Templates by BIGtheme NET
২১ অক্টোবর, ২০২০ ইং, ৫ কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৩ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী

আটা-ময়দার দামে বছরজুড়েই স্বস্তি

প্রকাশের সময়: অক্টোবর ৯, ২০২০, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ

এক কথায় নিত্যপণ্যের বাজারে ভোক্তাদের জন্য কোনও সুখবর নেই। প্রয়োজনীয় অধিকাংশ পণ্যের দামই এখন নাগালের বাইরে। তবে  বছরজুড়েই ভোক্তাদের স্বস্তি দিয়েছে আটা ও ময়দার দাম। এই দুটি পণ্যের দাম সারাবছরই মোটামুটি স্বাভাবিকই ছিল। মাঝে-মধ্যে দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বাড়লেও আবারও দাম কমে আসতো।

আটা ও ময়দা বিক্রেতারা বলছেন— একমাত্র এই দুটি পণ্যের দাম বাড়েনি। এ প্রসঙ্গে রাজধানীর মানিক নগর এলাকার মুদি ব্যবসায়ী ইউসুফ আলী বলেন, ‘সব জিনিসের দাম বেড়েছে, কেবল আটা ও ময়দার দাম একবছর আগের দামে রয়ে গেছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সাদা আটা (খোলা) বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি। গত বছরের এই সময়ে সাদা আটার দাম ছিল ৩০ টাকা কেজি। তিনি বলেন, ‘প্যাকেট আটার দাম এখন ৩০ টাকা কেজি। এক বছর আগে তিনি একই আটা ৩৫ টাকা কেজি দরেও বিক্রি করেছেন।’ প্যাকেট ময়দার দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন যে ময়দার দাম ৪২ টাকা, গতবছর সেই একই ময়দার দাম ছিল ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা কেজি।’ তিনি জানান, এখন খোলা ময়দার দাম রাখা হচ্ছে ৩৪ থেকে ৩৫ টাকা কেজি। গত বছরের এই সময়ে এই ময়দা ৩৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবি’র হিসাবে,  গত একবছর ধরে আটা ও ময়দার দাম একটুও বাড়েনি। বরং কমেছে।  টিসিবির তথ্য বলছে, গত এক বছরে প্যাকেট আটার দাম কমেছে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ। আর প্যাকেট ময়দার দাম কমেছে ৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এছাড়া খোলা ময়দার দাম কমেছে ৪ দশমিক ১৭ শতাংশ। অবশ্য সাদা আটার (খোলা) দাম সামান্য কিছু বাড়তি। একবছরের ব্যবধানে সাদা আটার দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

ক্রেতারা বলছেন. আটা-ময়দার দাম না বাড়লেও অন্যসব পণ্যের দাম তাদের হাতের নাগালের বাইরে চলে গেছে। মতিঝিল এলাকার বাসিন্দা রেজাউল করিম বলেন, ‘তার বেতন বাড়েনি। কিন্তু খরচ বেড়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘গত বছর এক হাজার টাকায় যে বাজার হতো, এখন ২ হাজার টাকাতেও সেই বাজার হয় না। অথচ তার আয় বাড়েনি। তিনি উল্লেখ করেন, চাল,ডাল, তেল, পেঁয়াজ সবকিছুর দাম বেড়েছে। এমনকি সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, দিগুনেরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে আলু। গত বছর যে আলুর দাম ছিল ২০ টাকা, এখন সেই আলু কিনতে হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি। সরকারের হিসাবে এক বছরে আলুর দাম বেড়েছে ৮৪ শতাংশ। এছাড়া এক বছর আগে যে চালের দাম ছিল ৩০ টাকা কেজি, সেই চাল ক্রেতাদের এখন কিনতে হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে।

টিসিবি’র তথ্যও বলছে, গত এক বছরে গরিবের মোটা চালের দাম বেড়েছে ৪৪ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে মশুর ডালের দাম বেড়েছে ২২ শতাংশ। ভোজ্য তেলের (পাম ওয়েল) দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশ। দেড়শ’ টাকা কেজি আদা এক বছরের ব্যবধানে বেড়ে হয়েছে ৩০০ টাকা।

সবজির বাজারে অস্থিরতা রয়েছে দীর্ঘদিন ধরেই। কয়েক ধরনের সবজি প্রতিকেজি ১০০ টাকারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বেশিরভাগ সবজির দাম এখন ১০০ টাকার কাছাকাছি।  কাঁচা মরিচের দাম এখন ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে,  শিম, পাকা টমেটো, গাজর, বেগুন, বরবটির সঙ্গে নতুন করে ১০০ টাকা কেজির তালিকায় নাম লিখিয়েছে উস্তা। এর মধ্যে পাকা টমেটোর দাম ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, গাজর  ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের মতো শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা।  উস্তার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। বরবটির কেজি গত সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা। বেগুনও গত সপ্তাহের মতো ৮০ থেকে ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পটলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। লাউয়ের পিস বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এক হালি কাঁচকলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। ঝিঙা, কাঁকরোল, ধুন্দুলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা।

বাজারে  শীতের নতুন আসা ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। ৫০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে মুলা ও পেঁপে। এর মধ্যে মুলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। পেঁপের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা। এছাড়া এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে।

শীত আসার আগেই ডিমের দামও বাড়ছে।  ১১০ থেকে ১১৫ টাকা ডজন বিক্রি হওয়া ডিমের দাম বেড়ে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।  এদিকে স্বস্তি মিলছে না পেঁয়াজের দামেও। দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

eight + 7 =