Templates by BIGtheme NET
৩ মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৮ রজব, ১৪৪২ হিজরি

সৈয়দ আশরাফ দেখিয়ে গেছেন রাজনীতিটা ভোগের নয়

প্রকাশের সময়: জানুয়ারি ৩, ২০২১, ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ

ডা. দীপু মনি : 

আশরাফ ভাই ভালো মানুষ ছিলেন। দেশ, মানুষ ও দলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল অগাধ। তাঁর মতো সৎ মানুষ রাজনীতি থেকে চলে গেছেন, সেটা আমাদের জন্য বড় ক্ষতি। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি তাঁর ছিল অবিচল আস্থা। তিনি হয়তো কথা কিছুটা কম বলতেন, কিন্তু তিনি দেশ নিয়ে, দেশের মানুষকে নিয়ে যখন যতটুকু কথা বলেছেন, তাতেই মানুষ তাঁকে মনে রেখেছে বা মনে রাখবে। আজ আমাদের এই প্রিয় নেতার মৃত্যুবার্ষিকী।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সব সময় দেশ ও মানুষের মঙ্গল চেয়েছেন। তিনি ছিলেন একজন যোগ্য বাবার যোগ্য সন্তান। তাঁর বাবা সৈয়দ নজরুল ইসলাম যেমন বঙ্গবন্ধুর যোগ্য সহচর ছিলেন, তেমনি তিনিও বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থা রেখে তাঁর সঙ্গে কাজ করে গেছেন। তিনি দেশে-বিদেশে যেখানেই থেকেছেন, সব সময় দেশের জন্য কাজ করেছেন।

আশরাফ ভাই যখন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হলেন, সেবারই আমি তাঁর সঙ্গে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলাম। তাঁর সঙ্গে আমি দুবার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। তিনি সহকর্মীদের ভীষণ স্নেহ করতেন। একেকজনের নেতৃত্বের ধরন একেক রকম। তিনি কাউকে সরাসরি কিছু করতে বলতেন না। তিনি আশা করতেন, আমরা কাজটা করব। আমরা যখন পরামর্শ চেয়েছি, তিনি পরামর্শ দেওয়ার মতো বা নির্দেশ দেওয়ার মতো কিছু বলার চেয়ে বরং আমাদের বড় ভাইয়ের মতো করে বলতেন। তিনি হয়তো কোনো সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতেন, সেটা থেকে আমরা বুঝে নিতাম আমাদের কী করতে হবে? তাঁর নেতৃত্বের ধরনটাই ভিন্ন।

আশরাফ ভাই অনেক কম বয়সী লোককেও আপনি করে বলতেন। তিনি সব সময় স্নেহ নিয়ে কথা বলতেন। যেটা সবাইকেই অনুপ্রেরণা দিত। তিনি খুব অল্প কথায় অনেক গভীর কথা বলতেন।

২০০৭-২০০৮ সালে দলের চরম দুঃসময়ে যখন জলিল ভাই জেলে, তখন আশরাফ ভাই দায়িত্বে ছিলেন। ওই সময় চাপের মধ্যেও তাঁর বিশ্বস্ততা, সাহস, ধৈর্য দেখেছি। আমি আবারও বলব, তাঁর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি অগাধ আস্থা ও ভালোবাসা। তিনি চেষ্টা করেছেন সবাইকে নিয়ে চলতে। যাঁরা তৃণমূলের নেতাকর্মী তাঁদের তিনি অনেক সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন।

সৈয়দ আশরাফুল অনেক সাধারণ জীবন যাপন করতেন। তিনি সাধারণের মধ্যেই ছিলেন অসাধারণ একজন মানুষ। তিনি খুব সাধারণভাবে কথা বলতেন। আমি যতটুকু তাঁকে দেখেছি, কখনো দেখিনি বা কখনো মনে হয়নি তিনি কারো ক্ষতি চেয়েছেন।

আমাদের নেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি, আমাদের জীবনটা হওয়া উচিত সিম্পল লিভিং এবং হাই থিংকিং।’ যেটা বঙ্গবন্ধুও বিশ্বাস করতেন। সৈয়দ আশরাফও দেখিয়ে গেছেন, রাজনীতিটা ভোগের নয়, ত্যাগের। এই রাজনীতিটা বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন, আশরাফ ভাইয়ের বাবা বিশ্বাস করতেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যারাও খুব সাধারণ জীবন যাপন করেন। আশরাফ ভাইও সেটাই করতেন।

ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে যদি সবার সঙ্গে কাজ করতে পারি তাহলে রাজনীতিতে যে অনেক সমস্যা আমরা দেখি, সেটা নিশ্চয়ই থাকবে না। কারণ রাজনীতিটা তো ভোগের নয়। বঙ্গবন্ধুকন্যার একজন সঠিক সহচর হিসেবে সৈয়দ আশরাফও তাঁর জীবনে ত্যাগের রাজনীতি করে গেছেন। আমি মনে করি, আমাদের নেতাকর্মীদের জন্যও সেটা অনুকরণীয়। যেটা আমাদের নেত্রীও করেন, যেটা আশরাফ ভাইও করে গেছেন।

লেখক : মন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

five × three =