Templates by BIGtheme NET
২৫ নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৯ রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

জাতীয় পরিচয়পত্র যাচ্ছে কার নিয়ন্ত্রণে?

প্রকাশের সময়: অক্টোবর ২৫, ২০২০, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ

সম্প্রতি জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (এনআইডি) নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তকরণ, দ্বৈত ভোটার করা, একজনের এনআইডি অন্যের নামে সংশোধন করে সম্পত্তি বিক্রিসহ নানান অভিযোগ আসে।

বিভিন্ন অনিয়মের ঘটনায় এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এমন প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি এনআইডি নিবন্ধন কার্যক্রম নিজেদের অধীনে নিতে একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, নাগরিক নিরাপত্তা, চোরাচালান প্রতিরোধসহ অন্যান্য বিষয়ের জন্য এটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেওয়া দরকার।

এমন প্রস্তাবের পর বাস্তবতার ভিত্তিতে এটির গ্রহণযোগ্যতাসহ সামগ্রিক বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মতামত চেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। প্রস্তাবটি পর্যালোচনার জন্য ইতিমধ্যে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

কমিটির প্রথম বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের বদলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন কার্যক্রম স্থানান্তরের চ্যালেঞ্জসমূহ নির্ণয় ও মোকাবিলার কৌশলসহ স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছে।

গঠিত এই কমিটি সংবিধান ও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০১০-সহ প্রয়োজনীয় বিধি বিধান দেখছে। নির্বাচন কমিশনের এনআইডি আইন এবং সংবিধানে নির্বাচন কমিশনকে কতটুকু ক্ষমতা দেওয়া আছে সেগুলো পর্যালোচনা করছে।

এর আগে আইসিটি মন্ত্রণালয় থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এনআইডির অংশীদারিত্ব চেয়ে আরেকটি প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছিল।

কমিটি আইন বিধি, সংবিধান ও সার্বিক চ্যালেঞ্জসমূহ পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে মতামত দেবে। যদিও নির্বাচন কমিশন বলছে, এ বিষয়ে তাদের কিছুই বলা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। এ সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাব এলে কমিশন সভা ডেকে সবার মতামতের ভিত্তিতে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরব।’

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আরো বলছে, পৃথিবীর অন্যান্য দেশে এটি নিয়ে আলাদা অথরিটি আছে। তাই দীর্ঘমেয়াদি কী ব্যবস্থা হতে পারে, সেটি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। বিদেশে কীভাবে করা হচ্ছে সেটিও দেখা হচ্ছে।

এনআইডি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা অনেক দক্ষ হয়েছেন। নতুন করে এর দায়িত্ব অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে দিলে সরকারের বাড়তি ব্যয় হবে। এক কাজ দুই প্রতিষ্ঠান করলে সুবিধার চেয়ে অসুবিধাসহ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

9 − 7 =