Templates by BIGtheme NET
১৩ মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩০ বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৩০ রমজান, ১৪৪২ হিজরি

ধরা খেয়েছেন নুরু!

প্রকাশের সময়: এপ্রিল ১৭, ২০২১, ৯:৪১ অপরাহ্ণ

বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে অনেকেই জেনে গেছেন যে, ভাইরাসের জীবাণু প্রতিনিয়ত তার চরিত্র পরিবর্তন করে। সময়ের সাথে সাথে দেশ ও অঞ্চল ভেদে এটার পরিবর্তন হয়। ভাইরাসের চরিত্র বদল করা নতুন নয়। করোনা ভাইরাসেরও বিভিন্ন প্রজাতি আছে। কিন্তু নতুন করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, তা আগের তুলনায় অনেক বেশি ছোঁয়াচে এবং ভয়ঙ্কর দ্রুত ছড়াচ্ছে।

মানুষের ক্ষেত্রেও কিন্তু এমন দেখা যায়। সাধারণভাবে ধারণা করা হয়ে থাকে যে, জ্বিন ও পরিবেশ দু‘টোই আমাদের স্বভাব-চরিত্রের ওপর প্রভাব রাখে। এ নিয়ে মার্কিন বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণার ফলাফল বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত হয় কয়েক বছর আগে। এতে বলা হয় মানুষের স্বভাব ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের পেছনে তৃতীয় আরেকটি ব্যাপার কাজ করে। জ্বাংক ডিএনএ বলে পরিচিত যেসব ডিএনএ কোনও কাজে লাগে না বলে ধারনা করা হতো, সেই ডিএনএ মানুষের জ্বিনের অনুক্রম বা হিউম্যান জ্বেনোমের মধ্যে প্রবেশ করে সেখানে পরিবর্তন ঘটাতে পারে, যার প্রভাব মানুষের স্বভাব ও চরিত্রের ওপর পড়তে পারে বলে গবেষকরা ধারনা করেছেন।

মনে হচ্ছে, বিভিন্ন মিডিয়া আর ব্যক্তির প্রভাবে ডাকসুর সাবেক ভিপি’র ডিএনএ জ্বিনের অনুক্রম বা হিউম্যান জ্বেনোমের মধ্যে প্রবেশ করে সেখানে পরিবর্তন এনেছে, যার প্রভাব তার স্বভাব ও চরিত্রের ওপর পড়েছে। ‘জিরো থেকে পা পিছলে হিরো’ হওয়া ডাকসুর ভিপি নুরুর চারিত্রিক পরিবর্তন হয়েছে লক্ষ্য করার মত। একদা আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩য় শ্রেণির ছাত্রনেতা থেকে নুরুল হক নুর ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ এর অন্যতম যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে আলোচনায় আসেন। তিনি ২০১৯ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হন।

তার ভিপি’র মেয়াদ এখন শেষ। তাঁর শখ হয়েছে রাজনীতি করার। তাই ‘বাংলাদেশ গণ অধিকার পরিষদ’ একটি রাজনৈতিক দলও গঠন করেন তিনি। রাজনীতিতে তেমন সাড়া না পেয়ে তিনি তাঁর কিছু সাঙ্গোপাঙ্গদের দিয়ে অবৈধ উপায়ে সরকার উৎখাতের হালের হেফাজতি তাণ্ডবের সাথে যোগ দেন। তাতেও সুবিধা করতে না পেরে এবার হঠাৎ তিনি ইসলামী চিন্তাবিদ হয়ে গেছেন। ভাইরাসের মত তার চরিত্রের নতুন লক্ষণ হচ্ছে, তিনি নিজেকে বড় আলেম ভাবতে শুরু করেছেন। তাই নানা ফতোয়া দেওয়া শুরু করেছেন। তিনি তাঁর অতীত ভুলে বলা শুরু করেছেন যে, “কোন প্রকৃত মুসলমান আওয়ামী লীগ করতে পারে না”। কি চমৎকার কথা।

বিএনপি-জামায়াত ও তাঁদের অঙ্গ আর সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীর সাথে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কিছু ইসলামী দলের নেতারা হেফাজতকে প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসা রুখতে বাংলাদেশে গত কয়েকদিনে সারাদেশে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, তা ছিল সরকারকে অবৈধ উপায়ে ক্ষমতাচ্যুত করার এক অশুভ চেষ্টা। এই চেষ্টায় ভিপি নুরুর ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ এর সদস্যরা যোগ দেন বলে গোয়েন্দারা তাণ্ডবের ভিডিও ফুটেজ ও অস্থির চিত্র দেখে নিশ্চিত হন। ফলাফল শুরু হয় ব্যাপক ধরপাকড়।

এখানে উল্লেখ্য যে, মানবতা বিরোধী অপরাধে জামায়াতের নেতাদের ফাঁসি হবার পরে আর শিবিরের উপর সরকারের চাপ সৃষ্টি হলে শিবিরের সদস্যরা ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ এ যোগ দেয়। তাই ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ এর অধিকাংশই হচ্ছে জামায়ের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির আর ইসলামী ছাত্রী সংগঠনের সদস্য। তাঁরা তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুধু নয় সশরীরে সরকার উৎখাতের আন্দোলনে যোগ দিয়ে বিফল হয় এবারেও। এখন তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় নান অপপ্রচার চালাচ্ছে। হেফাজতের বড় নেতারা আল্লাহর নামে নানা অভিশাপ দিচ্ছে, কারণ তাঁদের একটা বিরাট অংশ তাণ্ডবের কারণে কর্মীসহ গ্রেফতার হয়েছে, হচ্ছে।

এটা সবার জানা যে, ৫ মে ২০১৩ ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির সময় হেফাজতে ইসলামীর কর্মীরা জামায়াত-বিএনপির সহায়তায় অবৈধ উপায়ে সরকার উৎখাতের অংশ হিসেবে বায়তুল মোকাররম মসজিদে আগুন দেয়, শত শত কোরআন শরিফ ও জায়নামাজ পুড়িয়ে ফেলে। বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এমন অপপ্রচারও চালানো হয়েছে, ৫ মে রাতে ঢাকায় হেফাজতের কর্মসূচিতে দেশের সব ইমাম-মুয়াজ্জিনদের হত্যা করা হয়েছে, পরে যার সত্যতা মেলেনি। বলা হয়, কোনও মসজিদে নাকি আর আজান হবে না! গত নির্বাচনের আগেও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এই অপপ্রচার চালানো হয়েছিল, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মসজিদে আজানের ধ্বনি শোনা যাবে না, উলুধ্বনি শোনা যাবে! কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশবাসী দেখেছে মসজিদে আজানই হয়েছে, অন্যকিছু হয়নি। বরং বিএনপি ও জামায়াত পবিত্র রমজান মাসেও হরতাল দিয়ে জনজীবন বিঘ্নিত করেছে। তাঁরা আওয়ামী লীগকে ইসলাম বিরোধী তকমা দিলেও বাংলাদেশের উন্নয়নের ইতিহাস অন্য কথা বলে।

এক নজরে দেখতে গেলে, বঙ্গবন্ধুর আমল বাদ দিলেও বর্তমান মহাজোট সরকারের শাসনামলে ইসলামের প্রতি দুর্বলতা এবং মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছে তা হলো:

কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা সনদ স্বীকৃতি, কামিলকে মাস্টার্স এর সমমর্যাদা প্রদান, মাদ্রাসায় আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, ১০৩৫ টি মাদ্রাসায় ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন, মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে ৭৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ভবন নির্মাণাধীন, মাদ্রাসার সিলেবাসে বিজ্ঞান, গণিত, ইংরেজি ও বাংলার সংযুক্তিকরণ, স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের সাথে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদায় সমতা বিধান, ৩১টি সিনিয়র মাদ্রাসায় ৪টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু, মাদ্রাসা শিক্ষকদের জন্য বি এড কোর্স চালু, গরীব ও মেধাবী মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি চালু, যুগোপযোগী নতুন কারিকুলাম প্রণয়ন, এবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, অর্ধ লক্ষাধিক শিক্ষককে সৃজনশীল প্রশ্ন-পদ্ধতির প্রশিক্ষণ প্রদান ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন পাশ ও ইউজিসি’র অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

এছাড়া ২০২০ সালের শুরু পর্যন্ত বর্তমান সরকার মাদ্রাসা শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তনের লক্ষ্যে ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষা, জ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষাকে সম্পৃক্ত করেছে এবং এসব পদক্ষেপ পুরো মাদরাসা শিক্ষাকে পুনর্গঠন করেছে। মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত শিক্ষার্থীদেরকে নীতি, আদর্শ ও মানবতা-বোধে উদ্বুদ্ধ মহৎপ্রাণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই বর্তমান সরকারের এ সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

ডিজিটাল বাংলাদেশে মিথ্যাচারের আর কোন ‘ভিসা’ নেই। একটু চেষ্টা করলেই কোন বিষয়ে কে কী করছেন বা করেছেন, তা নিমেষেই জানা যায়। তাই সোশ্যাল মিডিয়া সহ নানা মিডিয়ায় অপপ্রচার চালিয়ে, মিথ্যা বলে কোন লাভ হবে না, বরং তাঁদের অসৎ উদ্দেশ্য সবাই জেনে যাচ্ছে। চাপাবাজ, ঢঙ্গী, ভয়ংকর মিথ্যাচারী নুরুরা পুরাই ধরা।

সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

twelve − 7 =