ৬ হাজার গরু উঠেছে। যেটা অন্যান্য বারের তুলনায় কম। এ হাটে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বিক্রি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ইজারাদারের লোকেরা।

হাজারীবাগ পশুর হাটের ইজারাদারের প্রতিনিধি আবুল হোসেন বলেন, সোমবার দুপুর পর্যন্ত হাটে প্রায় তিন হাজার গরু উঠেছে। স্বল্প পরিসরে বিক্রি শুরু হয়েছে। একই চিত্র রাজধানীর উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টর, উত্তরা মৈনারটেক, ডুমনী, পোস্তাগোলা শ্মশানঘাট হাটেরও।

অন্যদিকে, বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, বিক্রেতা, ইজারাদারের সদস্য এবং অনেক ক্রেতার মুখেও মাস্ক নেই। আবার অনেকে মাস্ক ব্যবহার করে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাটে আসছেন। প্রচন্ড গরমের কারণে সারাদিন মুখে মাস্ক রাখতে পারছেন না পশু ব্যবসায়ী এবং শ্রমিকরা। তবে পুলিশের টহল, সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আনাগোনা থাকায় অনেকে ভয়েও মুখে মাস্ক ঠিক রাখার চেষ্টা করছেন।

পোস্তগোলা শ্মশান ঘাটের কোরবানির পশুর হাট ও কমলাপুর স্টেডিয়ামের পাশে কোরবানির হাটেও প্রায় একই রকম চিত্র দেখা গেছে। দিনভর অপেক্ষা করেও ক্রেতার দেখা পাচ্ছেন না কেউ কেউ। এছাড়া রাজধানীর অন্য হাটগুলোতেও বেচাকেনা শুরু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে সব জায়াতেই পশু বিক্রির চিত্র প্রায় অভিন্ন। বিক্রেতা ও ইজারাদারদের প্রত্যাশা ঈদের আগের দুইদিন কোরবানির পশু বিক্রির ধুম পড়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

7 + one =