Templates by BIGtheme NET
২৬ অক্টোবর, ২০২০ ইং, ১০ কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৮ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী

এনআইডি জালিয়াতির মাধ্যমে যেভাবে বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে যাচ্ছেন রোহিঙ্গারা

প্রকাশের সময়: অক্টোবর ১৬, ২০২০, ৭:২৯ অপরাহ্ণ

দীর্ঘদিন বাংলাদেশে অবস্থান। অতঃপর বাংলাদেশিদের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি। এটিকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় এনআইডি জালিয়াতি করে বাংলাদেশি নাগরিক হয়ে যাচ্ছেন রোহিঙ্গারা। সরকারের এতো নজরদারির পরও কিভাবে এনআইডি জালিয়াতি করা হচ্ছে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি অপরাধে নকল জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করায় এমন প্রশ্ন উঠেছে।

১৩ই সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুর থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি চক্রের ৫ জনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি। এদের মধ্যে রয়েছেন দুই জন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, দুই জন দালালচক্রের সদস্য এবং একজন যিনি জাল পরিচয়পত্র তৈরি করিয়েছেন।

এর আগে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র পাইয়ে দেয়ার অভিযোগে ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম থেকে মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। যাদের মধ্যে স্থানীয় নির্বাচন কমিশনের কয়েকজন কর্মকর্তাও রয়েছেন।

কীভাবে কাজ করে জালিয়াত চক্র?
নকল জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি তৈরি করার পেছনে বিভিন্ন পর্যায়ে একটি সুসংগঠিত চক্র কাজ করে বলে জানায় পুলিশ। এই চক্রে রোহিঙ্গাসহ যাদের এনআইডি কার্ড দরকার তাদের সংগ্রহ করা থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে তথ্য প্রবেশ করানো পর্যন্ত সব পর্যায়ে লোকজন রয়েছে।

চট্টগ্রাম পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের এডিসি পলাশ কান্তি নাথ বলেন, তারা আগে স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্থানীয় কোন ব্যক্তির জন্ম সনদ সংগ্রহ করে। এটিকে ব্যবহার করে ভোটার আইডি কার্ডের ফর্ম পূরণ করে সেই তথ্য সার্ভারে আপলোড করে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম জানান, চক্রে কয়েকজন নির্বাচন কমিশনের ডাটা এন্ট্রি আউটসোর্সিংয়ের কাজে নিয়োজিত কর্মী। যারা অনলাইনে অন্য ব্যক্তির জায়গায় নতুন আরেকটি এনআইডি ফর্ম পূরণ করে দেয়। একই ব্যক্তির একাধিক আইডি থাকলে সেটির নোটিফিকেশন আসতে একবছরের মতো সময় লাগে। এই এক বছরের মধ্যে জালিয়াত চক্রের উদ্দেশ্য সফল হয়ে যায়। এছাড়া স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় রোহিঙ্গারা ফেক পরিচয় দিয়েও এনআইডি করে থাকেন।

জাল এনআইডি করা জামাল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জন্ম গ্রহণ করলেও দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারে থাকি। সবাই আমাকে চিনে। এখন এসব নিয়ে টানাটানি করে লাভ কি? ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে স্থানীয় একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এনআইডি কার্ড করতে তাকে সহায়তা করেছেন বলেও জানান তিনি।

তবে এলাকাবাসীর দাবি, রোহিঙ্গাদের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলে তারা বাংলাদেশের সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করবে। এটা কোন ভাবেই কাম্য নয়। এসব রোহিঙ্গারা যাদের মাধ্যমে ভোটার আইডি কার্ড করেছে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

two × 2 =