Templates by BIGtheme NET
১৬ জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২ মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২ জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

আজ দৃশ্যমান হচ্ছে পদ্মা সেতুর ৬ কিলোমিটার

প্রকাশের সময়: ডিসেম্বর ৪, ২০২০, ৯:২০ পূর্বাহ্ণ

স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়। হাঁটি হাঁটি পা পা করে এখন সে পরিপূর্ণ দেহ নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। তবে বাকি আর মাত্র কয়েকটি ধাপ। এরপরই দৃশ্যমান হবে মূল কাঠামো। ৪১টি স্প্যানের মধ্যে বাকি আছে মাত্র দুইটি স্প্যান বসানোর কাজ। আবহাওয়া অনকূল ও কারিগরি জটিলতা না দেখা দিলে এ দুটির মধ্যে একটি অর্থাৎ ৪০তম স্প্যান ‘২-ই’ সেতুতে বসতে চলছে আজ শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর)।

৩৯তম স্প্যান বসানোর ঠিক সাত দিনের মাথায় সেতুর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া অংশে মাঝ নদীতে ১১ ও ১২ নং পিয়ারে ৪০তম স্প্যানটি বাসানো হচ্ছে। আর এটি বসানো শেষ হলে দৃশ্যমান হবে সেতুর ছয় হাজার মিটার বা ছয় কিলোমিটার অংশ।

ইতিমধ্যে স্প্যানটি নিয়ে ভাসমান ক্রেন তিয়ান-ই নির্ধারিত পিয়ারের কাছে নোঙর করে রাখা হয়েছে। পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূলসেতু) দেওয়ান আব্দুল কাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ৪০তম স্প্যানটি পিয়ারে বসানোর জন্য প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়েছে। কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ১৫০মিটার দৈর্ঘ্যের স্প্যানটি বহন করে ভাসমান ক্রেন তিয়াইন-ই নির্ধারিত পিয়ারে কাছে নিয়ে নোঙর করে রাখা হয়েছে। কারিগরি অন্যান্য কাজও সম্পূর্ণ হয়েছে। এখন শুধু উপরে তোলার কাজ বাকি। আজ শুক্রবার সকালে পিয়ারের উপর তোলা হবে। সকালের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

৪০তম স্প্যান বসে গেলে সেতুতে বাকি থাকবে মাত্র ১টি স্প্যান। ১২ ও ১৩ নম্বর পিয়ারে সর্বশেষ ৪১তম স্প্যান স্প্যান ‘২-এফ’ বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে প্রকৌশলীদের।

এদিকে স্প্যান বাসানো ছাড়াও অন্যান্য কাজও এগিয়ে চলেছে। এরমধ্যে সেতুতে ১৮ শতাধিক রেলওয়ে ও ১২ শতাধিক রোড ওয়েস্ল্যাব বসানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর একে একে বসানো হয় ৩৯টি স্প্যান। এতে দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর ৫হাজার ৮৫০ মিটার অংশ।

৪২টি পিলারে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যান বসিয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে। সব কটি পিয়ার এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

15 − 9 =