Templates by BIGtheme NET
৪ ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৮ রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

৩৭ বিলিয়ন ডলারের নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

প্রকাশের সময়: জুলাই ২৯, ২০২০, ৪:২৪ অপরাহ্ণ

করোনা ভাইরাস মহামারির চলমান সংকটের মধ্যেই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৭ দশমিক ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে। এ পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এটাই সর্বোচ্চ।

২৮ জুলাই (মঙ্গলবার) অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৩০ জুন বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক শূন্য ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

তখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে সেটাই সর্বোচ্চ রিজার্ভ ছিল তবে ২৮ জুলাই রিজার্ভ ৩৭ দশমিক ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেকর্ডে পৌঁছেছে।

গত এক বছরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে । গত বছর ৩০ জুন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৭১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। রেমিট্যান্সের প্রবাহ রিজার্ভের এই বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

জুলাই মাসের দুই দিন বাকি থাকতেই, জুন মাসের চেয়েও বেশি প্রবাসী আয় দেশে আসার রেকর্ড হয়েছে। চলতি মাসের মাত্র ২৭ দিনেই দুই দশমিক ২৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে প্রবাসীদের কাছ থেকে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মাসে এর আগে কখনও এ পরিমাণ রেমিট্যান্স আসেনি।

জুন মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল এক দশমিক ৮৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৩৯ শতাংশ এবং মে মাসের চেয়ে প্রায় ২২ শতাংশ বেশি ছিল।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক যুগ্ম–পরিচালক আদেল হক বলেন, যদি দেশে শক্তিশালী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থাকে তবে তা আমদানি বিল পরিশোধে আরও সক্ষম হবে, যা শেষ পর্যন্ত রির্জাভের পরিমাণ বাড়াতে সহায়তা করবে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, বিশ্ববাজারে সোনার দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি কম আমদানি বিল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। গত বেশ কয়েক বছর ধরে মূলধনী যন্ত্রপাতি, জ্বালানী তেল এবং খাদ্যশস্যসহ আমদানিকৃত পণ্যগুলোর জন্য বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ডলারের চাহিদা তৈরি হয়।

তাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমদানির জন্য সরাসরি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে মার্কিন ডলার বিক্রি করে। তা না হলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রিজার্ভের পরিমাণ আরও বেড়ে যেত বলেও মনে করেন তিনি।

এর আগে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৩৬.১৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব করে বাংলাদেশ ব্যাংককে এই প্রস্তাবটি কিভাবে কার্যকর করা যায় তা দেখার নির্দেশ দেন।

রিজার্ভের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, জনগণের অর্থ ( ফরেন রিজার্ভ) তাদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। এ বিষয়ে যে নিয়ম-নীতিমালা অনুসরণ করা যায় তা খতিয়ে দেখবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসাইন বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের মতো বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বৈদেশিক রিজার্ভ ব্যবহার করা যেতে পারে। এমনকি প্রকল্পটি থেকে টোল আদায়ের মাধ্যমে লাভজনক না হলেও তা জাতীয় অর্থনীতির জন্য উপকারী হবে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত থেকে আয়ের সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে আয় পেতে সরকারের এ খাতগুলো এখনও ভর্তুকি দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নের জন্য ঋণ হিসাবে বৈদেশিক রিজার্ভ থেকে নেওয়া যেতে পারে। তবে তহবিল পরিচালনা করতে দক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগ দিতেও পরামরর্ম দেন তিনি।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। যখন কোনও বৈদেশিক মুদ্রা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পৌঁছায়, তখন এটি রিজার্ভে যুক্ত হয়। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যখন কোনও বৈদেশিক মুদ্রা পায় তখন তারা এটি তাদের প্রয়োজন মতো রাখতে পারে ও ব্যয় করতে পারে। এ ক্ষেত্রে একটি নীতিমালাও রয়েছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

13 − nine =