Templates by BIGtheme NET
৩ মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৮ রজব, ১৪৪২ হিজরি

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সুসম্পর্কে চিন্তিত ভারতীয় কূটনীতিক বিশ্লেষকরা

প্রকাশের সময়: জানুয়ারি ১৬, ২০২১, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশ। যার ফলে এই অঞ্চলে আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী দেশগুলো বাংলাদেশকে পাশে চায়। তারই ধারাবাহিকতায় ভারত ও চীন বিনিয়োগ ও চুক্তির মাধ্যমে তাদের স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত। এমতাবস্থায় পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়টি ভারতে জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ইস্যুতে বেশ চিন্তিত দেশটির কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি বাংলাদেশের ওপর থেকে ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের সাথে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান আহম্মেদ সিদ্দিকির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে পাকিস্তানকে ৭১ সালের গণহত্যার জন্য ক্ষমা চাওয়ার জন্য আহ্বান জানায় বাংলাদেশ।

ঢাকায় দায়িত্ব পালন করা ভারতের সাবেক কূটনীতিক পিনাক চক্রবর্তী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য সহায়তা করছে চীন। চীন এমনটি করতে চাইছে কারণ তারা চায় যে ভারতের প্রতিবেশীর দেশগুলোতে শক্ত ঘাঁটি গড়ে তুলতে। এটি তাদের স্ট্রিং পার্ল কৌশলের একটি অংশ।

২০১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪৩ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়েছে। এই দুই দেশের বাণিজ্যের বড় বিনিয়োগকারী আবার চীন। ২০১৯ সালের চীনের সঙ্গে বাংলাদেশে ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য হয়েছে এবং দেশটি আরও ৪০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ করেছে।

ভারতের পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ২০১০ সালে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর পাকিস্তানের সংসদে এর তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছিল। এর ফলে বাংলাদেশর সঙ্গে পাকিস্তানের যে সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল তা আবার স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের সাথে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান আহম্মেদ সিদ্দিকির বৈঠক। এছাড়াও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে ফোনে কথা বলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিকে ভারতও চাইছে বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক অব্যহত রাখতে। এটি নিশ্চিত করতে ২০২০ সালের আগস্টে ভারতের কূটনীতিক হর্ষ শ্রিংলা ভারতে সফর করেছিল। বিশ্লেষকরা বলছেন, শেখ হাসিনা স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিতে বিশ্বাস করে। আর এ জন্যই ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য বিতর্কতি নাগরিকত্ব আইন এবং তিস্তা চুক্তির সমাধান দ্রুত করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

11 + seven =