Templates by BIGtheme NET
২০ এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৭ বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৭ রমজান, ১৪৪২ হিজরি

জেলায় জেলায় দেওয়া হচ্ছে করোনার টিকা, নিচ্ছেন জনপ্রতিনিধিরা

প্রকাশের সময়: ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২১, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ

রাজধানীর পাশাপাশি দেশের জেলা ও উপজেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে একযোগে করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদেরই প্রথমে ভ্যাকসিন নিতে দেখা গেছে। এছাড়াও প্রশাসনিক ও বিভিন্ন স্তরের সরকারি কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরাও প্রথম দিনে করোনার টিকা নিয়েছেন।

জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য নিয়ে বিভিন্ন জেলার টিকাদান কর্মসূচির বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

যশোর

ভ্যাকসিন দেওয়ার পর সবার উদ্দেশে বিজয় চিহ্ন দেখাচ্ছেন কাজী নাবিল আহমেদভ্যাকসিন দেওয়ার পর সবার উদ্দেশে বিজয় চিহ্ন দেখাচ্ছেন কাজী নাবিল আহমেদএরপর একই স্থানে যশোরের জেলা প্রশাসক, ডাক্তার, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকরা ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন।

চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে প্রথম ভ্যাকসিন নিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। নিজে ভ্যাকসিন নিয়ে চট্টগ্রামে করোনাভ্যাকসিন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। রবিবার (৭ ফেব্রুয়ারি)  সকাল পৌনে ১১টায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চারতলায় ভ্যাকসিন বুথে তিনি টিকা নেন।

এরপর একে একে ভ্যাকসিন নেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবির, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির, সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি, বিদ্যুৎ বড়ুয়া এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন।

টিকা নিচ্ছেন নওফেলটিকা নিচ্ছেন নওফেলভ্যাকসিন নেওয়ার পর দৈনিক জনকণ্ঠ’র উপসম্পাদক ও চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান মোয়াজ্জেমুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি ১১টা ২০ মিনিটে ভ্যাকসিন নিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত শরীরে কোনও ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি। এর আগে আমি অনেক টিকা নিয়েছি। করোনা ভ্যাকসিন ওই সব টিকার মতোই মনে হচ্ছে। তাই এই ভ্যাকসিনকে নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’

রংপুর

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৮টি বুথে করোনার টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা প্রথমে টিকা নিয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

এরপর টিকা নেন রংপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাক্ষ অধ্যাপক ডা. নুরন্নবী লাইজু , অর্থপেডিকস বিভাগের অধ্যাপক ডা. শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক হামিদুর রহমান। এর পরেই চিকিৎসক, নার্স, আয়াসহ চিকিৎসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা টিকা নেবেন।

মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা টিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত গুজবে কান দিয়ে সবাইকে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নুরন্নবী লাইজু টিকা গ্রহণ করে বলেন, ‘টিকা দেওয়ার সময় কোনও ব্যথা অনুভূত হয়নি এবং দেওয়ার পরও কোনও সমস্যা হয়নি। আমি নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা অনেক দেশের আগে টিকা এনে দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন, এ জন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং সবাইকে করোনার টিকা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

জেলায় রবিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সাড়ে ৫শ’ চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীকে টিকা দেওয়া হবে।

নোয়াখালী

নোয়াখালীতে প্রথম ভ্যাকসিন নিয়েছেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন, ‘আপনারাও ভ্যাকসিন নিন, কোনও গুজবে কান দেবেন না। যতদিন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে থাকবে দেশ, নিরাপদে থাকবে বাংলাদেশ।’

টিকা নেন আবদুল কাদের মির্জাটিকা নেন আবদুল কাদের মির্জাএদিকে জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় প্রথম টিকা নিয়েছেন বসুরহাট পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ভাই আবদুল কাদের মির্জা।

খুলনা

সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রবিবার সকালে সর্বপ্রথম টিকা গ্রহণের মাধ্যমে খুলনায় করোনা ভ্যাকসিন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

খুলনা জেলায় করোনা ভাইরাস ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে মহানগরে ১৩টি কেন্দ্রের জন্য ২৯টি টিম এবং প্রত্যেক উপজেলায় তিনটি করে ২৭টি টিম কাজ করছে। প্রতিটি টিমে দুই জন করে টিকাদানকারী এবং চার জন করে ভলান্টিয়ার কাজ করছে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টিকা দেওয়া হবে।  প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে একশত ৫০ জন হিসাবে দিনে ছয় থেকে সাড়ে ছয় হাজার জনকে টিকা দেওয়া হবে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো. ইসমাইল হোসেন এনডিসি, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, খুলনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মো. আব্দুল আহাদ, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ, পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ, সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ, মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ, কেসিসি’র প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কেএম আব্দুল্লাহ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানাসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তারাসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

লক্ষ্মীপুর

লক্ষ্মীপুরে প্রথম করোনার টিকা নিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল গাফফার।

মানিকগঞ্জ

মানিকগঞ্জে করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রবিবার (৭ ফেব্রয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার পর মানিকগঞ্জের ৯টি কেন্দ্রে এ কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল পৌনে ১১টার দিকে নার্সিং কলেজ কেন্দ্রে জেলা প্রশাসক এস. এম ফেরদৌস, পুলিশি সুপার রিফাত রহমান শামীম, সিভিল সার্জন আনোয়ারারুল আমিন আখন্দ একযোগে এই তিন জন টিকা গ্রহণ করেন। পরে অন্যদের টিকা দেওয়া হয়।

করোনার টিকা নেওয়ার পর জেলা প্রশাসক এস. এম ফেরদৌস বলেন, যেসব বিজ্ঞানী এ ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছে তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। করোনা প্রতিরোধে সকলকে এ ভ্যাকসিন নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মানিকগঞ্জে একসঙ্গে টিকা গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক (মাঝে), পুলিশ সুপার (তার বামে) ও সিভিল সার্জনমানিকগঞ্জে একসঙ্গে টিকা গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক (মাঝে), পুলিশ সুপার (তার বামে) ও সিভিল সার্জনপুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম জানান, ভ্যাকসিন গ্রহণের পর আমার কোনও খারাপ লাগেনি। সুস্থ থাকতে হলে সবার এ ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত।

সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজে ৮টি, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ৮টি, পুলিশ হাসপাতালে ১ এবং উপজেলাগুলোতে ৩ টি করে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ২টি টিম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে রির্জাভ থাকবে। প্রতিটি টিমে ২ জন করে টিকাদান কর্মী ও ৪ জন করে স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন।

মানিকগঞ্জ সিভিল সার্জন আনোয়ারুল আমিন আখন্দ বলেন, জেলায় ৪৮ হাজার ডোজ করোনার ভ্যাকসিন পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত জেলায় ১ হাজার ৮২৭ জন অ্যাপসের মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিনের নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।

রাজশাহী

সারাদেশের মতো রাজশাহীতেও করোনাভাইরাসের টিকা প্রয়োগ শুরু হয়েছে। রাজশাহীতে প্রথম করোনার টিকা গ্রহণ করেছেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা।

রবিবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল কেন্দ্রে তিনি করোনার টিকা নেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘এই ভ্যাকসিন আমার কাছে নিরাপদ মনে হয়েছে। কোনও ধরনের ব্যথা অনুভব করিনি। ভ্যাকসিন নেওয়ার পর কোনোরকম অস্বাভাবিকও মনে হয়নি। তাই ভয় না পেয়ে সবার প্রতি আমি আহ্বান জানাবো ভ্যাকসিন গ্রহণ করুন। করোনাকে পরাজিত করে সুস্থ থাকুন।’

টিকা নিচ্ছেন এমপি ফজলে হোসেন বাদশাটিকা নিচ্ছেন এমপি ফজলে হোসেন বাদশাএমপি বাদশার টিকা নেওয়ার পর তার সহধর্মিনী অধ্যাপিকা তসলিমা খাতুন, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি আদিবা আনজুম মিতা, জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল, রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী, উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস এবং সিভিল সার্জন ডা. মো. কাইয়ুম তালুকদার করোনার টিকা গ্রহণ করেন। এরপর রামেক হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা টিকা নিতে শুরু করেন।

রাজশাহী শহরে মোট তিনটি কেন্দ্রে রবিবার টিকা প্রয়োগ শুরু হয়েছে। অন্য দুটি কেন্দ্র হলো—বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল। দুপুর ১২টায় পুলিশ হাসপাতালে টিকা প্রয়োগ কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।

সিভিল সার্জন ডা. মো. কাইয়ুম তালুকদার জানান, রাজশাহীতে উপজেলা পর্যায়ে ১০টি কেন্দ্রে টিকা প্রয়োগ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ৯ উপজেলার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। এর বাইরে গোদাগাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়াও গোদাগাড়ী ৩১ শয্যা বিশেষায়িত হাসপাতালে টিকা দেওয়া হচ্ছে।

গোপালগঞ্জ

ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামকে ভ্যাকসিন দেওয়ার মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জে করোনা টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরপর শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. জাকির হোসেন, গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. অসিত কুমার মল্লিক এবং সিভিল সার্জন অফিসের মেডিক্যাল অফিসার এস এম সাকিবুর রহমান ভ্যাকসিন নেন। পরে অন্যদের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। সিনিয়র স্টাফ নার্স রমা রানী ভক্ত বিশিষ্টজনদের ভ্যাকসিন পুশ করেন।

এর আগে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে সারাদেশের মতো গোপালগঞ্জও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংযুক্ত ছিল। এ সময় গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী এমদাদুল হক, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আয়শা সিদ্দিকা, শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যার কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. জাকির হোসেন, সিভিল সার্জন সুজাত আহমেদ, গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. অসিত কুমার মল্লিক, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ লুৎফার রহমান বাচ্চু, গোপালগঞ্জ পৌরসভার মেয়র কাজী লিয়াকত আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ভ্যাকসিন নেওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এটি অত্যন্ত সহজ। এই ভ্যাকসিন দেওয়ার পর আমি আলাদা কিছু অনুভব করিনি। এটিতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এটি অন্য সব টিকার মতোই। তাই নিঃসংকোচে সবাইকে ভ্যাকসিন নিতে আহ্বান করছি।’

টিকা নিচ্ছেন গোপালগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম টিকা নিচ্ছেন গোপালগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামভ্যাকসিন নেওয়ার পর শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে মানুষের মধ্যে যে ভয়ভীতি ও কুসংস্কার ছিল, আমরা ভ্যাকসিন নেওয়াতে তা দূর হবে।এই টিকা নিয়ে আমরা করোনার সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করলাম। এই ব্যধিকে প্রতিহত করতে পারবো বলে আশা করি।’

সিভিল সার্জন সুজাত আহমেদ বলেন, ‘যারা অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করেননি তারাও টিকাদান কেন্দ্রে এলে তাদের টিকা দেওয়া হবে।’

গোপালগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় করোনা ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য এ পর্যন্ত ২ হাজার ৪৪৭ জন রেজিস্ট্রেশন করেছেন। রবিবার ৪৮০ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালসহ জেলায় মোট ৫ কেন্দ্র স্থাপন করে টিকা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পুলিশদের জন্য ৫ উপজেলায় আলাদা ৫টি বুথ স্থাপন করে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে।

কুষ্টিয়া 

করোনার টিকা গ্রহণের পর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি বলেছেন, ‘বিরোধীরা কেবল বিরোধিতার স্বার্থে ভ্যাকসিন নিয়ে নানা অপপ্রচার ও মিথ্যাচার করে চলেছেন। কিন্তু সর্বশেষ এটাই চরম সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে ভ্যাকসিন এসেছে এবং পরিশেষে দেশবাসীর মধ্যে এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।’

রবিবার (৭ ফেব্রুয়ার) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে জেলার ভ্যাকসিন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র নার্স রাবেয়া আক্তার তাকে টিকা দেন।

টিকা নেন মাহবুব-উল আলম হানিফটিকা নেন মাহবুব-উল আলম হানিফমাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘যখন থেকে দেশে টিকা নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়, তখন থেকেই দেশের কিছু বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজ এবং কিছু রাজনৈতিক দলের নেতারা  অত্যন্ত নেতিবাচক কথাবার্তা বলেছেন। তাদের কাছ থেকে এমনও কথা শুনতে হয়েছে যে, এইবার করোনায় দেশের রাস্তায় রাস্তায় লাশ পড়ে থাকবে। এই দুর্যোগ মোকাবিলা করার সক্ষমতা সরকারের নেই। কিন্তু তাদের এই ধারণা, ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষাকে মিথ্যা প্রমাণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষতার সঙ্গে এই সংকট মোকাবিলা করেছেন।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ভ্যাকসিন দেশে আসার পরও এরা মিথ্যাচার করে মানুষের মধ্যে ভয়ভীতি ঢুকিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে চলেছেন। তারা বলেছেন, যে ভ্যাকসিন দেশে এসেছে তা স্বাস্থ্যসম্মত নয়, এটা আগে প্রধানমন্ত্রীকে নিতে হবে, প্রমাণ করতে হবে এই ভ্যাকসিনে কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া নেই ইত্যাদি। এই প্রচারণা চালিয়ে তারা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।’

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মোছা. নুরুন নাহার বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত টিকাদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জ, কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন, পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত, কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডাক্তার আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ। এ সময় কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীবৃন্দ ছাড়াও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সিলেট

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বুথে প্রথমে টিকা নেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান এনডিসি। সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে আরও যারা টিকা নিয়েছেন তারা হলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম, সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক শিশির চক্রবর্তী, সিলেট জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব, সিলেটের সিভিল সার্জন প্রেমানন্দ মন্ডল, সিলেট ওসমানী মেডিক্যালের কার্ডিওলোজি বিভাগের প্রধান ডা. শাহবুদ্দিন, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও সিলেট বিএমএ-এর সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আজিজুর রহমান রোমান, হাসপাতালের সেবিকা রাখি রানী সাহা,  সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আল আজাদ, সিটি কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপন, ইলিয়াছুর রহমান ইলিয়াছ  প্রমুখ।

জানা গেছে, সিসিক এলাকায় টিকা পেতে শনিবার পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন করেছেন ২ হাজার ৭শ’ জন। নির্দেশনা অনুযায়ী, এদের মধ্যে ৭শ’ জনকে আজ  ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য এসএমএস পাঠানো হয়। যারা রেজিস্ট্রেশন করেছেন-তারা আইডি কার্ড নিয়ে যে সেন্টারে যাবেন-ওই সেন্টারেই তাদেরকে টিকা দেওয়া হবে।

কুমিল্লায়  টিকা নিচ্ছেন জেলা প্রশাসককুমিল্লায় টিকা নিচ্ছেন জেলা প্রশাসক

কুমিল্লা

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক সস্ত্রীক প্রথম টিকা গ্রহণ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে কুমিল্লায় ভ্যাকসিন প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এর পরে টিকা নেন কুমিল্লার জেলা পুলিশ সুপার।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফ্রন্টলাইনারদের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্নকারীদের মধ্যে রবিবার সকালে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীরকে টিকা দিয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এর পরপরই  জেলা প্রশাসকের স্ত্রী মনিরা নাজনীন, পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আবদুস ছালাম ও কুমিল্লা ইস্টার্ন মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. কলিম উল্লাহসহ প্রশাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক, নার্সসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা টিকা গ্রহণ করেন।

টিকা গ্রহণের পর কুমিল্লা জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর বলেন, কুমিল্লা জেলায় প্রথম করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক টিকা আমি নিলাম। দ্বিতীয় টিকাটি জেলা পুলিশ সুপার নিয়েছেন। আমার অনুভূতি হচ্ছে টিকা গ্রহণে ভয় বা আতঙ্কের কিছু নেই। টিকা গ্রহণের সময় মনে হয়েছে সাধারণ ইনজেকশন। টিকা গ্রহণের পর ১০-১৫ মিনিট এক জায়গায় বসে ছিলাম। কোন ধরনের ব্যথা অনুভব হয়নি। সেই সাথে আমার স্ত্রীও আজকে টিকা নিয়েছেন। আমরা চাই কুমিল্লাবাসী সকলই ক্রমান্বয়ে মহামারি করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক ভ্যাকসিন (টিকা) গ্রহণ করবেন।

টিকা গ্রহণ করে কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক টিকা গ্রহণ ছিল খুবই স্বাভাবিক বিষয়। অতিরিক্ত কোনও ব্যথা অনুভব হয়নি টিকা গ্রহণের সময়।

তিনি বলেন, আমরা পুরো করোনাকালীন সময়ে মাঠে থেকে যুদ্ধ করেছি। মানুষকে মাস্ক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করেছি। টিকা হচ্ছে করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক। কিন্তু তারপরও আমাদেরকে মাস্ক ব্যবহার অব্যাহত রাখতে হবে। তাহলে আমরা করোনার বিরুদ্ধে জয়ী হতে পারবো।

নাটোর

সারা দেশের সঙ্গে নাটোরের সকল উপজেলায় একযোগে করোনার টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন হয়েছে। রবিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় এই কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়। চলে দুপুর পর্যন্ত।

সিভিল সার্জন ডাক্তার মিজানুর রহমান জানান, সকাল সাড়ে ১০ টায় নাটোর জেলা সদর হাসপাতালে এই টিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক শাহরিয়াজ। এসময় তিনি ছাড়াও পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা,পৌর মেয়র উমা চৌধুরী জলি,সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজান ও নলডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ উপস্থিত ছিলেন। ওই হাসপাতালে প্রথম টিকা নিয়েছেন সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স মোহাম্মদ আলী। এরপর টিকা গ্রহণ করেন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যকর্মী আনন্দ গোপাল,সদর উপজেলা ইউএনও জাহাঙ্গীর আলম ও সাংবাদিক নবীউর রহমান পিপলু।

সিংড়া উপজেলায় টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি ঢাকাতেই টিকা গ্রহণ করায় নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে অন্যদের অভয় দেন। তার উপস্থিতিতে টিকা নেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আমিনুল ইসলাম।

লালপুর উপজেলায় টিকা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুল। সেখানে প্রথম টিকা গ্রহণ করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফার্মাসিস্ট কার্তিক চন্দ্র।

গুরুদাসপুর উপজেলায় টিকা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুস। সেখানে প্রথম টিকা নেন ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডাক্তার মেসবাউল ইসলাম সেতু।

বাগাতিপাড়া উপজেলায় টিকা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম গোকুল। সেখানে প্রথম টিকা নেন আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডাক্তার ফরিদুজ্জামান।

অপরদিকে বড়াইগ্রাম উপজেলায় টিকা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন এমপি আব্দুল কুদ্দুস। সেখানে প্রথম টিকা নেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স এনরিটা রোজারিও। এরপরই টিকা নেন উপজেলা চেয়ারম্যান ডাক্তার সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী।

চাঁদপুর

চাঁদপুরে প্রথম দিন করোনা টিকা নিলেন ডিসি, সিভিল সার্জন, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়রসহ  ১৪৮ জন । রবিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় চাঁদপুর সদর হাসপাতালে করোনা টিকাদান কেন্দ্রে টিকাদান শুরু হয়। এর আগে সকাল ১০টায় চাঁদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

এইদিন প্রথমে টিকা গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ। এরপর টিকা গ্রহণ করেন ২৫০ শয্যার চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের নার্স ফেরদৌসী জাহান লাভলী, ২৫০ শয্যার চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের করোনা ফোকাল পারসন ও আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সুজাউদ্দৌলা রুবেল,  সিভিল সার্জন মো. সাখাওয়াত উল্লাহ, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) সোহেল মাহমুদ, পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী মাসুম, মুক্তিযোদ্ধা মুনির আহমেদ ও চাঁদপুরের বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. সহিদ উল্লাহ।

চাঁদপুরের সিভিল সার্জন মো. সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, চাঁদপুর জেলার ৮ উপজেলায় প্রথমদিন ১৪৮ জনকে করোনা ভাইরাসের টিকা দেওয়া হয়েছে।  প্রথম ধাপে জেলায় ৩৬ হাজার জনকে টিকা দেওয়া হবে। এক মাস পর তাদের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, ‘নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে আমি এই টিকা নিয়েছি । আশা করি, আমাদের দেখাদেখি আমার চাঁদপুরের সবাই এই টিকা নিতে আগ্রহী হবে।’

খাগড়াছড়ি
সারাদেশের মতোপার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতেও আনুষ্ঠানিক ভাবে করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়েছে। দুপুরে খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের ৫ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে সামরিক সদস্যদের করোনার টিকা প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। এ সময় খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আলী রেজা, সিভিল সার্জন ডা. নুপুর কান্তি দাশ উপস্থিত ছিলেন।
সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ এখনও করোনার ভ্যাকসিন পায়নি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতায় ভ্যাকসিন আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে আমরা তা পেয়েছি। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল নাগরিক ভ্যাকসিনের আওতায় আসবে বলেও জানান তিনি।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য মতে, খাগড়াছড়ি জেলায় সম্মুখ সারির ৪ হাজার ৬শ ২১ জন করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে আবেদন করেছেন।

কুড়িগ্রামে ভ্যাকসিন নিচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই সরকার কুড়িগ্রামে ভ্যাকসিন নিচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই সরকার

কুড়িগ্রাম

মহামারি কোভিড-১৯ (করোনা ভাইরাস) মোকাবিলায় সারাদেশের মতো কুড়িগ্রামেও ভ্যাকসিন প্রয়োগ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের নব নির্মিত ভবনে স্থাপিত টিকা দান বুথে সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান প্রথম ভ্যাকসিন গ্রহণ করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এরপরই ভ্যাকসিন নেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন, বীর প্রতীক আব্দুল হাই সরকার এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম।

ভ্যাকসিন গ্রহণ করে সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমি প্রথম ভ্যাকসিন নিয়েছি জনগণকে অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য। নিজেকে সুরক্ষা রাখতে এবং এই কর্মসূচি সফল করাই আমাদের উদ্দেশ্য।’

বীর প্রতীক আব্দুল হাই সরকার ভ্যাকসিন নিয়ে বের হয়ে তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমি অত্যন্ত খুশি যে সরকার আমাদেরকে এই সুযোগ দিয়েছে। ভ্যাকসিন নেওয়ার পর কোনও সমস্যা বোধ করছি না। আশা করি আমাদের দেখে সাধারণ মানুষও ভ্যাকসিন নিয়ে নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবেন।’

রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন জানিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম স্বপ্রণোদিত হয়ে ভ্যাকসিন গ্রহণ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরপর তিনি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন। ভ্যাকসিন নেওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় জেলা প্রশাসক বলেন,‘আমরা যাতে টিকা নিয়ে নিজে সুরক্ষিত থাকি এবং অপরকেও সুরক্ষিত রাখি, এই উৎসাহ বোধ তৈরি করার জন্য এই টিকা কর্মসূচির উদ্বোধন। আমি জেলা প্রশাসক হিসেবে প্রথম দিনেই ভ্যাকসিন গ্রহণ করলাম যাতে সবার মাঝে বিষয়টির প্রভাব পড়ে এবং গাইড লাইন অনুযায়ী সকলে রেজিস্ট্রেশন করেন।’

পরে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( প্রশাসন) রূহুল আমীনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মী ও সাধারণ মানুষ ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

17 − four =