Templates by BIGtheme NET
২৬ অক্টোবর, ২০২০ ইং, ১০ কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৮ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী

শতভাগ প্রস্তুত ভাসানচর: আধুনিক ও উন্নতমানের বাসস্থানে থাকবেন রোহিঙ্গারা

প্রকাশের সময়: অক্টোবর ১৭, ২০২০, ১২:৩৭ অপরাহ্ণ

 

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরের ঘরগুলো বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে ঘেরা। সেগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে ভাসানচরের ঘরগুলো স্ট্যান্ডার্ড ক্লাস্টার হাউস। সেখানে প্রতিটি ঘরের জন্য জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) স্ট্যান্ডার্ড মেনে ৩.৯ বর্গমিটার জায়গা রাখা হয়েছে। কক্সবাজারে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার কারণে পানির স্তর দিন দিন নিচে নামছে। ভাসানচরে আছে ইউএনএইচসিআরের স্ট্যান্ডার্ড মেনে ভূগর্ভস্থ পানি এবং পুকুর, হ্রদ ও খালের ব্যবস্থা।

এমন নৈসর্গিক পরিবেশে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ভাসানচরে নির্মাণ করা হয়েছে নান্দনিক সব স্থাপনা। প্রকৃতি ও স্থাপনা মিলে সত্যি এক অপরূপ দৃশ্য। আকাশ থেকে দেখলে মনে হবে পাশ্চাত্যের কোনো স্থাপনা। লাল টিনের ছাউনি দেয়া একতলা ভবনগুলো লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে। পাশ দিয়েই গেছে ঢালাই করা পাকা রাস্তা। এ-বাড়ি থেকে ও-বাড়ি যাওয়ার সহজ পথ। সাগরের বুকে জেগে ওঠা চরে ছবির মতো করে সাজানো হয়েছে ঘরবাড়ি, মাঠ, জলাধারসহ ম্যানগ্রোভ বন। ওপরে নীল আকাশ দূরে সমুদ্র সমতলে লাল আর সবুজ। সবমিলে চারদিক একাকার হয়ে গেছে।

রোহিঙ্গাদের একটি অংশকে কক্সবাজার থেকে সাময়িকভাবে স্থানান্তরের জন্য এখানে তৈরি করা হয়েছে এক হাজার ৪৪০টি ক্লাস্টার হাউস ও ১২০টি শেল্টার স্টেশন। গুচ্ছগ্রামের আদলে নির্মাণ করা হয়েছে এসব ক্লাস্টার হাউস। প্রতিটি ক্লাস্টার হাউসে ১২টি গৃহ। প্রতি গৃহে রয়েছে ১৬টি রুম। একেক রুমে চারজন থাকার ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে এক লাখ রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য শতভাগ প্রস্তুত ভাসানচর। আধুনিক বর্জ্য ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাপনা, বায়োগ্যাস প্লান্ট ও সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থাও রয়েছে সেখানে।

চরটি বসবাসের উপযোগী করা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বনায়ন ও দ্বীপটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই প্রকল্পটির প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এরপর ভাসানচর ঘিরে আবাসন নির্মাণের লক্ষ্যে যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করতে সম্ভাব্যতা নিরীক্ষা করে প্রণয়ন করা হয় ডিপিপি। প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল দুই হাজার ৩১২ কোটি টাকা। বাঁধ ও জেটি নির্মাণের জন্য পরে প্রকল্প ব্যয় তিন হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়।

‘আশ্রয়ণ-৩’ নামে প্রকল্পটির পরিচালক কমডোর আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী জানান, এক হাজার ৪৪০টি হাউস ও ১২০টি শেল্টার ৩০টি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিভাজন করে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। নৌবাহিনীর অন্তত ২০০ সদস্য ও কনসালট্যান্ট ইঞ্জিনিয়াররা নির্মাণ কাজ তদারকি করেন। নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে মূল ডিপিপির শতভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

one × one =