Templates by BIGtheme NET
৩ মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৮ রজব, ১৪৪২ হিজরি

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা : খালেদ মহিউদ্দিনের মিথ্যাচার ও প্রভাষ আমিনের জবাব

প্রকাশের সময়: জানুয়ারি ১৬, ২০২১, ৩:৪২ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের জনপ্রিয় সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দিন একসময় ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনে কর্মরত ছিলেন। সেই চ্যানেলের টকশো ‘আজকের বাংলাদেশ’ উপস্থাপনের সময় তিনি বাংলাদেশের গণমাধ্যম অনেকটাই স্বাধীন বলে দাবি করতেন। তিনি বলতেন, বড় রাজনৈতিক দলের নেতাদের স্বাধীনভাবে বিভিন্ন প্রশ্ন করেও তিনি কোন সমস্যার সম্মুখিন হননি। অথচ তিনিই এখন বাংলাদেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

সম্প্রতি ১৫ জানুয়ারি ডয়েচে ভেলের বাংলা বিভাগের প্রধান খালেদ মহিউদ্দিন নিজের পরিচালিত একটি টকশোতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর উত্তরে সাংবাদিক প্রভাষ আমিন বলেছেন, তিনি এখন পর্যন্ত সরকারের অনেক বিষয়ে সমালোচনা করলেও কোন ধরণের সমস্যার সম্মুখিন হতে হননি। এমনকি তিনি যে কোন বিষয়ে স্বাধীনভাবেই সত্য সংবাদ উপস্থাপন করতে পারেন।

প্রভাষ আমিন বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে দাবি করতে পারি, আমার কলামে, আমার লেখায়, আমার ফেসবুকে, সব সময়- আমার চোখে যতটুকুই ত্রুটি ধরা পড়েছে সেটুকুই আমি বলেছি। কখনো কোন সমস্যায় পড়তে হয়নি।

২০১৯ সালে একই কথা বলেছিলেন, খালেদ মহিউদ্দিনও। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত বাংলাদেশ ক্যাম্পাস জার্নালিস্ট ফেডারেশনের বার্ষিক প্রোগ্রামে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজকের বাংলাদেশ নামে অনুষ্ঠান করতে গিয়ে গেলো কয়েক বছর আমার কোন সমস্যায় পড়তে হয়নি। আমি মনে করি সংবাদ মাধ্যম অনেকটাই স্বাধীন।

উল্লেখ্য, প্রভাষ আমিনের বক্তব্যের পর খালেদ মহিউদ্দিন পাল্টা প্রশ্ন করেন। সাংবাদিকরা একসময় এরশাদ বিরোধী আন্দোলন করেছেন, এখন কেন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামছেন না। জবাবে প্রভাষ আমিন বলেন, আমি যখন ছাত্র রাজনীতি করতাম তখন আন্দোলন করা ছিলো আমার নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু এখন আমি সাংবাদিকতা করি, তাই আমার নৈতিক দায়িত্ব সরকারের দোষত্রুটি তুলে ধরা। সেই দায়িত্ব আমি এখনও পালন করছি।

এ বিষয়ে রাকিবুল হক নামে একজন ফেসবুক এক্টিভিস্ট বলেন, খালেদ মহিউদ্দিন একজন জনপ্রিয় সাংবাদিক। এটাতে কোন সন্দেহ নাই। তবে খালেদ মহিউদ্দিনও যে সরাসরি সাংবাদিকদের আন্দোলনে নামতে বলছেন সেটা কতটুকু নৈতিকতার মধ্যে পরে সেই প্রশ্ন রইলো।

এটিএন বাংলার সাবেক একজন সিনিয়র সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ২০১৯ সালের পর কিছু ব্যক্তিগত দ্বন্দের কারণে সরকারের ওপর ক্ষিপ্ত হয় খালেদ মহিউদ্দিন। তারই প্রেক্ষিতে সরকারের বিরুদ্ধে নানান কথা বলতে শুরু করেন তিনি। তাই স্বাধীন সাংবাদিকতা নিয়ে তার আজকের অবস্থান আদর্শিক নয়, বরং ব্যক্তিগত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট।

তিনি আরো বলেন, সত্য প্রকাশ নয় বরং বিভিন্ন সময় রটিত গুজব ও মিথ্যা সংবাদ প্রচারের দায়ে দেশে কিছু সাংবাদিককে মামলার সম্মুখিন হতে হয়েছে। আর এ কারণেই অনেকে স্বাধীন সাংবাদিকতা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলে থাকেন। কিন্তু মিথ্য বা অপপ্রচার কখনো স্বাধীন সাংবাদিকতা হতে পারে না।

উল্লেখ্য ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের তুলনায় বর্তমানে গণমাধ্যম অনেকটাই স্বাধীন। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে গণমাধ্যমকে এতোই নিয়ন্ত্রণ করা হতো যে, নিউজে কোন নেতার ফুটেজ কম চলানো হলেও ফোন আসতো। সেই তুলনায় এখন সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যম অনেক বেশি স্বাধীনতা ভোগ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

nineteen + twelve =