Templates by BIGtheme NET
২৬ অক্টোবর, ২০২০ ইং, ১০ কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৮ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী

লাভবান হবে বাংলাদেশ
চীন থেকে ব্যবসা গোটাচ্ছে জাপান !

প্রকাশের সময়: অক্টোবর ১৫, ২০২০, ৮:০৮ অপরাহ্ণ

উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়ানোসহ আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ ও সর্বশেষ ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধের কারণে ভূরাজনীতিতে ব্যাপক চাপে থাকায় চীন থেকে ব্যবসা গোটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপানের কোম্পানিগুলো। এমতাবস্থায় তারা নিরাপদ বিনিয়োগের পথ খুঁজতে শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে নতুন সম্ভাবনার দেশ হিসেবে দেখছে জাপানের বিনিয়োগকারীরা।

প্রশ্ন আসতে পারে এতো দেশ থাকতে বাংলাদেশেই কেন সম্ভাবনা দেখছে জাপান? উত্তরটি একদম সোজা- বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, ওয়ান স্টপ সার্ভিস, গ্যাস বিদ্যুতের নিশ্চয়তা ও সস্তাশ্রম- এ চার কারণেই বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী জাপান।

এদিকে, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে আপাতত বাংলাদেশ সরকারও জাপানকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে । এমনকি বিশেষ ক্ষেত্রে জাপানি কোম্পানি বা বিনিয়োগকারীদের কারখানা স্থাপনে বিশেষ ছাড় দেয়ার কথাও ভাবছে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।

জানা গেছে, চীন-আমেরিকার বাণিজ্যযুদ্ধকে কেন্দ্র করে চীন থেকে ৮৭টি জাপানি কোম্পানি তাদের বিনিয়োগ সরিয়ে নিচ্ছে। সে বিনিয়োগ বাংলাদেশে আনতে নানাভাবে কাজ করছে সরকার। এজন্য সম্প্রতি জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে টেলিসংলাপও করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ ছাড়া গত মাসের শেষ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ-জাপানের সরকারি-বেসরকারি যৌথ অর্থনৈতিক সংলাপ (জুম প্ল্যাটফরমে ভার্চুয়ালি) অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স সহজ করা, করনীতির জটিলতা কমানো ও শুল্কবাধা দূর করার তাগিদ দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি।

এ বিষয়ে সিপিডির ফেলো মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, চীন থেকে বর্তমানে জাপান যত আমদানি করে, তার প্রায় ৭০ শতাংশ জাপানের নিজস্ব বিনিয়োগ। জাপানের বিনিয়োগকারীরা চীনে বিনিয়োগ করে তা জাপানে রপ্তানি করে। এটাই হচ্ছে চীন থেকে জাপানের ৭০ শতাংশ আমদানি। এ ৭০ শতাংশ বিনিয়োগ জাপান চীন থেকে সরিয়ে অন্য দেশে স্থানান্তর করতে চাচ্ছে। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় একটা সুযোগ।

তিনি আরও বলেন, বে অব বেঙ্গল ইনভেস্টমেন্ট গ্রোথ বেল্ট’ বা ‘বিগ বি’ এর আওতায় বর্তমানে জাপান সরকার চাচ্ছে বড় আকারে বিনিয়োগ বের করে নিয়ে আসবে। সে হিসেবে মাতারবাড়ি প্রকল্পে বড়সড় আকারে তারা এসেছে। এটা বাংলাদেশের জন্য এটা অনেক বড় সুযোগ। বিশেষ করে বাংলাদেশ যখন এলডিসি থেকে গ্র্যাজুয়েট করছে এবং শূন্য শুল্ক সুবিধা আস্তে আস্তে চলে যাবে- এরকম একটা অবস্থায় এ ধরনের বিনিয়োগ বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো, রপ্তানি বাড়ানোসহ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজে লাগবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

fourteen − five =