Templates by BIGtheme NET
১৩ আগস্ট, ২০২০ ইং, ২৯ শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২২ জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী

মানব পাচার রোধে অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ

প্রকাশের সময়: জুলাই ৩০, ২০২০, ২:৪৬ অপরাহ্ণ

মানব পাচার রোধে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর। দেশটির পররাষ্ট্র দফতরের সদ্য প্রকাশিত ট্র্যাফিকিং ইন পার্সনস (টিআইপি)- ২০২০ রিপোর্টে বাংলাদেশের মানব পাচার রোধে এ অগ্রগতির কথা বলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর প্রতিবছর ট্রাফিকিং ইন পারসনস (টিআইপি) শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেখানে স্তরভিত্তিক র্যাংকিং পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে পাচার নির্মূলের ন্যূনতম মানসমূহ মেনে চলার ক্ষেত্রে দেশের প্রচেষ্টা পরিমাপ করা হয়।

সম্প্রতি প্রকাশিত ২০২০ সালের টিআইপি প্রতিবেদনে আগের বছরের ওয়াচ লিস্ট থেকে উন্নীত হয়ে বাংলাদেশ এ বছর দ্বিতীয় স্তরের টায়ার-২ স্থান অর্জন করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্বের তুলনায় ২০১৯ সালে মানব পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের প্রচেষ্টা ছিল প্রশংসনীয়। এ সকল প্রচেষ্টার মধ্যে রয়েছে- অধিক সংখ্যক পাচারকারীকে দণ্ড প্রদান, অধিকসংখ্যক শিকার ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণ, ২০০০ জাতিসংঘ টিআইপি প্রটোকল অনুসরণ করা, বাংলাদেশের পাচার বিরোধী আইনে নির্ধারিত সাতটি পাচারবিরোধী ট্রাইবুন্যাল গঠন।

জাতিসংঘের ধারণা মতে, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪ কোটি মানুষ আধুনিক দাসত্ব বা পাচারের শিকার হয় যার মধ্যে ৭০ শতাংশই নারী ও শিশু। এখানে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ পাচারের শিকার হন।

সম্প্রতি বিশ্ব শ্রম সংস্থা (আইএলও), ইউনিসেফ এবং ইউএনওডিসি প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনা ভাইরাস পাচার পরিস্থিতির উপর সামগ্রিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো বলেন, বিশ্বব্যাপী মানবপাচার রোধে প্রথম সাড়া প্রদানকারীদের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে। অবশ্যই মানব পাচারের বিরুদ্ধে প্রথম সাড়া প্রদানকারীদের প্রশংসা করতে হবে যারা পাচারের শিকার ও ক্ষতিগ্রস্তদের চিহ্নিতকরণ, সহায়তা প্রদান, মানসিক সেবা প্রদান এবং তাদের জন্য ন্যায় বিচার নিশ্চিতে কাজ করে চলেছেন।

করোনার এই সংকটকালীন সময়ে, প্রথম সাড়া প্রদানকারীদের অপরিহার্য ভূমিকা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কেননা এই মহামারির সময়ে পাচারের ফলে ক্ষতিগ্রস্তরা আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন বলেও জানান মিয়া সেপ্পো।

একই প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবু বকর ছিদ্দীক বলেন, মানব পাচার মানবাধিকারের একটি গুরুতর লঙ্ঘন। বাংলাদেশ সরকার এই ঘৃণ্য অপরাধ প্রতিরোধে সক্রিয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৮-২০২২ অনুসরণ করতে কাজ চালিয়ে যাব এবং পাচারকারীদের প্রতিরোধ ও তাদের বিচার নিশ্চিতে এবং পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষায় আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার করব।’

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ বিপুল সংখ্যক অভিবাসীদের পাচার সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে যা পরবর্তীতে টিআইপি কেসে পরিণত হয়েছে, যা পাচার বিরোধী সাড়া প্রদানে আরও জটিলতা সৃষ্টি করেছে। তবে, বাংলাদেশ সরকার আনন্দিত যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের টিআইপি প্রতিবেদনে বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্তরে উন্নীত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস ও বাংলা ট্রিবিউন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

14 − nine =