Templates by BIGtheme NET
৫ মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২০ ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২০ রজব, ১৪৪২ হিজরি

করোনার টিকায় মৃত্যুর বাস্তবতা ও আমাদের সাবধানতা

প্রকাশের সময়: জানুয়ারি ২৩, ২০২১, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ

করোনার টিকা নেয়ার পর কিছু মৃত্যুর ঘটনা মানুষকে শঙ্কিত করে তুলেছে। যদিও করোনার টিকা নেয়ার কারণেই মৃত্যু হয়েছে এটা শতভাগ প্রমাণিত নয়। তবুও এই টিকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে, সে বিষয়টিও উড়িয়ে দেয়া যাবে না।

এদিকে ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। তাই আমাদেরকে জানতে হবে, টিকা নেয়ার পর মৃত্যুগুলো কেন ঘটেছিলো এবং আমাদের কোন কোন বিষয়ে সাবধান হওয়ার জরুরি।

বয়স্ক ব্যাক্তি :

ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা নেওয়ার পর নরওয়েতে ২৩ জনের মৃত্যু হয়। চিকিৎসা সাময়িকী ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নাল জানিয়েছে, টিকা নেয়া ২৩ ব্যক্তি সবার বয়স ৮০ বছরের বেশি। অর্থাৎ টিকার সাধারণ প্রতিক্রিয়াগুলোই তাঁদের শরীরে বড় হয়ে দেখা দিয়েছিল। কিন্তু বয়সের কারণে তাঁরা তা সামাল দিতে পারেননি।

ফাইজার-বায়োএনটেক এবং মডার্নার দুটি টিকা ইউরোপে হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবকের ওপর পরীক্ষা করার পরই অনুমোদন দেওয়া হয়। এঁদের মধ্যে অনেকেরই বয়স ছিল ৮০-৯০-এর মতো, তবে অতি বৃদ্ধদের শরীরে কোনো অস্বাভাবিক বা মারাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

অর্থাৎ বয়স্ক ব্যক্তিদের সবাই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আক্রান্ত হবেন এমন কোন কথা নেই। এটি নির্ভর করছে ব্যক্তি শারিরীক অবস্থার ওপর। বাংলাদেশেও প্রাথমিক ভাবে বয়স্ক ব্যক্তিদের টিকা দেয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে।

পর্তুগালে নার্সের মৃত্যু :

একই টিকা নিয়ে পর্তুগালে একজন নার্সেরও মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর দুদিন আগে তিনি ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা নিয়েছিলেন। সাধারনত টিকা নেওয়ার আধাঘণ্টার মধ্যেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দেয়। কিন্তু তাঁর বেলায় ৪৮ ঘণ্টা পরেও কোন সমস্যা দেখা দেয়নি। এরপর সমস্যা দেখা দিলে তিনি হাসপাতালে যেতে রাজি হননি। সম্ভবত গেলে তাঁর এমন কিছু কাজ প্রকাশ হয়ে যাবে, যা ক্লিনিক্যাল স্টাডির সময় তিনি করতে পারবেন না বলে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলেন।

ভারতে দীপক মারায়ী নিয়েছিলেন অন্য টিকা :

ভারতের মধ্য প্রদেশে দীপক মারায়ী নামের একজন টিকা নিয়ে মারা গেছেন। তিনি ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা নেননি।

তিনি ভারত বায়োটেকের ‘কোভ্যাক্সিন’ নামের টিকাটি নিয়েছিলেন একজন নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে। যেটি এখনও পরীক্ষাধীন আছে। পোস্টমর্টেমের পর জানা গেছে বিষাক্ত কিছু খাওয়ার ফলে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাই এই মৃত্যুকে করোনার টিকায় মৃত্যু হয়েছে বলে বিবেচনা করা যাবে না।

আমাদের সতর্কতা :

ওপরের মৃত্যুগুলোর কারণ যাই থাক, টিকা উৎপাদনকারী গবেষকরা যেই সাবধানতা অবলম্বন করতে বলেছেন সেগুলো আমাদের শতভাগ অনুসরণ করতে হবে।

গবেষকরা বয়স্ক ব্যাক্তিদের টিকা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। কারণ যদি কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় সেটা হয়তো তারা সামাল দিতে পারবেন না। এছাড়া গর্ভবতী নারী ও ক্রনিক ডিজিজ রয়েছে এমন ব্যাক্তিদের বেলায়ও সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

এছাড়াও টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখার জন্য প্রতিটি ব্যাক্তিকে পর্যবেক্ষনে রাখতে বলা হয়েছে। যেন কোন প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তাৎক্ষনিক চিকিৎসা দেয়া যায়। বাংলাদেশে প্রতিটি টিকা কেন্দ্রেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষনের এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। যারা টিকা নিতে চান তারা যদি সঠিক তথ্য দেন তাহলে বড় কোন সমস্যা হওয়াও কথা নয়।

কোনো টিকাই শতভাগ নিরাপত্তা দিতে পারে না। কিছু মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে করোনায় মৃত্যুর মতোই তা মেনে নিতে হবে। কারণ মানুষ কখনো বসে বসে মৃত্যুর অপেক্ষা করে না। মানুষ বাঁচার উপায় খোঁজে। মৃত্যুর ভয়ে বেঁচে থাকার যুদ্ধে কখনো পৌঁছায় মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

fifteen + nineteen =